মুজিব শতবর্ষ
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত এই এক বছরকে ‘মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই সময়কাল বাড়ানো হয়। ২০১৮ সালের ৬ জুলাই আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কমিটির এক যৌথ সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে
বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ঘোষণা দেন। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে সরকারি ও দলীয়ভাবে নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। ২০২১ সালের স্বাধীনতার পাশ বছর পূর্তি উদযাপনের মাধ্যমে মুজিববর্ষের সমাপ্তি ঘটবে। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারি, বেসরকারি ও বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান যথাযথ মর্যাদার সাথে এ বর্ষটি পালন করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিল্প-সংস্কৃতির নানা প্রতিযোগিতা যেমনঃ রচনা, কবিতা, গান, চিত্রাঙ্কন, অভিনয়, আবৃত্তি ইত্যাদি চলবে বছরব্যাপী। প্রকাশ করা হবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নথি প্রকাশনা । দেশ- বিদেশের গুণীজনেরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমাদের জাতীর পিতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার জেল-জুলুম সহ্য করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হয়েছেন তিনি। ১৯৪৭-এ দেশভাগের পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা। পরবর্তীকালে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছয় দফা ঘোষণা করেন। এতে প্রাদেশিক সায়ত্বশাসনের দাবি থাকায় বঙ্গবন্ধু আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অন্যতম বিরোধী পক্ষে পরিণত হন। ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তার বিচার শুরু হয়। এতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করলেও সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। বাঙালির অধিকার আদায়ের দৃপ্ত বাসনায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তিনি যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, তা ছিল স্বাধীনতার দৃপ্ত অঙ্গীকার। স্বাধীনতাকামী বাঙালির উজ্জীবিত অবস্থান দেখে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে গণহত্যা চালায়। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। সামরিক আদালতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেও কার্যকর করার সাহস পায়নি। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল বিপথগামী। সেনাকর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন। এই মহান নেতার একশততম জন্ম দিবস ১৭ মার্চ ২০২০। এ দিন থেকেই মুজিববর্ষ শুরু এবং ২০২২ সালের ৩১ মার্চ মুজিববর্ষের সমাপ্তি।
Related Question
View All'অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘আমার দেখা নয়াচীন’। উল্লেখ্য, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রথম আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ যা ২০১২ সালের জুন মাসে প্রকাশিত হয়। ‘আমার দেখা নয়াচীন' জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর তৃতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ যা ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়। ‘আমার দেখা নয়াচীন' বইটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ড. ফকরুল আলম ।
৩০ অক্টোবর ২০১৭ সালে ‘মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল' রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অক্টোবর ২৪-২৭ তারিখ ২০১৭ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সংস্থাটির আন্তর্জাতিক পরামর্শক কমিটি (IAC) বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাঠানো ১৩০টি ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নথি ও বক্তৃতাকে যাচাই-বাছাই করে ৭৮টি বিষয়কে সংস্থার Memory of the World Register এ অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করে। এরপর ৩০ অক্টোবর ২০১৭ সালে UNESCO'র মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ঐ ৭৮টি বিষয়কে Memory of the World Register এ অন্তর্ভূক্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ অন্যতম। এটাই UNESCO'র এ যাবৎ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ৪২৭টি প্রামাণ্য ঐতিহ্যের মধ্যে প্রথম অলিখিত ভাষণ ।
'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' এবং আমার দেখা না'। উল্লেখ্য, 'অनাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রথম আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ যা ২০১২ সালের জুন মাসে প্রকাশিত হয়। আমার দেখা নয়াচীন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর তৃতীয় গ্রন্থ যা ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মানে প্রকাশিত হয়। "আমার দেখা নয়াচীন' বইটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ড. ফকরুল আলম।
বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার হতে ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে মুক্তি লাভ করেন এবং ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে আসেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ২টি বই 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' এবং "কারাগারের রোজনামচা'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
