কানাইয়ের বাবার বকুনি মাঝিকে খেতে হবে না।
কানাইয়ের মা ঘুমিয়ে আছেন, দিদি গেছে স্কুলে, এই ফাঁকে কানাই তাকে ও তার বোন ছোকানুকে নৌকায় তুলে নিতে মাঝিকে বলে।
কল্পনাবিলাসী কিশোর কানাই তার বোনকে নিয়ে নদীতে বেড়াতে চায়। তাই নদীর ঘাটে যায় নৌকায় চড়তে। নৌকার মাঝিকে অনেক অনুনয়-বিনয় করে তাদেরকে নৌকায় তুলে নিতে। এমনকি অভয় দিয়ে বলে, তোমার কোনো ভয় নেই, মা ঘুমিয়ে আছেন আর দিদি গেছে স্কুলে। এই ফাঁকে আমাকে আর আমার ছোট বোন ছোকানুকে তোমার নৌকায় তুলে নাও।
'নদীর স্বপ্ন' কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের পার্থক্য রয়েছে কল্পনা ও বাস্তবতার।
শৈশব ও কৈশোরে মানুষের অনেক কিছুই অজানা থাকে। এ সময় পৃথিবীর সবকিছুকেই সুন্দর মনে হয়। পৃথিবীর সব সুন্দর দেখার একটা ইচ্ছা মনের গভীরে দেখা দেয়। সেই ইচ্ছাগুলো কখনো স্বপ্ন হয়ে, আবার কখনো বাস্তবরূপে জীবনে ধরা দেয়।
উদ্দীপকে সজীবের ট্রেন দেখার খুব শখ। সেই শখ তার একদিন পূরণ হয়। ছুটিতে মামার বাড়ি যাওয়ার সময় সে ট্রেনে করে যায়। 'নদীর স্বপ্ন' কবিতাতে কানাই স্বপ্ন দেখে নদীতে ঘুরে বেড়ানোর। নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানোর সময় প্রকৃতির সুন্দর দৃশ্যগুলোও সে কল্পনা করে। উদ্দীপকের সজীবের ইচ্ছা বাস্তবে রূপ লাভ করে আর আলোচ্য কবিতার কানাইয়ের স্বপ্ন কল্পনায় রূপলাভ করে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় স্বপ্ন ও বাস্তবতার মাঝেই পার্থক্য রয়েছে।
""নদীর স্বপ্ন' কবিতা ও উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে শৈশবের সোনালি স্বপ্ন।"- মন্তব্যটি যথাযথ।
স্বপ্ন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। জীবনকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য স্বপ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের শৈশবের স্বপ্নই সবচেয়ে সুন্দর।
উদ্দীপকে সজীব স্কুলে পড়ার সময় থেকে ট্রেনে ওঠার স্বপ্ন দেখে। গ্রীষ্মের ছুটিতে তার জীবনে সেই সুযোগ এসে যায়। জীবনে প্রথমবারের মতো সে ট্রেনে ওঠার সুযোগ পায় মামার বাড়ি যাওয়ার ফলে। 'নদীর স্বপ্ন' কবিতায়ও কানাই আর ছোকানুর শৈশবকে তুলে ধরা হয়েছে। সে মাঝির কাছে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে। নদী, নদীর ঘাট, ঘাটে বাঁধা জেলে নৌকা, মাছ ধরা, নৌকায় রান্না করা সবকিছুর সৌন্দর্য তার চিন্তা-চেতনায় রয়েছে।
মানুষ তার শৈশবের স্মৃতিকে কখনো ভুলতে পারে না। উদ্দীপকের সজীব এবং 'নদীর স্বপ্ন' কবিতার কানাই দুজনের শৈশবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে উভয় স্থানেই। এভাবে শৈশবের সোনালি স্বপ্ন উদ্দীপক ও কবিতার মূল বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। তাই বলা যায় যে, মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All[বি. দ্র.: প্রশ্নোক্ত উত্তর অংশটি আলোচ্য কবিতায় নেই।।
নৌকা-ভ্রমণের বিনিময়ে কানাই মাঝিকে আনি বা পয়সা দিতে চেয়েছিল নৌকায় তাদের নিয়ে বেড়ানোর পারিশ্রমিক হিসেবে।
'নদীর স্বপ্ন' কবিতার কানাই আর তার ছোট বোন ছোকানু নদী ভ্রমণে বের হতে চায়। মাঝিকে তার নৌকায় তাদেরকে তুলে কানাই অনুরোধ করে। মাঝিকে এর বিনিময়ে অর্থ দিতে চায় কানাই। কারণ মাঝি তার উপার্জিত টাকা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করে। তাই কানাই মাঝিকে নৌকা ভ্রমণের বিনিময়ে আনি বা পয়সা দিতে চেয়েছিল।
উদ্দীপকের সাথে 'নদীর স্বপ্ন' কবিতার যে অমিল লক্ষ করা যায়, তা হলো নদীর সৌন্দর্য ও নৌকা ভ্রমণের বিষয়টির অনুপস্থিত।
এদেশের বুকে বয়ে চলছে অসংখ্য নদ-নদী। এ নদীগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে বিভিন্ন জনপদ। এসব জনপদের মানুষেরা নদীর ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে।
উদ্দীপকের নিশু, লিজা, শ্যামা, মিথিয়া, পিয়া বড়দের দৃষ্টি এড়িয়ে সাগরদিঘির পাড়ে মিলিত হয় পিকনিক করার জন্য। বাড়ি থেকে নিয়ে আসা চাল, ডাল, ডিম, মসলা সবকিছু দিয়ে রান্না শেষে সবাই একসঙ্গে বসে খায়। সবাই মিলে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠে। অন্যদিকে 'নদীর স্বপ্ন' কবিতাতেও কানাই ও ছোকানু মা-বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে নৌকা ভ্রমণে বের হয়। দুজন মিলে ঘুরে দেখতে চায় পদ্মা, মেঘনা, শোণ নদী। নৌকায় উঠে তারা মুগ্ধ হয়। রান্না করে খায়। গান শোনে, গল্প শোনে মাঝির কাছে। উদ্দীপকের ছেলেমেয়েদের মতো কানাই ও ছেকানুও আনন্দে মেতে ওঠে। তবে উদ্দীপকে নদীর সৌন্দর্য ও নৌকা ভ্রমণের বিষয়টি অনুপস্থিতি। আর এ দিক থেকেই উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার অমিল লক্ষ করা যায়।
বিষয়বস্তু ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও কবিতাটি কিশোর মনের আবেগ প্রকাশের দিক থেকে অভিন্ন মন্তব্যটি যথার্থ।
কিশোর-কিশোরীদের মনের আবেগ-অনুভূতি কল্পনাপ্রবণ। তারা নানা রকম ইচ্ছা করে, স্বপ্ন দেখে। তাদের মাথায় যখন যে বৃদ্ধি চাপে তখন তাই করতে চায়।
উদ্দীপকের নিশু, লিজা, শ্যামা, মিথিয়া, পিয়া সাগরদিঘি পাড়ে গেছে পিকনিক করার জন্য। সেখানে গিয়ে নুরুর দেখাদেখি সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে দিঘির জলে। দাপাদাপি যেন শেষ হতে চায় না। শেষে পিয়ার চেঁচামেচিতে সবাই এসে কলাপাতায় খেতে বসল। এখানে কিশোর-কিশোরীর দুরন্ত মনের আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। 'নদীর স্বপ্ন' কবিতার কানাই ও ছোকানুও আবেগের এমন বশবর্তী হয়ে বাবা-মার চোখ ফাঁকি দিয়ে মাঝির সাথে নৌভ্রমণে বের হতে চায়। সেখানে গিয়ে তারা বেশ মজা করার স্বপ্ন দেখে।
উদ্দীপকের কিশোর কিশোরীরা পিকনিকে গিয়ে সকলের সঙ্গে হাসি আনন্দে মেতে ওঠে। 'নদীর স্বপ্ন' কবিতার কিশোর কানাই ও ছোকানু তাদের মনের আবেগকে ধরে রাখতে না পেরে নৌকা ভ্রমণে বের হয়ে সেই আবেগকে বাস্তবে রূপদান করতে চেয়েছে। সুতরাং আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
গান গাওয়া শেষ হলে কানাই মাঝিকে গল্প বলতে বলেছিল।
বোনের প্রতি স্নেহ ও দায়িত্ববোধ এবং মাঝিকে অভয় দেওয়ার উদ্দেশ্যে কানাই বাবার বকুনি একাই মাথা পেতে নিতে চেয়েছিল।
'নদীর স্বপ্ন' কবিতায় কিশোর কানাই মাঝিকে অনুরোধ করে তাকে এবং বোন ছোকানুকে নদী ভ্রমণে নিয়ে যেতে। মাঝিকে সে পয়সা দিতে চায়। এতেও সে রাজি না হলে সে বলে মা ঘুমিয়ে রয়েছে, দিদি স্কুলে গেছে, আর এই ফাঁকে তাদের নৌকায় তুলে নিতে বলে এবং এই বলে মাঝিকে সে অভয় দেয় যে তার বাবা যদি এ নিয়ে বকে তবে সেই বকুনি সে একাই মাথা পেতে নেবে। ছোকানুকে কিংবা মাঝিকে এর ভাগ নিতে হবে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!