টেলিভিশনে টক'শো অনুষ্ঠান দেখছিল রুমন ও তার বাবা। অনুষ্ঠানে এক আলোচক বলল, হযরত শাহজালাল (র) কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে সিলেটে আসেন। তিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞান সাধনার মাধ্যমে অল্প দিনে উক্ত জনপদের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার মাধ্যমেই বাংলায় ইসলাম ধর্ম বিকশিত হয়েছিল। মানুষ আত্মার প্রশান্তি লাভের উপায় শিখেছিল। আলোচকের একথা শুনে রুমনের বাবা রুমনকে বলল, আলোচক উল্লেখিত বিষয় সম্পর্কে আংশিক বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এ বিষয়টির উৎপত্তি হয়েছিল ইসলামের আবির্ভাবের সময়ে যা আজ পর্যন্তও ইসলাম ধর্মকে বিকশিত করে যাচ্ছে। 

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

মহানবি (স) এর যেসব সাহাবি তাঁর আধ্যাত্মিকতায় গুরুত্বারোপ করে ধ্যানস্থ হতে থাকেন তারাই আহলুস সাফফাহ নামে পরিচিত।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
উত্তরঃ

শরিয়তের পূর্ণতা লাভের জন্য ইমান, ইসলাম ও ইহসানের সমন্বয় করা প্রয়োজন। ইমান, ইসলাম ও ইহসানকে একত্রে তাসাউফ বলা হয়। ইসলামের পূর্ণতা এবং মানবজীবনের সাধনার উত্তম দৃষ্টান্ত হলো তাসাউফ। আত্মা ও দেহের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ করা তাসাউফের প্রধান উদ্দেশ্য। তাই শরিয়তের পূর্ণ জ্ঞানার্জনের জন্য ইমান, ইসলাম ও ইহসান তথা তাসাউফের সমন্বয় প্রয়োজন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আলোচক ইসলামি শরিয়তের অভ্যন্তরীণ ইবাদত তথা তাসাউফ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাসাউফ মূলত আত্মশুদ্ধি অর্জনের পথ বা সোপান। সব নবি-রাসুল দিনের বেলায় ইসলাম প্রচার করতেন এবং গভীর রাতে আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন হতেন। নবি-রাসুলগণের সাহাবিগণও ধ্যানমগ্ন অবস্থায় আল্লাহর ইবাদত করতেন। আর এভাবেই ইসলামের প্রথম যুগ হতেই আধ্যাত্মিকতা অর্জনের প্রচেষ্টা শুরু হয় যার সুফল বর্তমানেও বিদ্যমান। উদ্দীপকেও এ বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে।

শাহজালাল (র) কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে সিলেটে এসে আধ্যাত্মিক জ্ঞান সাধনার মাধ্যমে জনগণের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার মাধ্যমে বাংলায় ইসলাম ধর্মের বিকাশ হয় এবং মানুষ আত্মার প্রশান্তি লাভের উপায় শেখে। এখানে তাসাউফের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। কেননা ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই বিভিন্ন নবি-রাসুল গভীর রাতে আল্লাহর ইবাদত এবং ধ্যানের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির প্রচেষ্টা শুরু করেন। আর আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে মানুষ প্রশান্তি লাভ করে। আর তাসাউফ, মূলত আত্মশুদ্ধি অর্জনের পথ বা সোপান। কুরআনের বহুসংখ্যক আয়াতে আমাদেরকে আত্মশুদ্ধি অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে এটিই সফলতার একমাত্র পথ। উদ্দীপকেও এ বিষয়টির প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
উত্তরঃ

উক্ত ইবাদত অর্থাৎ তাসাউফ সম্পর্কে রুমনের বাবার মন্তব্যটি যথার্থ। তাসাউফ হলো- ইসলামের সর্বজনীনতা, সর্বকালোপযোগিতা ও সমন্বিত পূর্ণতার এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত। পার্থিব এবং পরকালীন শান্তি ও মুক্তি পেতে হলে শরিয়তের অনুশীলনের পাশাপাশি তাসাউফ সাধনার বিকল্প পথ নেই। তাসাউফের মর্যাদা অর্জন করে নৈতিক ও আদর্শিকভাবে নিজেদেরকে আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত করা যায়। সর্বযুগে তাসাউফের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ছিল, আছে এবং থাকবে। রুমনের বাবার বক্তব্যে এই বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে।

উদ্দীপকে রুমনের বাবার মতে, টেলিভিশনের টক'শো অনুষ্ঠানের আলোচক উল্লিখিত বিষয় অর্থাৎ তাসাউফ সম্পর্কে আংশিক বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এ বিষয়টির উৎপত্তি হয়েছিল ইসলামের আবির্ভাবের সময়ে যা আজও পর্যন্ত ইসলাম ধর্মকে বিকশিত করে যাচ্ছে। তাসাউফ সম্পর্কে রুমনের বাবার বক্তব্য সঠিক; কেননা আলোচক শুধু তৎকালীন সময়ের তাসাউফের গুরুত্বের কথা বলেছেন। কিন্তু তাসাউফের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বর্তমানেও বিদ্যমান। তাছাড়া তাসাউফের মাধ্যমে শুধু আত্মার প্রশান্তিই অর্জিত হয় না বরং এর মাধ্যমে মানুষ কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা, পরশ্রীকাতরতা প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করে আত্মাকে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত করে তুলতে পারে।

পরিশেষে বলা যায় যে, তাসাউফ সম্পর্কে রুমনের বাবার মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক ও যথার্থ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
187

Related Question

View All
উত্তরঃ

অর্থের সাথে সম্পর্ক থাকায় হজ সর্বজনীন ইবাদত নয়। হজ একটি দৈহিক, আত্মিক ও আর্থিক ইবাদত। নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষেই কেবল হজ কোনো ব্যক্তির ওপর ফরজ হয়। এক্ষেত্রে দৈহিক ও আর্থিক সামর্থ্য প্রধান দুটি শর্ত। কিন্তু এই পৃথিবীতে সবার একই সাথে দৈহিক ও আর্থিক সামর্থ্য না থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই যাদের ক্ষেত্রে এ দুটি শর্ত পূরণ হয় কেবল তাদের জন্যই হজ ফরজ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
551
উত্তরঃ

জাউদ্দীপকে সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্বের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। সালাত একটি আনুষ্ঠানিক ও দৈহিক ইবাদত। তবে সালাতের মূল আবেদন আত্মিক ইবাদত হিসেবে। সালাত মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে মানসিক প্রশান্তি সৃষ্টি করে। এটি সালাতের আধ্যাত্মিক গুরত্বেরই প্রতিফলন। উদ্দীপকেও রবিউল আলম সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্বের ফলভোগী হয়েছেন।

রবিউল আলম কিছুদিন পূর্বেও ধর্ম-কর্মে মনোযোগী ছিলেন না। তার আত্মা ছিল কলুষিত। কিন্তু সালাত আদায় করার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে সালাতের মাধ্যমে মানবাত্মা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে। কাঙ্ক্ষিত প্রিয় সত্তার সান্নিধ্য লাভ করায় আত্মার উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা দূর হয়ে যায়। তার মধ্যে প্রশান্তি বিরাজ করে। ফলে আত্মার সার্বিক অবস্থানে স্থিরতা ও তৃপ্তি নেমে আসে। উদ্দীপকের রবিউল আলমের ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছে। সালাত আদায়ের মাধ্যমে তার কলুষিত আত্মা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করেছে। সুতরাং দেখা যায়, রবিউল আলমের আত্মিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সালাতের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যই প্রতিফলিত হয়েছে। 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
310
উত্তরঃ

রবিউল আলম আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য সালাত আদায়ের পাশাপাশি আল্লাহর জিকর, তাবলিগ, সৎ গুণাবলির অনুসরণ, তওবা ও মাগফিরাত কামনা করতে পারেন।

মানুষের চালিকাশক্তি ও জীবনীশক্তি হলো আত্মা। আত্মা সুস্থ থাকলে মানুষও সুস্থ থাকে। আর আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও সুস্থ রাখার জন্য তাসাউফের অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। উদ্দীপকের রবিউল আলমও তাসাউফের চর্চা সাধানার মাধ্যমে পরিপূর্ণ আত্মিক প্রশান্তি লাভ করতে পারেন।

রবিউল আলম নিয়মিত সালাত আদায় করেন। আত্মাকে সুস্থ রাখতে তিনি সালাত আদায়ের সাথে সাথে বেশি করে আল্লাহর জিকর করতে পারেন। আবার নিজে সৎ পথে চলার পাশাপাশি তিনি অন্যকেও সৎ কাজের জন্য উৎসাহিত করতে পারেন। এর ফলে তার আত্মা সুস্থ ও পবিত্র থাকবে। তাছাড়া তিনি রাসুলুল্লাহ (স) ও তার সাহাবি (রা) গণের জীবনের সৎগুণাবলির অনুসরণের মাধ্যমেও আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারেন। তবে তিনি যেহেতু পূর্বে অনেক অন্যায় করেছেন, সেহেতু সব সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। তওবার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অন্যায় না করার দৃঢ় প্রত্যয় জ্ঞাপন করলে তার আত্মা আরও প্রশান্তি লাভ করবে।

এভাবে ওপরের কাজগুলোর মাধ্যমে তিনি আত্মিকভাবে লাভবান হতে পারেন। পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত বিষয়গুলো তাসাউফ চর্চারই নামান্তর। তাই তাসাউফ চর্চা ও সাধনার মাধ্যমেই আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে আত্মিক প্রশান্তি লাভ করা সম্ভব।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
295
উত্তরঃ

হযরত উমর (রা) এর মৃত্যুর পর তার কন্যা হযরত হাফসা (রা)-এর কাছে আল কুরআন সংরক্ষিত ছিল।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
517
উত্তরঃ

পরকালীন জীবনের মতো পার্থিব জীবনের ওপরও আল কুরআন গুরুত্বারোপ করেছে। মহানবি (স) বলেছেন, 'দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র'। অর্থাৎ পার্থিব জীবনের কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই পরকালীন সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারিত হবে। তাই কুরআন মানুষকে পার্থিব সাফল্য ও কল্যাণ লাভের নির্দেশ প্রদান করেছে। সুরা বাকারার ২০১নং আয়াতে বলা হয়েছে- হে আমাদের প্রভু। আমাদেরকে পৃথিবীতে কল্যাণ দিন। আখিরাতে কল্যাণ দিন।'

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
341
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews