ট্রেনে ভ্রমণ

Updated: 4 days ago
উত্তরঃ

সূচনা : খুব ছোটোবেলায় আমি একাধিকবার ট্রেন ভ্রমণ করেছি, কিন্তু সেসব আমার ভালো মনে নেই। যে ট্রেন ভ্রমণটি আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল তা হলো চট্টগ্রাম থেকে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে যাত্রা।

ভ্রমণ কী : অজানাকে জানার জন্য মানুষের রয়েছে দুর্নিবার আকর্ষণ। নতুন নতুন জিনিস স্বচক্ষে দেখে সে সম্পর্কে জ্ঞানলাভের জন্য মানুষ পাড়ি জমায় দেশ-বিদেশের নানা স্থানে। অজানাকে জানার উদ্দেশ্যে এই স্থানান্তরের নামই ভ্রমণ। ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ বিশ্বকে সবচেয়ে ভালোভাবে অনুভব করার সুযোগ পায়।

ভ্রমণের পথসমূহ : স্থল, জল, আকাশ সমস্তই এখন মানুষের করায়ত্ত। এই সবগুলো পথেই রয়েছে ভ্রমণের অবারিত সুযোগ। স্থলপথে বাস, ট্রেন, রিকশা ইত্যাদির মাধ্যমে ভ্রমণ করা যায়। নদীপথে লঞ্চ, নৌকা আর আকাশপথে বিমান, হেলিকপ্টার মানুষের ভ্রমণের বাহন। তবে দীর্ঘ দূরত্বে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ট্রেন ভ্রমণের জুড়ি নেই।

ট্রেন ভ্রমণের শুরু : তখন আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি। বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে। হাতে লম্বা ছুটি, শীতও তখন মাত্র শুরু হচ্ছে। এমনি সময়ে আমার ছোটো খালা আমাদের মৌলভীবাজারে আমন্ত্রণ জানালেন। যাত্রার তারিখ ঠিক করে বাবা টিকিট কেটে আনলেন। যাত্রার, দিন অটোরিকশায় চড়ে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌছলাম। প্ল্যাটফর্মে কুলিরা ছুটে এলো। কিন্তু আমরা যার যার ব্যাগ নিজেরাই কাঁধে তুলে নিলাম। প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের মানুষের ভিড়। কেউ আমাদের মতোই যাত্রী। কেউ বা এসেছে আত্মীয়স্বজনকে বিদায় বা অভ্যর্থনা জানাতে। আরও আছে কুলি, ফেরিওয়ালা ও ভিক্ষুক।

রেলস্টেশনের' অভিজ্ঞতা : প্রায় দশটার সময় ট্রেন প্ল্যাটফর্মে এলো। আমরা দ্রুত ট্রেনে উঠলাম। আমাদের সিট পড়েছে সামনাসামনি। আমি ও আমার ভাই জানালার পাশের সিট দুটো দখল করলাম। বাবা জানালেন, ট্রেন ছাড়তে দেরি হবে। শুনে আমার ছোটো ভাই খুব রেগে গেল। বাবাকে বলল, 'যাও, ওদের বকে দিয়ে এসো। তাড়াতাড়ি ট্রেন ছাড়তে বলো। খালারা আমাদের জন্য কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন।' ওর কথা শুনে আমরা তো হেসেই খুন।

ট্রেনে বসে দেখা দৃশ্য : যা হোক, ট্রেন ছাড়ল প্রায় আধা ঘণ্টা পর। ট্রেন চলতে শুরু করল। প্রথমে ধীরে ধীরে, তারপর বেশ দ্রুত। প্রথম দিকে দেখা গেল শহরের সেই পরিচিত দৃশ্য- দালানকোঠা, দোকানপাট, বাস-ট্রাক, রিকশা-সাইকেল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই দৃশ্য, পালটে গেল। বিস্তীর্ণ ধানখেত, সবুজ মাঠ ও মাঠে চরে বেড়ানো গোরু-ছাগলের দল চোখের সামনে ছবির মতো ভেসে উঠল। ট্রেন ছোটার সঙ্গে মনে হলো রেললাইনের পাশে গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি, ঘরবাড়ি, লোকজন, রাস্তা, পুল- সব যেন উলটো দিকে ছুটে যাচ্ছে। জানালা দিয়ে দূরে ছোটো ছোটো বাড়িগুলোকে মনে হতে লাগল যেন একেকটা দ্বীপ। সে এক অপূর্ব দৃশ্য। হঠাৎ চোখে পড়ল রেললাইনের সমান্তরাল মহাসড়ক। তাতে ছুটে চলেছে বাস, ট্রাক। একটা বাস আমাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে গেল। কিন্তু যানজটে আটকে তাকে পিছিয়ে পড়তে হলো। প্রায় এক ঘণ্টা পর আমরা একটা বড়ো পুল পার হলাম। বাবা জানালেন, আমরা ফেনী নদী পার হচ্ছি। কয়েকটা নৌকা চোখে পড়ল। এরপরই দৃশ্য পালটে গেল। আবার সেই গ্রাম আর মাঠের দৃশ্য।

ট্রেনের ভিতরের অবস্থা : এদিকে ট্রেনের কামরায় এক অন্ধ বাউল গান শুরু করল। খুব সুন্দর তার গলা। কয়েকটা গান গাওয়ার পর সে সবার কাছে হাত পাতল। আমরা তাকে দশটা টাকা দিলাম। একটু পরপরই বিভিন্ন ফেরিওয়ালা আসতে থাকল। একটা স্টেশনে ট্রেন থামলে কমলাওয়ালা উঠল। বাবা তার কাছ থেকে তিন ডজন কমলা কিনে নিলেন। দুপুরের দিকে মা টিফিন ক্যারিয়ার খুললেন। খুব মজা করে হাতে হাতে আমরা পরোটা আর মাংস ভুনা খেলাম। হঠাৎ বাইরে তাকাতে চোখে পড়ল সারি সারি তালগাছ। আর সে গাছে ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা।

বিভিন্ন স্টেশন : ট্রেনের জানালার পাশে বসায় দেখতে পেলাম অনেকগুলো নাম না জানা স্টেশন। একে একে ট্রেন পেরিয়ে গেল মীরসরাই, সীতাকুন্ড, ফেনী, আখাউড়া ইত্যাদি জায়গা। স্টেশনগুলোতে ট্রেন থামতেই শুরু হয়ে যায় যাত্রীদের হুড়োহুড়ি আর কুলিদের হাঁকডাক।

উল্লেখযোগ্য স্থান: ট্রেন ভ্রমণের শুরুতেই আমার নজর কেড়ে নেয় চট্টগ্রাম রেলস্টেশন। এত বড়ো স্টেশনে এই প্রথমবার এলাম আমি। সীতাকুণ্ডের ভিতর দিয়ে যাওয়ার পথে চোখে পড়ল বেশকিছু পাহাড়ের সারি। সিলেট থেকে শ্রীমঙ্গল যাওয়ার অনেকটা পথ ঘন সবুজ জঙ্গল আর ছোটো ছোটো টিলায় ঘেরা। বেশকিছু নয়নাভিরাম চা বাগানের দৃশ্যও চোখে পড়ে। ট্রেনে ভ্রমণের সময় চমৎকার এই স্থানগুলো আমাকে মুগ্ধ করে রাখে।

শেষ স্টেশন : দেখতে দেখতে ফুরিয়ে এলো আমাদের ট্রেন ভ্রমণ। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আমরা পৌঁছে গেলাম শেষ স্টেশন শ্রীমঙ্গলে। ব্যাগপত্র সব গুছিয়ে নেমে এলাম ট্রেন থেকে। প্ল্যাটফর্মে খালু আর খালাতো ভাই-বোনেরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাদের সঙ্গে চললাম মৌলভীবাজারের উদ্দেশে।

উপসংহার : জীবনে অনেকবার আমি ট্রেনে চড়েছি। গেছি এক শহর থেকে আরেক শহরে। কিন্তু শ্রীমঙ্গলে যাওয়ার স্মৃতি আজও ভুলিনি।

Md Zahid Hasan
4 days ago
5
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews