“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।" উক্তিটির তাৎপর্য লেখ। (অনুধাবন)

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো” – উক্তিটি প্রিয়জন হারানোর গভীর বেদনা, অপ্রাপ্তি এবং জীবন থেকে প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলার এক করুণ উপমাকে ধারণ করে। বাসি ফুলকে জল দিয়ে সতেজ রাখার বৃথা চেষ্টা যেমন তার আসল রূপ ও প্রাণবন্ততা ফিরিয়ে আনতে পারে না, তেমনি প্রিয়জনের মৃত্যু বা অনুপস্থিতি দ্বারা সৃষ্ট শূন্যতা কোনো কিছুর দ্বারা পূরণ করা যায় না।

এই উক্তিটি মূলত শোকাহত মানুষের অন্তরের হাহাকার, প্রিয় স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার নিষ্ফল প্রয়াস এবং জীবনের অনিবার্য নিষ্ঠুরতাকে ফুটিয়ে তোলে। এটি ইঙ্গিত করে যে, যা একবার শেষ হয়ে গেছে বা জীবনহীন হয়ে পড়েছে, তাকে বাহ্যিকভাবে ধরে রাখার প্রচেষ্টা কেবলই মানসিক যন্ত্রণা ও হতাশাকে বাড়িয়ে তোলে, কিন্তু প্রকৃত সজীবতা ফিরিয়ে আনতে অক্ষম।

Satt AI
Satt AI
6 days ago
246

পাকা দুই ক্রোশ পথ হাঁটিয়া স্কুলে বিদ্যা অর্জন করিতে যাই। আমি একা নই-দশ-বারোজন। যাহাদেরই বাটী পল্লিগ্রামে, তাহাদেরই ছেলেদের শতকরা আশিজনকে এমনি করিয়া বিদ্যালাভ করিতে হয়। ইহাতে লাভের অঙ্কে শেষ পর্যন্ত একেবারে শূন্য না পড়িলেও, যাহা পড়ে, তাহাতে হিসাব করিবার পক্ষে এই কয়টা কথা চিন্তা করিয়া দেখিলেই যথেষ্ট হইবে যে, যে ছেলেদের সকাল আটটার মধ্যে বাহির হইয়া যাতায়াতে চার ক্রোশ পথ ভাঙিতে হয়—চার ক্রোশ মানে আট মাইল নয়, ঢের বেশি—বর্ষার দিনে মাথার ওপর মেঘের জল পায়ের নিচে এক হাঁটু কাদা এবং গ্রীষ্মের দিনে জলের বদলে কড়া সূর্য এবং কাদার বদলে ধুলার সাগর সাঁতার দিয়া স্কুল-ঘর করিতে হয়, সেই দুর্ভাগা বালকদের মা-সরস্বতী খুশি হইয়া বর দিবেন কি, তাহাদের যন্ত্রণা দেখিয়া কোথায় যে তিনি লুকাইবেন, ভাবিয়া পান না ।
তারপরে এই কৃতবিদ্য শিশুর দল বড় হইয়া একদিন গ্রামেই বসুন, আর ক্ষুধার জ্বালায় অন্যত্রই যান—তাঁদের চার ক্রোশ হাঁটা বিদ্যার তেজ আত্মপ্রকাশ করিবেই করিবে। কেহ কেহ বলেন শুনিয়াছি, আচ্ছা, যাঁদের ক্ষুধার জ্বালা, তাঁদের কথা না হয় নাই ধরিলাম কিন্তু যাঁদের সে জ্বালা নাই, তেমন সব ভদ্রলোকই বা কী সুখে গ্রাম ছাড়িয়া পলায়ন করেন? তাঁরা বাস করিতে থাকিলে তো পল্লির এত দুর্দশা হয় না ।
ম্যালেরিয়া কথাটা না হয় নাই পাড়িলাম। সে থাক, কিন্তু ওই চার ক্রোশ হাঁটার জ্বালায় কত ভদ্রলোকেই যে ছেলে-পুলে লইয়া গ্রাম ছাড়িয়া শহরে পালান তাহার আর সংখ্যা নাই। তারপরে একদিন ছেলে-পুলের পড়াও শেষ হয় বটে, তখন কিন্তু শহরের সুখ-সুবিধা রুচি লইয়া আর তাদের গ্রামে ফিরিয়া আসা চলে না। কিন্তু থাক এ-সকল বাজে কথা। স্কুলে যাই-দুক্রোশের মধ্যে এমন আরও তো দুই তিনখানা গ্রাম পার হইতে হয়। কার বাগানে আম পাকিতে শুরু করিয়াছে, কোন বনে বঁইচি ফল অপর্যাপ্ত ফলিয়াছে, কার গাছে কাঁঠাল এই পাকিল বলিয়া, কার মর্তমান রম্ভার কাঁদি কাটিয়া লইবার অপেক্ষা মাত্র, কার কানাচে ঝোপের মধ্যে আনারসের গায়ে রং ধরিয়াছে, কার পুকুরপাড়ের খেজুরমেতি কাটিয়া খাইলে ধরা পড়িবার সম্ভাবনা অল্প, এই সব খবর লইতেই সময় যায়, কিন্তু আসলে যা বিদ্যা-কামস্কাটকার রাজধানীর নাম কী এবং সাইবেরিয়ার খনির মধ্যে রূপা মেলে, না সোনা মেলে- এ সকল দরকারি তথ্য অবগত হইবার ফুরসতই মেলে না ।
কাজেই এক্জামিনের সময় এডেন কী জিজ্ঞাসা করিলে বলি পারশিয়ার বন্দর, আর হুমায়ুনের বাপের নাম জানিতে চাহিলে লিখিয়া দিয়া আসি তোগলক খাঁ এবং আজ চল্লিশের কোঠা পার হইয়াও দেখি, ও-সকল বিষয়ের ধারণা প্রায় একরকমই আছে-তারপরে প্রমোশনের দিন মুখ ভার করিয়া বাড়ি ফিরিয়া আসিয়া কখনো বা দল বাঁধিয়া মতলব করি, মাস্টারকে ঠ্যাঙানো উচিত, কখনো বা ঠিক করি, অমন বিশ্রী স্কুল ছাড়িয়া দেওয়াই কর্তব্য।
আমাদের গ্রামের একটি ছেলের সঙ্গে মাঝে মাঝেই স্কুলের পথে দেখা হইত। তাহার নাম ছিল মৃত্যুঞ্জয়। আমাদের চেয়ে সে বয়সে অনেক বড়। থার্ড ক্লাসে পড়িত। কবে সে যে প্রথম থার্ড ক্লাসে উঠিয়াছিল, এ খবর আমরা কেহই জানিতাম না- সম্ভবত তাহা প্রত্নতাত্ত্বিকের গবেষণার বিষয়-আমরা কিন্তু তাহার ওই থার্ড ক্লাসটাই চিরদিন দেখিয়া আসিয়াছি ।
তাহার ফোর্থ ক্লাসে পড়ার ইতিহাসও কখনো শুনি নাই, সেকেন্ড ক্লাসে উঠিবার খবরও কখনো পাই নাই । মৃত্যুঞ্জয়ের বাপ-মা, , ভাই-বোন কেহই ছিল না, ছিল শুধু গ্রামের এক প্রান্তে একটা প্রকাণ্ড আম-কাঁঠালের বাগান, আর তার মধ্যে একটা প্রকাণ্ড পোড়োবাড়ি, আর ছিল এক জ্ঞাতি খুড়া। খুড়ার কাজ ছিল ভাইপোর নানাবিধ দুর্নাম রটনা করা-সে গাঁজা খায়, সে গুলি খায়, এমনি আরও কত কি! তাঁর আর একটা কাজ ছিল বলিয়া বেড়ানো, ওই বাগানের অর্ধেকটা তাঁর নিজের অংশ, নালিশ করিয়া দখল করার অপেক্ষা মাত্র। অবশ্য দখল একদিন তিনি পাইয়াছিলেন বটে, কিন্তু সে জেলা-আদালতে নালিশ করিয়া নয়—ওপরের আদালতের হুকুমে। কিন্তু সে কথা পরে হইবে।
মৃত্যুঞ্জয় নিজে রাঁধিয়া খাইত এবং আমের দিনে ওই আম-বাগানটা জমা দিয়াই তাহার সারা বৎসরের খাওয়া-পরা চলিত এবং ভালো করিয়াই চলিত। যেদিন দেখা হইয়াছে, সেইদিনই দেখিয়াছি ছেঁড়া-খোঁড়া মলিন বইগুলি বগলে করিয়া পথের এক ধার দিয়া নীরবে চলিয়াছে। তাহাকে কখনো কারও সহিত যাচিয়া আলাপ করিতে দেখি নাই—বরঞ্চ উপযাচক হইয়া কথা কহিতাম আমরাই। তাহার প্রধান কারণ ছিল এই যে, দোকানের খাবার কিনিয়া খাওয়াইতে গ্রামের মধ্যে তাহার জোড়া ছিল না। আর শুধু ছেলেরাই নয়। কত ছেলের বাপ কতবার যে গোপনে ছেলেকে দিয়া তাহার কাছে স্কুলের মাহিনা হারাইয়া গেছে, বই চুরি গেছে ইত্যাদি বলিয়া টাকা আদায় করিয়া লইত, তাহা বলিতে পারি না । কিন্তু ঋণ স্বীকার করা তো দূরের কথা, ছেলে তাহার সহিত একটা কথা কহিয়াছে, এ কথাও কোনো বাপ ভদ্র সমাজে কবুল করিতে চাহিত না-গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম।
অনেক দিন মৃত্যুঞ্জয়ের দেখা নাই। একদিন শোনা গেল সে মর-মর। আর একদিন শোনা গেল, মালোপাড়ার এক বুড়া মালো তাহার চিকিৎসা করিয়া এবং তাহার মেয়ে বিলাসী সেবা করিয়া মৃত্যুঞ্জয়কে যমের মুখ হইতে এ যাত্রা ফিরাইয়া আনিয়াছে ।
অনেক দিন তাহার মিষ্টান্নের সদ্ব্যয় করিয়াছি— মনটা কেমন করিতে লাগিল, একদিন সন্ধ্যার অন্ধকারে লুকাইয়া তাহাকে দেখিতে গেলাম। তাহার পোড়োবাড়িতে প্রাচীরের বালাই নাই। স্বচ্ছন্দে ভিতরে ঢুকিয়া দেখি, ঘরের দরজা খোলা, বেশ উজ্জ্বল একটি প্রদীপ জ্বলিতেছে, আর ঠিক সমুখেই তক্তপোষের ওপর পরিষ্কার ধবধবে বিছানায় মৃত্যুঞ্জয় শুইয়া আছে, তাহার কঙ্কালসার দেহের প্রতি চাহিলেই বুঝা যায়, বাস্তবিক যমরাজ চেষ্টার ত্রুটি কিছু করেন নাই, তবে যে শেষ পর্যন্ত সুবিধা করিয়া উঠিতে পারেন নাই, সে কেবল ওই মেয়েটির জোরে। সে শিয়রে বসিয়া পাখার বাতাস করিতেছিল, অকস্মাৎ মানুষ দেখিয়া চমকিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল। এই সেই বুড়া সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী। তাহার বয়স আঠারো কি আটাশ ঠাহর করিতে পারিলাম না। কিন্তু মুখের প্রতি চাহিবামাত্রই টের পাইলাম, বয়স যাই হোক, খাটিয়া খাটিয়া আর রাত জাগিয়া জাগিয়া ইহার শরীরে আর কিছু নাই। ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো। হাত দিয়া এতটুকু স্পর্শ করিলে, এতটুকু নাড়াচাড়া করিতে গেলেই ঝরিয়া পড়িবে।
মৃত্যুঞ্জয় আমাকে চিনিতে পারিয়া বলিল, “কে, ন্যাড়া?”
বলিলাম, “হুঁ।”
মেয়েটা ঘাড় হেঁট করিয়া দাঁড়াইয়া রহিল । মৃত্যুঞ্জয় দুই-চারিটি কথায় যাহা কহিল, তাহার মর্ম এই যে, প্রায় দেড় মাস হইতে চলিল সে শয্যাগত। মধ্যে দশ-পনের দিন সে অজ্ঞান অচৈতন্য অবস্থায় পড়িয়াছিল, এই কয়েক দিন হইল সে লোক চিনিতে পারিতেছে এবং যদিচ এখনো সে বিছানা ছাড়িয়া উঠিতে পারে না, কিন্তু আর ভয় নাই ।
ভয় নাই থাকুক । কিন্তু ছেলেমানুষ হইলেও এটা বুঝিলাম, আজও যাহার শয্যাত্যাগ করিয়া উঠিবার ক্ষমতা হয় নাই, সেই রোগীকে এই বনের মধ্যে একাকী যে মেয়েটি বাঁচাইয়া তুলিবার ভার লইয়াছেন, সে কত বড় গুরুভার। দিনের পর দিন, রাত্রির পর রাত্রি তাহার কত সেবা, কত শুশ্রূষা, কত ধৈর্য, কত রাতজাগা । সে কত বড় সাহসের কাজ! কিন্তু যে বস্তুটি এই অসাধ্য-সাধন করিয়া তুলিয়াছিল তাহার পরিচয় যদিচ সেদিন পাই নাই, কিন্তু আর একদিন পাইয়াছিলাম ।
ফিরিবার সময় মেয়েটি আর একটি প্রদীপ লইয়া আমার আগে আগে ভাঙা প্রাচীরের শেষ পর্যন্ত আসিল । এতক্ষণ পর্যন্ত সে একটি কথাও কহে নাই, এইবার আস্তে আস্তে বলিল, রাস্তা পর্যন্ত তোমায় রেখে আসব কি? বড় বড় আমগাছে সমস্ত বাগানটা যেন একটা জমাট অন্ধকারের মতো বোধ হইতেছিল, পথ দেখা তো দূরের কথা, নিজের হাতটা পর্যন্ত দেখা যায় না। বলিলাম, “পৌঁছে দিতে হবে না, শুধু আলোটা দাও।”
সে প্রদীপটা আমার হাতে দিতেই তাহার উৎকণ্ঠিত মুখের চেহারাটা আমার চোখে পড়িল। আস্তে আস্তে সে বলিল, “একলা যেতে ভয় করবে না তো? একটু এগিয়ে দিয়ে আসব?” মেয়ে মানুষ জিজ্ঞাসা করে, ভয় করবে না তো। সুতরাং মনে যাই থাক, প্রত্যুত্তরে শুধু একটা “না” বলিয়াই অগ্রসর হইয়া গেলাম ।
সে পুনরায় কহিল, “ঘন জঙ্গলের পথ, একটু দেখে পা ফেলে যেয়ো।” সর্বাঙ্গে কাঁটা দিয়া উঠিল, কিন্তু এতক্ষণে বুঝিলাম, উদ্বেগটা তাহার কিসের জন্য এবং কেন সে আলো দেখাইয়া এই বনের পথ পার করিয়া দিতে চাহিতেছিল। হয়ত সে নিষেধ শুনিত না, সঙ্গেই যাইত, কিন্তু পীড়িত মৃত্যুঞ্জয়কে একাকী ফেলিয়া যাইতেই বোধ করি তাহার শেষ পর্যন্ত মন সরিল না ।
কুড়ি-পঁচিশ বিঘার বাগান। সুতরাং পথটা কম নয় । এই দারুণ অন্ধকারের মধ্যে প্রত্যেক পদক্ষেপই বোধ করি ভয়ে ভয়ে করিতে হইত, কিন্তু পরক্ষণই মেয়েটির কথাতেই সমস্ত মন এমনি আচ্ছন্ন হইয়া রহিল যে, ভয় পাইবার আর সময় পাইলাম না। কেবল মনে হইতে লাগিল, একটা মৃতকল্প রোগী লইয়া থাকা কত কঠিন। মৃত্যুঞ্জয় তো যে-কোনো মুহূর্তেই মরিতে পারিত, তখন সমস্ত রাত্রি এই বনের মধ্যে মেয়েটি একাকী কী করিত । কেমন করিয়া তাহার সে রাতটা কাটিত।
এই প্রসঙ্গে অনেকদিন পরের একটা কথা আমার মনে পড়ে। এক আত্মীয়ের মৃত্যুকালে আমি উপস্থিত ছিলাম । অন্ধকার রাত্রি—বাটীতে ছেলে-পুলে, চাকর-বাকর নাই, ঘরের মধ্যে শুধু তার সদ্যবিধবা স্ত্রী আর আমি। তার স্ত্রী তো শোকের আবেগে দাপাদাপি করিয়া এমন কাণ্ড করিয়া তুলিলেন যে, ভয় হইল তাহারও প্রাণটা বুঝি বাহির হইয়া যায় বা! কাঁদিয়া কাঁদিয়া বারবার আমাকে প্রশ্ন করিতে লাগিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের কী? তাঁর যে আর তিলার্ধ বাঁচিতে সাধ নাই, এ কি তাহারা বুঝিবে না? তাহাদের ঘরে কি স্ত্রী নাই? তাহারা কি পাষাণ? আর এই রাত্রেই গ্রামের পাঁচজন যদি নদীর তীরের কোনো একটা জঙ্গলের মধ্যে তাঁর সহমরণের যোগাড় করিয়া দেয় তো পুলিশের লোক জানিবে কী করিয়া? এমনি কত কি । কিন্তু আমার তো আর বসিয়া বসিয়া তাঁর কান্না শুনিলেই চলে না। পাড়ায় খবর দেওয়া চাই—অনেক জিনিস যোগাড় করা চাই। কিন্তু আমার বাহিরে যাইবার প্রস্তাব শুনিয়াই তিনি প্রকৃতিস্থ হইয়া উঠিলেন। চোখ মুছিয়া বলিলেন, “ভাই, যা হবার সে তো হইয়াছে, আর বাইরে গিয়া কী হইবে? রাতটা কাটুক না।” বলিলাম, “অনেক কাজ, না গেলেই যে নয় । ”
তিনি বলিলেন, “হোক কাজ, তুমি বসো।”
বলিলাম, “বসলে চলবে না, একবার খবর দিতেই হইবে”, বলিয়া পা বাড়াইবামাত্রেই তিনি চিৎকার করিয়া উঠিলেন, “ওরে বাপরে! আমি একলা থাকতে পারব না।”
কাজেই আবার বসিয়া পড়িতে হইল । কারণ, তখন বুঝিলাম, যে স্বামী জ্যান্ত থাকতে তিনি নির্ভয়ে পঁচিশ বৎসর একাকী ঘর করিয়াছেন, তাঁর মৃত্যুটা যদি-বা সহে তাঁর মৃতদেহটা এই অন্ধকার রাত্রে পাঁচ মিনিটের জন্যও সহিবে না। বুক যদি কিছুতে ফাটে তো সে এই মৃত স্বামীর কাছে একলা থাকিলে ।
কিন্তু দুঃখটা তাহার তুচ্ছ করিয়া দেখানও আমার উদ্দেশ্য নহে। কিংবা তাহা খাঁটি নয় এ কথা বলাও আমার অভিপ্ৰায় নহে। কিংবা একজনের ব্যবহারেই তাহার চূড়ান্ত মীমাংসা হইয়া গেল তাহাও নহে। কিন্তু এমন আরও অনেক ঘটনা জানি, যাহার উল্লেখ না করিয়াও আমি এই কথা বলিতে চাই যে, শুধু কর্তব্যজ্ঞানের জোরে অথবা বহুকাল ধরিয়া একসঙ্গে ঘর করার অধিকারেই এই ভয়টাকে কোনো মেয়েমানুষই অতিক্রম করিতে পারে না। ইহা আর একটি শক্তি, যাহা বহু স্বামী-স্ত্রী একশ বৎসর একত্রে ঘর করার পরেও হয়ত তাহার কোনো সন্ধান পায় না।
কিন্তু সহসা সে শক্তির পরিচয় যখন কোনো নরনারীর কাছে পাওয়া যায়, তখন সমাজের আদালতে আসামি করিয়া তাহাদের দণ্ড দেওয়ার আবশ্যক যদি হয় তো হোক, কিন্তু মানুষের যে বস্তুটি সামাজিক নয়, সে নিজে যে ইহাদের দুঃখে গোপন অশ্রু বিসর্জন না করিয়া কোনো মতেই থাকিতে পারে না ।
প্রায় মাস দুই মৃত্যুঞ্জয়ের খবর লই নাই। যাঁহারা পল্লিগ্রাম দেখেন নাই, কিংবা ওই রেলগাড়ির জানালায় মুখ বাড়াইয়া দেখিয়াছেন, তাঁহারা হয়ত সবিস্ময়ে বলিয়া উঠিবেন, এ কেমন কথা? এ কি কখনো সম্ভব হইতে পারে যে, অত বড় অসুখটা চোখে দেখিয়া আসিয়াও মাস-দুই আর তার খবরই নাই । তাহাদের অবগতির জন্য বলা আবশ্যক যে, এ শুধু সম্ভব নয়, এ-ই হইয়া থাকে। একজনের বিপদে পাড়াসুদ্ধ ঝাঁক বাঁধিয়া উপুড় হইয়া পড়ে, এই যে, একটা জনশ্রুতি আছে, জানি না তাহা সত্যযুগের পল্লিগ্রামে ছিল কি না, কিন্তু একালে তো কোথাও দেখিয়াছি বলিয়া মনে করিতে পারি না । তবে তাহার মরার খবর যখন পাওয়া যায় নাই, তখন সে যে বাঁচিয়া আছে এ ঠিক।
এমনি সময়ে হঠাৎ একদিন কানে গেল, মৃত্যুঞ্জয়ের সেই বাগানের অংশীদার খুড়া তোলপাড় করিয়া বেড়াইতেছেন যে, গেল গেল, গ্রামটা এবার রসাতলে গেল। নালতের মিত্তির বলিয়া সমাজে আর তাঁর মুখ বাহির করিবার যো রহিল না-অকালকুষ্মাণ্ডটা একটা সাপুড়ের মেয়ে নিকা করিয়া ঘরে আনিয়াছে। আর শুধু নিকা নয়, তাও না হয় চুলায় যাক, তাহার হাতে ভাত পর্যন্ত খাইতেছে। গ্রামে যদি ইহার শাসন না থাকে তো বনে গিয়া বাস করিলেই তো হয়। কোড়োলা, হরিপুরের সমাজ একথা শুনিলে যে – ইত্যাদি ইত্যাদি । - তখন ছেলে বুড়ো সকলের মুখেই ওই এক কথা—অ্যাঁ এ হইল কী? কলি কি সত্যই উল্টাইতে বসিল ।
খুড়া বলিয়া বেড়াইতে লাগিলেন, এ যে ঘটিবে তিনি অনেক আগেই জানিতেন। তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন, কোথাকার জল কোথায় গিয়া পড়ে। নইলে পর নয়, প্রতিবেশী নয়, আপনার ভাইপো । তিনি কি বাড়ি লইয়া যাইতে পারিতেন না? তাঁহার কি ডাক্তার-বৈদ্য দেখাইবার ক্ষমতা ছিল না? তবে কেন যে করেন নাই, এখন দেখুন সবাই । কিন্তু আর তো চুপ করিয়া থাকা যায় না। এ যে মিত্তির বংশের নাম ডুবিয়া যায়। গ্রামের যে মুখ পোড়ে ।
তখন আমরা গ্রামের লোক মিলিয়া যে কাজটা করিলাম, তাহা মনে করিলে আমি আজও লজ্জায় মরিয়া যাই । খুড়া চলিলেন নালতের মিত্তির বংশের অভিভাবক হইয়া, আর আমরা দশ-বারোজন সঙ্গে চলিলাম গ্রামের বদন দগ্ধ না হয় এইজন্য ।
মৃত্যুঞ্জয়ের পোড়োবাড়িতে গিয়া যখন উপস্থিত হইলাম তখন সবেমাত্র সন্ধ্যা হইয়াছে। মেয়েটি ভাঙা বারান্দায় একধারে রুটি গড়িতেছে। অকস্মাৎ লাঠিসোটা হাতে এতগুলি লোককে উঠানের ওপর দেখিয়া ভয়ে নীলবর্ণ হইয়া গেল। খুড়া ঘরের মধ্যে উঁকি মারিয়া দেখলেন, মৃত্যুঞ্জয় শুইয়া আছে। চট করিয়া শিকলটা টানিয়া দিয়া সেই ভয়ে মৃতপ্রায় মেয়েটিকে সম্ভাষণ শুরু করিলেন। বলা বাহুল্য, জগতের কোনো খুড়া কোনো কালে বোধ করি ভাইপোর-স্ত্রীকে ওরূপ সম্ভাষণ করে নাই। সে এমনি যে, মেয়েটি হীন সাপুড়ের মেয়ে হইয়াও তাহা সহিতে পারিল না, চোখ তুলিয়া বলিল, বাবা আমারে বাবুর সাথে নিকা দিয়েছে জানো? খুড়া বলিলেন তবে রে! ইত্যাদি ইত্যাদি এবং সঙ্গে সঙ্গেই দশ-বারোজন বীরদর্পে হুংকার দিয়া তাহার ঘাড়ে পড়িল। কেহ ধরিল চুলের মুঠি, কেহ ধরিল কান, কেহ ধরিল হাত-দুটো এবং যাহাদের সে সুযোগ ঘটিল না তাহারাও নিশ্চেষ্ট হইয়া রহিল না ।
কারণ, সংগ্রামস্থলে আমরা কাপুরুষের ন্যায় চুপ করিয়া থাকিতে পারি, আমাদের বিরুদ্ধে এত বড় দুর্নাম রটনা
করিতে বোধ করি নারায়ণের কর্তৃপক্ষেরও চক্ষুলজ্জা হইবে। এইখানে একটা অবান্তর কথা বলিয়া রাখি। শুনিয়াছি নাকি বিলাত প্রভৃতি স্লেচ্ছদেশে পুরুষদের মধ্যে একটা কুসংস্কার আছে, স্ত্রীলোক দুর্বল এবং নিরুপায় বলিয়া তাহার গায়ে হাত তুলিতে নাই। এ আবার একটা কী কথা! সনাতন হিন্দু এ কুসংস্কার মানে না। আমরা বলি যাহারই গায়ে জোর নাই, তাহারই গায়ে হাত তুলিতে
পারা যায়। তা সে নরনারী যাই হোক না কেন ।
মেয়েটি প্রথমেই সেই যা একবার আর্তনাদ করিয়া উঠিয়াছিল, তারপর একেবারে চুপ করিয়া গেল । কিন্তু আমরা যখন তাহাকে গ্রামের বাহিরে রাখিয়া আসিবার জন্য হিঁচড়াইয়া লইয়া চলিলাম, তখন মিনতি করিয়া বলিতে লাগিল, “বাবুরা, আমাকে একটিবার ছেড়ে দাও আমি রুটিগুলো ঘরে দিয়ে আসি। বাইরে শিয়াল কুকুরে খেয়ে যাবে—রোগা মানুষ সমস্ত রাত খেতে পাবে না।”
মৃত্যুঞ্জয় রুদ্ধ ঘরের মধ্যে পাগলের মতো মাথা কুটিতে লাগিল, দ্বারে পদাঘাত করিতে লাগিল এবং শ্রাব্য-অশ্রাব্য বহুবিধ ভাষা প্রয়োগ করিতে লাগিল। কিন্তু আমরা তাহাতে তিলার্ধ বিচলিত হইলাম না। স্বদেশের মঙ্গলের জন্য সমস্ত অকাতরে সহ্য করিয়া টানিয়া লইয়া চলিলাম ।
চলিলাম বলিতেছি, কেননা, আমিও বরাবর সঙ্গে ছিলাম, কিন্তু কোথায় আমার মধ্যে একটুখানি দুর্বলতা ছিল, আমি তার গায়ে হাত দিতে পারি নাই। বরঞ্চ কেমন যেন কান্না পাইতে লাগিল । সে যে অত্যন্ত অন্যায় করিয়াছে এবং তাহাকে গ্রামের বাহির করাই উচিত বটে, কিন্তু এটাই যে আমরা ভালো কাজ করিতেছি সেও কিছুতেই মনে করিতে পারিলাম না। কিন্তু আমার কথা থাক ।
আপনারা মনে করিবেন না, পল্লিগ্রামে উদারতার একান্ত অভাব। মোটেই না। বরঞ্চ বড়লোক হইলে আমরা
এমন সব ঔদার্য প্রকাশ করি যে, শুনিলে আপনারা অবাক হইয়া যাইবেন।
এই মৃত্যুঞ্জয়টাই যদি না তাহার হাতে ভাত খাইয়া অমার্জনীয় অপরাধ করিত তাহা হইলে তো আমাদের এত রাগ হইত না । আর কায়েতের ছেলের সঙ্গে সাপুড়ের মেয়ের নিকা-এ তো একটা হাসিয়া উড়াইবার কথা কিন্তু কাল করিল যে ওই ভাত খাইয়া । হোক না সে আড়াই মাসের রোগী, হোক না সে শয্যাশায়ী কিন্তু তাই বলিয়া ভাত! লুচি নয়, সন্দেশ নয়, পাঁঠার মাংস নয়। ভাত খাওয়া যে অন্ন-পাপ। সে তো আর সত্য সত্যই মাপ করা যায় না। তা নইলে পল্লিগায়ের লোক সংকীর্ণচিত্ত নয় । চার ক্রোশ হাঁটা বিদ্যা যেসব ছেলের পেটে তারাই তো একদিন বড় হইয়া সমাজের মাথা হয়। দেবী বীণাপাণির বরে সংকীর্ণতা তাহাদের মধ্যে আসিবে কী করিয়া!
এই তো ইহারই কিছুদিন পরে, প্রাতঃস্মরণীয় স্বর্গীয় মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের বিধবা পুত্রবধূ মনের বৈরাগ্যে বছর দুই কাশীবাস করিয়া যখন ফিরিয়া আসিলেন, তখন নিন্দুকেরা কানাকানি করিতে লাগিল যে, অর্ধেক সম্পত্তি ওই বিধবার এবং পাছে তাহা বেহাত হয় এই ভয়েই ছোটবাবু অনেক চেষ্টা, অনেক পরিশ্রমের পর বৌঠানকে যেখান হইতে ফিরাইয়া আনিয়াছেন, সেটা কাশীই বটে । যাই হোক, ছোটবাবু তাহার স্বাভাবিক ঔদার্যে গ্রামের বারোয়ারি পূজাবাবদ দুইশত টাকা দান করিয়া, পাঁচখানা গ্রামের ব্রাহ্মণের সদক্ষিণা-উত্তর ফলাহারের পর, প্রত্যেক সদব্রাহ্মণের হাতে যখন একটা করিয়া কাঁসার গেলাস দিয়া বিদায় করিলেন, তখন ধন্য ধন্য পড়িয়া গেল । এমনকি, পথে আসিতে অনেকেই দশের এবং দেশের কল্যাণের নিমিত্ত কামনা করিতে লাগিলেন, এমন সব যারা বড়লোক তাদের বাড়িতে বাড়িতে, মাসে মাসে এমন সদানুষ্ঠানের আয়োজন হয় না কেন?মনসা দেবী আমার মা- ঢোঁড়ার বিষ তুই নে, তোর বিষ ঢোঁড়ারে দে—
ওলটপালট পাতাল-ফোঁড়-
-দুধরাজ, মণিরাজ ।
কার আজ্ঞা-বিষহরির আজ্ঞা ।
ইহার মানে যে কী তাহা আমি জানি না। কারণ, যিনি এই মন্ত্রেরও দ্রষ্টা ঋষি ছিলেন-নিশ্চয় কেহ না কেহ ছিলেন-তাঁর সাক্ষাৎ কখনও পাই নাই ।
অবশেষে একদিন এই মন্ত্রের সত্য মিথ্যার চরম মীমাংসা হইয়া গেল বটে, কিন্তু যতদিন না হইল ততদিন সাপ ধরার জন্য চতুর্দিকে প্রসিদ্ধ হইয়া গেলাম । সবাই বলাবলি করিতে লাগিল, হ্যাঁ, ন্যাড়া একজন গুণী লোক বটে । সন্ন্যাসী অবস্থায় কামাখ্যায় গিয়া সিদ্ধ হইয়া আসিয়াছে । এতটুকু বয়সের মধ্যে এত বড় ওস্তাদ হইয়া অহংকারে আমার মাটিতে পা পড়ে না, এমনি যো হইল ।
বিশ্বাস করিল না শুধু দুই জন। আমার গুরু যে, সে তো ভালো মন্দ কোনো কথাই বলিত না। কিন্তু বিলাসী মাঝে মাঝে মুখ টিপিয়া হাসিয়া বলিত, ঠাকুর, এসব ভয়ংকর জানোয়ার, একটু সাবধানে নাড়াচাড়া করো । বস্তুত বিষদাঁত ভাঙা, সাপের মুখ হইতে বিষ বাহির করা প্রভৃতি কাজগুলো এমনি অবহেলার সহিত করিতে শুরু করিয়াছিলাম যে, সেসব মনে পড়িলে আমার আজও গা কাঁপে।
আসলে কথা হইতেছে এই যে, সাপ ধরাও কঠিন নয় এবং ধরা সাপ দুই চারদিন হাঁড়িতে পুরিয়া রাখার পরে
তাহার বিষদাঁত ভাঙাই হোক আর নাই হোক, কিছুতেই কামড়াইতে চাহে না। চক্র তুলিয়া কামড়াইবার ভান
করে, ভয় দেখায়, কিন্তু কামড়ায় না।
মাঝে মাঝে আমাদের গুরুশিষ্যের সহিত বিলাসী তর্ক করিত। সাপুড়েদের সবচেয়ে লাভের ব্যবসা শিকড় বিক্রি করা, যা দেখাইবামাত্র সাপ পালাইতে পথ পায় না। কিন্তু তার পূর্বে সামান্য একটু কাজ করিতে হইত । যে সাপটা শিকড় দেখিয়া পালাইবে, তাহার মুখে একটা লোহার শিক পুড়াইয়া বার কয়েক ছ্যাঁকা দিতে হয়। তারপর তাহাকে শিকড়ই দেখান হোক বা একটা কাঠিই দেখান হোক, সে কোথায় পালাইবে তা ভাবিয়া পায় না। এই কাজটার বিরুদ্ধে বিলাসী ভয়ানক আপত্তি করিয়া মৃত্যুঞ্জয়কে বলিত, “দেখ, এমন করে মানুষ ঠকায়ো না।” মৃত্যুঞ্জয় কহিত, “সবাই করে-এতে দোষ কী?”
বিলাসী বলিত, “করুক গে সবাই। আমাদের তো খাবার ভাবনা নেই, আমরা কেন মিছামিছি লোক ঠকাতে যাই ।” আর একটা জিনিস আমি বারবার লক্ষ করিয়াছি। সাপ ধরার বায়না আসিলেই বিলাসী নানাপ্রকারে বাধা দিবার চেষ্টা করিত—আজ শনিবার, আজ মঙ্গলবার, এমনি কত কি। মৃত্যুঞ্জয় উপস্থিত না থাকিলে সে তো একবারেই ভাগাইয়া দিত, কিন্তু উপস্থিত থাকিলে মৃত্যুঞ্জয় নগদ টাকার লোভ সামলাইতে পারিত না। আর আমার তো একরকম নেশার মত হইয়া দাঁড়াইয়াছিল । নানাপ্রকারে তাহাকে উত্তেজিত করিতে চেষ্টার ত্রুটি করিতাম না। বস্তুত ইহার মধ্যে মজা ছাড়া ভয় যে কোথায় ছিল, এ আমাদের মনেই স্থান পাইত না। কিন্তু এই পাপের দণ্ড আমাকে একদিন ভালো করিয়াই দিতে হইল ।
সেদিন ক্রোশ-দেড়েক দূরে এক গোয়ালার বাড়িতে সাপ ধরিতে গিয়াছি। বিলাসী বরাবরই সঙ্গে যাইত, আজও সঙ্গে ছিল। মেটে ঘরের মেঝে খানিকটা খুঁড়িতেই একটা গর্তের চিহ্ন পাওয়া গেল। আমরা কেহই লক্ষ করি নাই, কিন্তু বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে-সে হেঁট হইয়া কয়েক টুকরা কাগজ তুলিয়া লইয়া আমাকে বলিল, “ঠাকুর, একটু সাবধানে খুঁড়ো । সাপ একটা নয় একজোড়া তো আছে বটেই হয়ত বা বেশি থাকিতে পারে।”
মৃত্যুঞ্জয় বলিল, “এরা যে বলে একটাই এসে ঢুকেছে। একটাই দেখতে পাওয়া গেছে।” বিলাসী কাগজ দেখাইয়া কহিল, “দেখছ না বাসা করেছিল?” মৃত্যুঞ্জয় কহিল, “কাগজ তো ইঁদুরেও আনতে পারে।”
বিলাসী কহিল, “দু-ই হতে পারে। কিন্তু দুটো আছে আমি বলছি।”
বাস্তবিক বিলাসীর কথাই ফলিল এবং মর্মান্তিকভাবেই সেদিন ফলিল। মিনিট-দশেকের মধ্যে একটা প্রকাণ্ড খরিশ গোখরো ধরিয়া ফেলিয়া মৃত্যুঞ্জয় আমার হাতে দিল। কিন্তু সেটাকে ঝাঁপির মধ্যে পুরিয়া ফিরিতে না ফিরিতেই মৃত্যুঞ্জয় “উঃ’ করিয়া নিঃশ্বাস ফেলিয়া বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইল। তাহার হাতের উলটা পিঠ দিয়ে ঝরঝর করিয়া রক্ত পড়িতেছিল।
প্রথমটা যেন সবাই হতবুদ্ধি হইয়া গেলাম । কারণ সাপ ধরিতে গেলে সে পালাইবার জন্য ব্যাকুল না হইয়া বরঞ্চ গর্ত হইতে একহাত মুখ বাহির করিয়া দংশন করে, এমন অভাবনীয় ব্যাপার জীবনে এই একটিবার দেখিয়াছি । পরক্ষণেই বিলাসী চিৎকার করিয়া ছুটিয়া গিয়া আঁচল দিয়া তাহার হাতটা বাঁধিয়া ফেলিল এবং যত রকমের শিকড়-বাকড় সে সঙ্গে আনিয়াছিল সমস্তই তাহাকে চিবাইতে দিল। মৃত্যুঞ্জয়ের নিজের মাদুলি তো ছিলই, তাহার উপরে আমার মাদুলিটাও খুলিয়া তাহার হাতে বাঁধিয়া দিলাম। আশা, বিষ ইহার ঊর্ধ্বে আর উঠিবে না, বরং সেই ‘বিষহরির আজ্ঞা' মন্ত্রটা সতেজে বারংবার আবৃত্তি করিতে লাগিলাম। চতুর্দিকে ভিড় জমিয়া গেল এবং এ অঞ্চলের মধ্যে যেখানে যত গুণী ব্যক্তি আছেন সকলকে খবর দিবার জন্য দিকে দিকে লোক ছুটিল । বিলাসীর বাপকে সংবাদ দিবার জন্য লোক গেল ।
আমার মন্ত্র পড়ার আর বিরাম নাই, কিন্তু ঠিক সুবিধা হইতেছে বলিয়া মনে হইল না । তথাপি আবৃত্তি সমভাবেই চলিতে লাগিল । কিন্তু মিনিট পনের কুড়ি পরেই যখন মৃত্যুঞ্জয় একবার বমি করিয়া দিল, তখন বিলাসী মাটির ওপর একবারে আছাড় খাইয়া পড়িল । আমিও বুঝিলাম, বিষহরির দোহাই বুঝি-বা আর খাটে না ।
নিকটবর্তী আরও দুই-চারিজন ওস্তাদ আসিয়া পড়িলেন এবং আমরা কখনও-বা একসঙ্গে কখনও আলাদা তেত্রিশ কোটি দেবদেবীর দোহাই পাড়িতে লাগিলাম । কিন্তু বিষ দোহাই মানিল না, রোগীর অবস্থা ক্রমেই মন্দ হইতে লাগিল। যখন দেখা গেল ভালো কথায় হইবে না, তখন তিন-চারজন ওঝা মিলিয়া বিষকে এমনি অকথ্য অশ্রাব্য গালিগালাজ করিতে লাগিল যে, বিষের কান থাকিলে সে মৃত্যুঞ্জয় তো মৃত্যুঞ্জয়, সেদিন দেশ ছাড়িয়া পলাইত। কিন্তু কিছুতেই কিছু হইল না । আরও আধ ঘণ্টা ধ্বস্তাধ্বস্তির পরে রোগী তাহার বাপ মায়ের দেওয়া মৃত্যুঞ্জয় নাম, তাহার শ্বশুরের দেওয়া মন্ত্রৌষধি সমস্ত মিথ্যা প্রতিপন্ন করিয়া ইহলোকের লীলা সাঙ্গ করিল। বিলাসী তাহার স্বামীর মাথাটা কোলে করিয়া বসিয়াছিল সে যেন একেবারে পাথর হইয়া গেল ।
যাক, তাহার দুঃখের কাহিনিটি আর বাড়াইব না। কেবল এইটুকু বলিয়া শেষ করিব যে, সে সাত দিনের বেশি বাঁচিয়া থাকাটা সহিতে পারিল না। আমাকে শুধু একদিন বলিয়াছিল, ঠাকুর আমার মাথার দিব্যি রইল, এসব তুমি আর কখনও করো না ।
আমার মাদুলি-কবচ তো মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে কবরে গিয়াছিল, ছিল শুধু বিষহরির আজ্ঞা। কিন্তু সে আজ্ঞা যে
ম্যাজিস্ট্রেটের আজ্ঞা নহে এবং সাপের বিষ যে বাঙালির বিষ নয়, তাহা আমিও বুঝিয়াছিলাম । একদিন গিয়া শুনিলাম, ঘরে তো আর বিষের অভাব ছিল না, বিলাসী আত্মহত্যা করিয়া মরিয়াছে এবং শাস্ত্রমতে সে নিশ্চয় নরকে গিয়াছে। কিন্তু যেখানেই যাক, আমার নিজের যখন যাইবার সময় আসিবে, তখন ওইরূপ কোনো একটা নরকে যাওয়ার প্রস্তাবে পিছাইয়া দাঁড়াইব না, এইমাত্র বলিতে পারি ।
খুড়া মশাই ষোল আনা বাগান দখল করিয়া অত্যন্ত বিজ্ঞের মতো চারিদিকে বলিয়া বেড়াইতে লাগিলেন, ওর যদি না অপঘাত-মৃত্যু হবে, তো হবে কার? পুরুষমানুষ অমন একটা ছেড়ে দশটা করুক না, তাতে তো তেমন আসে যায় না-না হয় একটু নিন্দাই হতো। কিন্তু হাতে ভাত খেয়ে মরতে গেলি কেন? নিজে মরলো, আমার পর্যন্ত মাথা হেঁট করে গেল । না পেলে এক ফোঁটা আগুন, না পেলে একটা পিণ্ডি, না হলো একটা ভুজ্যি উচ্ছৃণ্ড্য। গ্রামের লোক একবাক্যে বলিতে লাগিল, তাহাতে আর সন্দেহ কী! অন্নপাপ । বাপ রে! এর কি আর প্রায়শ্চিত্ত আছে।
বিলাসীর আত্মহত্যার ব্যাপারটা অনেকের কাছে পরিহাসের বিষয় হইল। আমি প্রায় ভাবি, এ অপরাধ হয়ত ইহারা উভয়েই করিয়াছিল, কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় তো পল্লিগ্রামেরই ছেলে, পাড়াগাঁয়ের তেলে-জলেই তো মানুষ । তবু অত বড় দুঃসাহসের কাজে প্রবৃত্ত করিয়াছিল তাহাকে যে বস্তুটা সেটা কেহ একবার চোখ মেলিয়া দেখিতে পাইল না ?
আমার মনে হয়, যে দেশের নরনারীর মধ্যে পরস্পরের হৃদয় জয় করিয়া বিবাহ করিবার রীতি নাই, বরঞ্চ তাহা নিন্দার সামগ্রী, যে দেশে নরনারী আশা করিবার সৌভাগ্য, আকাঙ্ক্ষা করিবার ভয়ংকর আনন্দ হইতে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত, যাহাদের জয়ের গর্ব, পরাজয়ের ব্যথা কোনোটাই জীবনে একটিবারও বহন করিতে হয় না, যাহাদের ভুল করিবার দুঃখ, আর ভুল না করিবার আত্মপ্রসাদ, কিছুরই বালাই নাই, যাহাদের প্রাচীন এবং বহুদর্শী বিজ্ঞ সমাজ সর্ব প্রকারের হাঙ্গামা হইতে অত্যন্ত সাবধানে দেশের লোককে তফাৎ করিয়া, আজীবন কেবল ভালোটি হইয়া থাকিবারই ব্যবস্থা করিয়া দিয়াছেন, তাই বিবাহ ব্যাপারটা যাহাদের শুধু নিছক Contract তা সে যতই কেননা বৈদিক মন্ত্ৰ দিয়া Document পাকা করা হোক, সে দেশের লোকের সাধ্যই নাই মৃত্যুঞ্জয়ের অন্নপাপের কারণ বোঝে। বিলাসীকে যাঁহারা পরিহাস করিয়াছিলেন, তাঁহারা সাধু গৃহস্থ এবং সাধ্বী গৃহিণী— অক্ষয় সতীলোক তাঁহারা সবাই পাইবেন, তাও আমি জানি কিন্তু সেই সাপুড়ের মেয়েটি যখন একটি পীড়িত শয্যাগত লোককে তিল তিল করিয়া জয় করিতেছিল, তাহার তখনকার সেই গৌরবের কণামাত্র হয়ত আজিও ইহাদের কেহ চোখে দেখেন নাই। মৃত্যুঞ্জয় হয়ত নিতান্তই একটা তুচ্ছ মানুষ ছিল, কিন্তু তাহার হৃদয় জয় করিয়া দখল করার আনন্দটাও তুচ্ছ নয়, সে সম্পদও অকিঞ্চিৎকর নহে ।
এই বস্তুটাই এ দেশের লোকের পক্ষে বুঝিয়া উঠা কঠিন। আমি ভূদেববাবুর পারিবারিক প্রবন্ধেরও দোষ দিব না এবং শাস্ত্রীয় তথা সামাজিক বিধি-ব্যবস্থারও নিন্দা করিব না । করিলেও মুখের ওপর কড়া জবাব দিয়া যাঁহারা বলিবেন, এই হিন্দু সমাজ তাহার নির্ভুল বিধিব্যবস্থার জোরেই অত শতাব্দীর অতগুলো বিপ্লবের মধ্যে বাঁচিয়া আছে, আমি তাঁহাদেরও অতিশয় ভক্তি করি, প্রত্যুত্তরে আমি কখনই বলিব না, টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, এবং অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে। আমি শুধু এই বলিব যে, বড়লোকের নন্দগোপালটির মতো দিবারাত্রি চোখে চোখে এবং কোলে কোলে রাখিলে যে সে বেশটি থাকিবে, তাহাতে কোনোই সন্দেহ নাই, কিন্তু একেবারে তেলাপোকাটির মত বাঁচাইয়া রাখার চেয়ে এক আধবার কোল হইতে নামাইয়া আরও পাঁচজন মানুষের মতো দু-এক পা হাঁটিতে দিলেই প্রায়শ্চিত্ত করার মত পাপ হয় না ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

'বিলাসী' গল্পটি প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

'বিলাসী' গল্পে বর্ণিত মৃত্যুঞ্জয়ের পৈত্রিক বাড়িটি ছিল অত্যন্ত জীর্ণ ও অপরিষ্কার। প্রথমে ধনীর দুলাল মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়িটিতে চাকর-দাসী ও আত্মীয়-স্বজনের ভিড় লেগে থাকত। কিন্তু ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর সব আত্মীয়-স্বজন তাকে ছেড়ে চলে গেলে বাড়িটি শ্রীহীন, অপরিচ্ছন্ন এবং ভূতের বাড়ির মতো নীরব ও জনশূন্য হয়ে পড়েছিল।

মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির এই পরিবেশ তার একাকীত্ব, অসহায়ত্ব এবং তার প্রতি সমাজের উদাসীনতাকেই ফুটিয়ে তোলে। এককালের সম্পন্ন গৃহটি মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার পর তার ভাগ্যের মতোই দুর্দশাগ্রস্ত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়েছিল, যা বিলাসী গল্পের পটভূমি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রের সাথে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রটি তুলনীয়। উভয় চরিত্রই সমাজের প্রচলিত জাতিভেদ প্রথা ও পরিবারের উচ্চ বংশমর্যাদা উপেক্ষা করে নিম্নবর্গীয় মেয়ের প্রেমে পড়ে আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় একজন উচ্চবংশীয় ব্রাহ্মণ সন্তান হয়েও সাপ খেলা দেখানো বিলাসীকে ভালোবেসেছিল। এই ভালোবাসার জন্য সে তার পরিবার, সমাজ, ঐতিহ্য সবকিছুকে পরিত্যাগ করে বিলাসীকে বিয়ে করে এবং এর ফলস্বরূপ সমাজে পতিত হয়। এমনকি সে তার সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত হয় এবং বিলাসীই তার একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়।

ঠিক একইভাবে উদ্দীপকের জমিদারপুত্র নদের চাঁদও হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে সমাজের উঁচু-নীচুর দেয়াল ভেঙে দেয়। জমিদার বাবা এই সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় সে পরিবার ও সামাজিক অবস্থান ত্যাগ করে মহুয়ার জন্য আত্মোৎসর্গ করতে প্রস্তুত হয়। উভয় চরিত্রই ভালোবাসার জন্য সমাজ ও পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে চরম আত্মত্যাগের পথে হেঁটেছে, যা তাদের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য তৈরি করেছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পটি সমাজ-নির্ধারিত জাতিভেদ প্রথাকে অগ্রাহ্য করে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর অমর প্রেমের এক মর্মস্পর্শী উপাখ্যান। উদ্দীপকের নদের চাঁদ ও মহুয়ার প্রেমকাহিনীতেও আমরা সেই একই ধরনের সামাজিক বাধা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। এই দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

উদ্দীপকে জমিদারপুত্র নদের চাঁদ ও বেদে কন্যা মহুয়ার প্রেম সমাজের জাত-পাতের বেড়াজাল ভাঙার এক সাহসী পদক্ষেপ। নদের চাঁদ তাঁর জমিদার পিতার বিরোধিতা এবং সামাজিক অসম্মান সত্ত্বেও মহুয়ার প্রতি তাঁর ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরে। এমনকি ভালোবাসার জন্য সে বাবা-মাকে ছেড়ে মহুয়ার সাথে চলে যায়। জমিদার তার ছেলেকে এই 'নীচু জাত' বেদের মেয়ের সাথে সম্পর্ক মানতে পারেননি এবং হুমরাবেদের দলকে গ্রামছাড়া করেন। অন্যদিকে, 'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থতার সময় বিলাসী নামের এক সাপুড়ের মেয়েদের সাহায্য পায় এবং পরে তাকে বিবাহ করে। সমাজ এবং তার স্বজাতি এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি, যার ফলে মৃত্যুঞ্জয়কে একঘরে করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই প্রেম সামাজিক ভেদাভেদকে তুচ্ছ করে এক কঠিন সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে তার সব সামাজিক অবস্থান ত্যাগ করে। বিলাসীর প্রতি তার ভালোবাসা এতটাই গভীর ছিল যে সে সাপুড়েদের গ্রামে বিলাসীকে নিয়ে জীবনযাপন করতে শুরু করে। পরবর্তীতে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হলে বিলাসীও তার স্বামীর শোকে আত্মাহুতি দেয়। অন্যদিকে উদ্দীপকেও নদের চাঁদ মহুয়ার জন্য সব ত্যাগ করে চলে যায়। হুমরাবেদে নদের চাঁদকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিষলক্ষার ডুরি তুলে দিলেও মহুয়ার নীরবতা তাদের প্রেমের মহিমাকে আরও উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। উভয় প্রেমই তীব্র সামাজিক বিরোধিতা, আত্মত্যাগ এবং বিয়োগান্তক পরিণতি দ্বারা চিহ্নিত, যা তাদের 'অমর প্রেম'-এর পর্যায়ে উন্নীত করে।

সুতরাং, উদ্দীপকের নদের চাঁদ ও মহুয়ার প্রেমকাহিনীতে 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যানের প্রতিফলন ঘটেছে, এই মন্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে যৌক্তিক। উভয় গল্পেই ভালোবাসার জন্য সামাজিক বাধা অতিক্রম, চরম আত্মত্যাগ এবং মর্মান্তিক পরিসমাপ্তি প্রেমের মহিমাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

'বিলাসী' গল্পটি প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়

 

Fahmida
Fahmida
2 years ago
উত্তরঃ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত জীর্ণ, শ্রীহীন ও ভীতিপ্রদ। বিশাল বাড়িটি পরিচর্যার অভাবে জঙ্গলে পরিণত হয়েছিল, যেখানে সাপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ছিল। বাড়ির ভেতরেও স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করত এবং এটি প্রায় পরিত্যক্ত ভূমির মতো ছিল।

মৃত্যুঞ্জয়ের এই জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর বাড়ির পরিবেশ তার নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রতীক ছিল। সমাজের চোখে পতিত, রোগে জর্জরিত মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন যেমন ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছিল, তেমনি তার বাড়িটিও ছিল অবহেলিত ও মৃত্যুর প্রতীকী আবাসস্থল, যা তার ভাগ্যাহত জীবনের করুণ পরিণতিকে নির্দেশ করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রটি 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রের সাথে তুলনীয়। উভয় চরিত্রই সামাজিক মর্যাদা, কৌলীন্য এবং পারিবারিক ঐতিহ্য বিসর্জন দিয়ে প্রেমের জন্য আত্মত্যাগ করেছে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রটি তার প্রেমের জন্য সমাজের সকল বাধা অতিক্রম করে। সে একজন কুলীন ব্রাহ্মণ হওয়া সত্ত্বেও সর্পাঘাতে মৃতপ্রায় অবস্থায় সাপুড়ে মেয়ে বিলাসীকে বিবাহ করে। সমাজের চোখরাঙানি এবং আত্মীয়-স্বজনের নিন্দা উপেক্ষা করে সে বিলাসীর সাথে সাপুড়েদের পল্লীতে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি গ্রহণ করে। মৃত্যুঞ্জয় তার সামাজিক অবস্থান, বিত্ত-বৈভব এবং প্রথাগত সম্মান ত্যাগ করে শুধুমাত্র ভালবাসার জন্য একটি নিচু জাতের মেয়ের সাথে দরিদ্র জীবন বেছে নেয়।

ঠিক একইভাবে উদ্দীপকের নদের চাঁদও জমিদারপুত্র হয়ে সমাজের উঁচুতলার প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু সে হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে। তার পিতা জমিদার এই প্রেম মেনে না নেওয়ায় নদের চাঁদ মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাবা-মাকে ছেড়ে যায়। এমনকি হুমরাবেদে তাকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিষলক্ষার ডুরি তুলে দিলেও, নদের চাঁদ তার ভালোবাসার প্রতি অবিচল থাকে এবং মহুয়ার জন্য সকল প্রতিকূলতা ও আত্মত্যাগের মানসিকতা দেখায়। সামাজিক স্তরবিন্যাস ও শ্রেণি বিভাজনকে উপেক্ষা করে প্রেমের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার দিক থেকে নদের চাঁদ ও মৃত্যুঞ্জয় চরিত্র দুটি গভীরভাবে তুলনীয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত মহুয়া ও নদের চাঁদের প্রেমের উপাখ্যান শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর অমর প্রেমের এক মর্মস্পর্শী প্রতিচ্ছবি। উভয় গল্পেই প্রেম সামাজিক বাধা, বর্ণভেদ এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু দিয়েও অপরাজিত থেকে এক অসাধারণ মহিমা লাভ করেছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, বেদে কন্যা মহুয়ার সাথে জমিদারপুত্র নদের চাঁদের প্রেম সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির পরিপন্থী। জমিদার নদের চাঁদের বাবা এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি এবং হুমরাবেদের দলকে গ্রামছাড়া করেন। কিন্তু নদের চাঁদ সামাজিক অবস্থান, পারিবারিক বন্ধন ত্যাগ করে মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাড়ি ছাড়ে। এই ত্যাগ তাদের প্রেমের গভীরতা প্রমাণ করে। প্রেমের প্রতি নদের চাঁদের এই অবিচল নিষ্ঠা তাদের সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়, যা সামাজিক বৈষম্য ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাদের প্রেমের মহিমাকে অক্ষুণ্ণ রাখে।

'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর প্রেমও ছিল সমাজস্বীকৃত প্রথার বিরুদ্ধে এক বিদ্রোহ। উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ মৃত্যুঞ্জয় নিম্নবর্ণের সাপুড়ে কন্যা বিলাসীকে ভালোবেসেছিলেন, যার ফলস্বরূপ তিনি সমাজচ্যুত হন। বিলাসী নিঃস্বার্থভাবে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করেছেন, আর মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর জন্য নিজের সব কিছু ত্যাগ করেছেন। উদ্দীপকের নদের চাঁদ যেমন মহুয়ার জন্য তার বাবা-মা ও সামাজিক অবস্থান ছেড়েছে, তেমনি মৃত্যুঞ্জয়ও বিলাসীর জন্য সমাজের যাবতীয় প্রতিষ্ঠা ও স্বীকৃতি বিসর্জন দিয়েছেন। উভয় ক্ষেত্রেই প্রেম অসাম্প্রদায়িক, আত্মত্যাগী এবং প্রথা-ভাঙা। তাদের প্রেম পরিণতিতে ট্র্যাজিক হলেও, তা অমর হয়ে আছে তাদের ত্যাগ ও ভালোবাসার গভীরতার জন্য।

সুতরাং, সামাজিক মর্যাদা ও জাতিগত ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে প্রেমকে প্রতিষ্ঠা করার যে সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং দুঃখময় পরিণতি, তা উদ্দীপকের মহুয়া-নদের চাঁদ এবং 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর প্রেমে একই সূত্রে গাঁথা। এই দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ যে, উদ্দীপকটি যেন 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
664
উত্তরঃ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত জীর্ণ, শ্রীহীন ও ভীতিপ্রদ। বিশাল বাড়িটি পরিচর্যার অভাবে জঙ্গলে পরিণত হয়েছিল, যেখানে সাপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ছিল। বাড়ির ভেতরেও স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করত এবং এটি প্রায় পরিত্যক্ত ভূমির মতো ছিল।

মৃত্যুঞ্জয়ের এই জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর বাড়ির পরিবেশ তার নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রতীক ছিল। সমাজের চোখে পতিত, রোগে জর্জরিত মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন যেমন ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছিল, তেমনি তার বাড়িটিও ছিল অবহেলিত ও মৃত্যুর প্রতীকী আবাসস্থল, যা তার ভাগ্যাহত জীবনের করুণ পরিণতিকে নির্দেশ করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
1.4k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রটি 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রের সাথে তুলনীয়। উভয় চরিত্রই সামাজিক মর্যাদা, কৌলীন্য এবং পারিবারিক ঐতিহ্য বিসর্জন দিয়ে প্রেমের জন্য আত্মত্যাগ করেছে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রটি তার প্রেমের জন্য সমাজের সকল বাধা অতিক্রম করে। সে একজন কুলীন ব্রাহ্মণ হওয়া সত্ত্বেও সর্পাঘাতে মৃতপ্রায় অবস্থায় সাপুড়ে মেয়ে বিলাসীকে বিবাহ করে। সমাজের চোখরাঙানি এবং আত্মীয়-স্বজনের নিন্দা উপেক্ষা করে সে বিলাসীর সাথে সাপুড়েদের পল্লীতে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি গ্রহণ করে। মৃত্যুঞ্জয় তার সামাজিক অবস্থান, বিত্ত-বৈভব এবং প্রথাগত সম্মান ত্যাগ করে শুধুমাত্র ভালবাসার জন্য একটি নিচু জাতের মেয়ের সাথে দরিদ্র জীবন বেছে নেয়।

ঠিক একইভাবে উদ্দীপকের নদের চাঁদও জমিদারপুত্র হয়ে সমাজের উঁচুতলার প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু সে হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে। তার পিতা জমিদার এই প্রেম মেনে না নেওয়ায় নদের চাঁদ মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাবা-মাকে ছেড়ে যায়। এমনকি হুমরাবেদে তাকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিষলক্ষার ডুরি তুলে দিলেও, নদের চাঁদ তার ভালোবাসার প্রতি অবিচল থাকে এবং মহুয়ার জন্য সকল প্রতিকূলতা ও আত্মত্যাগের মানসিকতা দেখায়। সামাজিক স্তরবিন্যাস ও শ্রেণি বিভাজনকে উপেক্ষা করে প্রেমের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার দিক থেকে নদের চাঁদ ও মৃত্যুঞ্জয় চরিত্র দুটি গভীরভাবে তুলনীয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
1.1k
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত মহুয়া ও নদের চাঁদের প্রেমের উপাখ্যান শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর অমর প্রেমের এক মর্মস্পর্শী প্রতিচ্ছবি। উভয় গল্পেই প্রেম সামাজিক বাধা, বর্ণভেদ এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু দিয়েও অপরাজিত থেকে এক অসাধারণ মহিমা লাভ করেছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, বেদে কন্যা মহুয়ার সাথে জমিদারপুত্র নদের চাঁদের প্রেম সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির পরিপন্থী। জমিদার নদের চাঁদের বাবা এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি এবং হুমরাবেদের দলকে গ্রামছাড়া করেন। কিন্তু নদের চাঁদ সামাজিক অবস্থান, পারিবারিক বন্ধন ত্যাগ করে মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাড়ি ছাড়ে। এই ত্যাগ তাদের প্রেমের গভীরতা প্রমাণ করে। প্রেমের প্রতি নদের চাঁদের এই অবিচল নিষ্ঠা তাদের সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়, যা সামাজিক বৈষম্য ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাদের প্রেমের মহিমাকে অক্ষুণ্ণ রাখে।

'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর প্রেমও ছিল সমাজস্বীকৃত প্রথার বিরুদ্ধে এক বিদ্রোহ। উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ মৃত্যুঞ্জয় নিম্নবর্ণের সাপুড়ে কন্যা বিলাসীকে ভালোবেসেছিলেন, যার ফলস্বরূপ তিনি সমাজচ্যুত হন। বিলাসী নিঃস্বার্থভাবে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করেছেন, আর মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর জন্য নিজের সব কিছু ত্যাগ করেছেন। উদ্দীপকের নদের চাঁদ যেমন মহুয়ার জন্য তার বাবা-মা ও সামাজিক অবস্থান ছেড়েছে, তেমনি মৃত্যুঞ্জয়ও বিলাসীর জন্য সমাজের যাবতীয় প্রতিষ্ঠা ও স্বীকৃতি বিসর্জন দিয়েছেন। উভয় ক্ষেত্রেই প্রেম অসাম্প্রদায়িক, আত্মত্যাগী এবং প্রথা-ভাঙা। তাদের প্রেম পরিণতিতে ট্র্যাজিক হলেও, তা অমর হয়ে আছে তাদের ত্যাগ ও ভালোবাসার গভীরতার জন্য।

সুতরাং, সামাজিক মর্যাদা ও জাতিগত ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে প্রেমকে প্রতিষ্ঠা করার যে সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং দুঃখময় পরিণতি, তা উদ্দীপকের মহুয়া-নদের চাঁদ এবং 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর প্রেমে একই সূত্রে গাঁথা। এই দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ যে, উদ্দীপকটি যেন 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
681
উত্তরঃ

‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

Satt AI
Satt AI
3 days ago
উত্তরঃ

ফুলদানিতে জল দিয়ে বাসি ফুল ভিজিয়ে রাখলে সাময়িকভাবে সেটিকে সতেজ ও সজীব দেখালেও তার প্রকৃত সজীবতা, সৌরভ ও প্রাণবন্ততা ফিরে আসে না। বরং এটি সাময়িকভাবে ক্ষয়িষ্ণু দশাকে ঢেকে রাখার এক কৃত্রিম প্রচেষ্টা মাত্র।

উক্তিটির মাধ্যমে এমন এক অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে যেখানে কোনো বিষয়, সম্পর্ক বা সৌন্দর্য তার মৌলিকত্ব ও স্বাভাবিক মাধুর্য হারিয়ে ফেলেছে, কিন্তু বাহ্যিক উপায়ে তাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর দ্বারা গভীরতা ও সজীবতার অভাব এবং কৃত্রিমতাকে নির্দেশ করা হয়, যা সময়ের সাথে সাথে যেকোনো কিছুর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও মূল্য হারানোকে ইঙ্গিত করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত চরণগুলোর মাধ্যমে 'বিলাসী' গল্পের জাতিভেদ প্রথা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মানবিকতার জয়লাভের দিকটি ফুটে উঠেছে। প্রেম ও মানবতাকে ছাপিয়ে যে ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং জাতপাতের সংকীর্ণতা সমাজে বিদ্যমান, উদ্দীপকটি সেই দিকটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পে সমাজের এই রক্ষণশীল ও অন্ধ জাতিভেদ প্রথার কদর্য রূপটি উন্মোচিত হয়েছে। গল্পের প্রধান চরিত্র ন্যাড়ার প্রতি বিলাসী নামের সাপুড়ে মেয়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং এই ভালোবাসার কারণে সমাজের চোখে ন্যাড়ার পতন, প্রকৃতপক্ষে জাতপাতের সংকীর্ণতাকে আঘাত করে মানব প্রেমের মাহাত্ম্যকেই তুলে ধরে। ন্যাড়া ব্রাহ্মণের ছেলে হয়েও নিম্নবর্গীয় বিলাসীকে ভালোবাসার কারণে সমাজচ্যুত হয়, যা তৎকালীন সমাজের নির্মম বাস্তবতাকে চিত্রিত করে।

উদ্দীপকের পংক্তিগুলোতে 'মালা' ও 'তসবি' ধারণ করে ভিন্ন জাত দাবি করার প্রবণতাকে প্রশ্ন করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে জন্ম বা মৃত্যুর সময় কোনো জাতের চিহ্ন থাকে না। এটি 'বিলাসী' গল্পের মূল সুরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উদ্দীপকের বক্তব্য ইঙ্গিত করে যে, বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান বা প্রতীক ধারণ করে মানুষ ভিন্ন পরিচয়ে পরিচিত হতে চাইলেও মানবসত্তা হিসেবে সবার মৌলিক পরিচয় এক। 'বিলাসী' গল্পে ন্যাড়ার প্রতি সমাজের অবিচার এবং বিলাসী ও ন্যাড়ার আত্মত্যাগ এই বার্তাই দেয় যে, মানবতা এবং নির্ভেজাল ভালোবাসা সকল জাতিভেদ, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক কুসংস্কারের ঊর্ধ্বে। উদ্দীপকের মূলভাব গল্পের এই প্রতিবাদী ও মানবতাবাদী দিকটিকে সমর্থন করে।

Satt AI
Satt AI
3 days ago
849
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews