একই ভূণীয় কোষ থেকে উৎপন্ন হয়ে এক বা একাধিক ধরনের কিছু সংখ্যক কোষ জীবদেহের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে সমষ্টিগতভাবে একটা কাজে নিয়োজিত থাকলে ঐ কোষগুলোকে সমষ্টিগতভাবে টিস্যু বলে। আবার এক বা একাধিক টিস্যুর সমন্বয়ে গঠিত এবং নির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনে সক্ষম প্রাণিদেহের অংশবিশেষকে অঙ্গ বলে। অর্থাৎ আমরা বলতে পারি, টিস্যুর গঠনে অঙ্গ ভূমিকা না রাখলেও একটি অঙ্গে একই বা একাধিক ধরনের টিস্যু থাকার কারণে অঙ্গটি তার নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে। আর এভাবেই টিস্যু ও অঙ্গ পরস্পরের মধ্যে সম্পর্কযুক্ত।
আগের শ্রেণিতে তোমরা জীবকোষ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলে। সেই সব ধারণার উপর ভিত্তি করে তোমরা এই অধ্যায়ে জীবকোষ সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানতে পারবে। সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা একটি জীবকোষ আর ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা ঐ একই জীবকোষের গঠন কি এক রকম? এই অধ্যায়ে তোমরা এই ধরনের প্রশ্নগুলোর উত্তরগুলোও খুঁজে পাবে।
- উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের প্রধান অঙ্গাপুর কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের তুলনা করতে পারব।
- স্নায়ু, পেশি, রন্ত, ত্বক এবং অস্থির কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে বিভিন্ন প্রকার কোষের ভূমিকা বর্ণনা করতে পারব।
- জীবদেহে কোষের উপযোগিতা মূল্যায়ন করতে পারব।
- উদ্ভিদ টিস্যু ব্যাখ্যা করতে পারব। প্রাণি টিস্যু ব্যাখ্যা করতে পারব।
- একই রকম কোষ সমষ্টির ও একই কাজ সম্পন্ন করার ভিত্তিতে টিস্যুর কাজ মূল্যায়ন করতে পারব।
- টিস্যু, অঙ্গ এবং অন্ত্রে কোষের সংগঠন ব্যাখ্যা করতে পারব।
- টিস্যুতন্ত্রের কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্রের ধারণা এবং গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে উদ্ভিদকোষ (পেঁয়াজ) ও প্রাণিকোষ (প্রোটোজোয়া) পর্যবেক্ষণ করে চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে পারব।
- উদ্ভিদ ও প্রাণিটিস্যুর চিত্র অঙ্কন করে চিহ্নিত করতে পারব।
- সঠিকভাবে অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করতে পারব। জীবের নানা কার্যক্রমে কোষের অবদান অনুধাবন করতে পারব।
Related Question
View Allকোষের প্রোটোপ্লাজমের বাইরে দ্বিস্তর বিশিষ্ট যে পাতলা পর্দা থাকে তাই প্লাজমালেমা।
তিন ধরনের প্লাস্টিডের মধ্যে ক্লোরোপ্লাস্টের কারণে উদ্ভিদের পাতা সবুজ হয়। ক্রোমোপ্লাস্টে থাকে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি বর্ণকণিকা। এ সকল বর্ণকণিকার কোনটির কারণে পাতা, ফুল, ফল হলুদ, কমলা বা লাল হয়ে থাকে। যেহেতু প্লাস্টিডের কারণেই উদ্ভিদের এ ধরনের বর্ণ বিচিত্রতা দেখা যায়, তাই প্লাস্টিডকে বর্ণগঠনকারী অঙ্গ বলা হয়।
চিত্রের N চিহ্নিত অংশটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। জীবজগতের জন্য এ কোষ অঙ্গাণুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ক্লোরোপ্লাস্টে থাকে ক্লোরোফিল। ক্লোরোফিলের উপস্থিতির কারণে সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে। এ সময় খাদ্য তৈরির সাথে সাথে অক্সিজেন নির্গত হয়। এ তৈরিকৃত খাদ্যের ওপর সমগ্র জীবজগৎ নির্ভর করে। কারণ একমাত্র সবুজ উদ্ভিদই খাদ্য তৈরিতে সক্ষম। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় অক্সিজেন তৈরি করে যা প্রকৃতপক্ষে ক্লোরোফিল তথা ক্লোরোপ্লাস্টেরই অবদান। সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। ফলে পরিবেশে গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষা পায়।
সুতরাং, উপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, জীবজগতের সকল জীবকে পরোক্ষভাবে বাঁচিয়ে রেখেছে চিত্রের N চিহ্নিত অঙ্গাণুটি অর্থাৎ ক্লোরোপ্লাস্ট। আর এ কারণেই জীবজগতের জন্য N চিহ্নিত অঙ্গাণুটি গুরুত্বপূর্ণ।
চিত্রের M চিহ্নিত অংশটি হলো সেন্ট্রিওল। এ কোষ অঙ্গাণুটি সাধারণত প্রাণিকোষে দেখা যায়, তবে নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে যেমন- ছত্রাক কোষে অনেক সময় দেখা যায়। জীবকোষে এ অঙ্গাণুটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
অঙ্গাণুটির অনুপস্থিতিতে জীবের কোষ বিভাজন বিঘ্নিত হবে। ফলে জীবদেহের গঠন ও বিকাশ সঠিকভাবে ঘটবে না। এতে জীবের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠনে অস্বাভাবিকতা দেখা দিবে। অঙ্গাণুটির অনুপস্থিতিতে ক্রোমোজোমের গঠনও ঠিকভাবে হবে না। ক্রোমোজোম বংশগতির বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক। সুতরাং ক্রোমোজোমের গঠন ঠিকভাবে না হলে জীবের সঠিক বৈশিষ্ট্য এক বংশধর থেকে আরেক বংশধরে স্থানান্তরিত হবে না। ফলে নতুন প্রজন্মে বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা দেখা দিবে। নতুন বৈশিষ্ট্য অনেক সময় জীবদেহে জটিল রোগ সৃষ্টি করে থাকে। এ অঙ্গাণুটির উপস্থিতি জীবের প্রজননে বিশেষ সাহায্য করে। কেননা সেন্ট্রিওল শুক্রাণুর লেজ গঠনে বিশেষ অবদান রাখে। তাই এর অনুপস্থিতিতে শুক্রাণুর লেজ গঠিত না হলে যৌন জননের সময় শুক্রাণু সাঁতার কেটে ডিম্বাণুর নিকট পৌছাতে পারবে না, এতে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটবে না। ফলে জাইগোট তৈরি হবে না। এতে জীব তার সন্তান জন্ম দিতে পারবে না।
সুতরাং, চিত্রে M চিহ্নিত অংশটি অর্থাৎ সেন্ট্রিওলের অনুপস্থিতিতে জীবদেহে উল্লিখিত সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।
ভূণীয় মেসোর্ডাম থেকে তৈরি সংকোচন-প্রসারণশীল বিশেষ ধরনের টিস্যুই পেশি টিস্যু।
দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠনকারী টিস্যুকে বলা হয় স্কেলিটাল টিস্যু। স্কেলিটাল টিস্যু বিভিন্ন ধরনের অস্থি তৈরির মাধ্যমে দেহের কাঠামো গঠন ও দেহের বিভিন্ন 'গুরুত্বপূর্ণ অংশকে রক্ষা করে থাকে। যেমন- মস্তিষ্ককে রক্ষা করে করোটিকা। স্কেলিটাল টিস্যু করোটিকার অস্থি গঠন ও মস্তিষ্কের চারিদিকে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত থেকে মস্তিষ্ককে রক্ষা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!