উত্তরঃ
ডেসিবেল (Decibel - dB) হলো শব্দের তীব্রতা বা তীব্রতার মাত্রা পরিমাপের একটি লগারিদমিক একক। এটি দুটি ভিন্ন মাত্রার শব্দের শক্তির অনুপাত প্রকাশ করে, সাধারণত একটি রেফারেন্স স্তরের (যেমন মানুষের শ্রবণযোগ্য সর্বনিম্ন শব্দ) সাথে তুলনা করে। শব্দের তীব্রতার এই লগারিদমিক স্কেল মানুষের কানের শব্দ অনুভবের প্রাকৃতিক পদ্ধতিকে প্রতিফলিত করে, কারণ মানুষের কান তীব্রতার বিশাল পরিসরের শব্দের প্রতি সংবেদনশীল। ০ dB বলতে সাধারণত মানুষের শ্রবণযোগ্য সর্বনিম্ন শব্দ তীব্রতাকে বোঝানো হয়।
৯০ dB শব্দ বলতে বোঝায় একটি উচ্চ তীব্রতার শব্দ। এই মাত্রার শব্দ সাধারণত ভারী ট্র্যাফিক, ব্যস্ত কারখানা বা নির্মাণ স্থানের শব্দের সমতুল্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুসারে, ক্রমাগতভাবে ৮৫ dB বা তার বেশি মাত্রার শব্দের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের কানের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে এবং শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে। তাই ৯০ dB শব্দ মানুষের কানের জন্য সম্ভাব্য ক্ষতিকারক একটি উচ্চ শব্দমাত্রা নির্দেশ করে, বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ ধরে এর সংস্পর্শে থাকলে।
টেপ রেকর্ডারের টেপে শব্দ রেকর্ডিং:
টেপ রেকর্ডারের টেপে শব্দ রেকর্ডের জন্য সাধারণত একটি পাতলা প্লাস্টিকের ফিতার উপর ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থের (ferromagnetic material) একটি আস্তরণ থাকে, যেমন আয়রন অক্সাইড (iron oxide) বা ক্রোমিয়াম ডাইঅক্সাইড (chromium dioxide)। এই পদার্থগুলো অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চৌম্বক কণা দিয়ে গঠিত।
শব্দ রেকর্ডিং প্রক্রিয়া:
যখন একটি শব্দ রেকর্ড করা হয়, তখন মাইক্রোফোন শব্দ তরঙ্গকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করে। এই বৈদ্যুতিক সংকেতগুলি রেকর্ড হেড (record head) নামক একটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। রেকর্ড হেড টেপের ফেরোম্যাগনেটিক কণাগুলিকে শব্দ সংকেতের তীব্রতা ও কম্পন অনুযায়ী চৌম্বকীয় করে তোলে, অর্থাৎ চৌম্বকীয় প্যাটার্ন তৈরি করে। এভাবে, শব্দের অ্যানালগ রূপটি টেপের উপর চৌম্বকীয় পরিবর্তন হিসাবে সংরক্ষিত হয়।
পূর্বে রেকর্ডকৃত শব্দ তৈরি করার প্রক্রিয়া:
পূর্বে রেকর্ডকৃত শব্দ পুনরায় তৈরি করতে, চৌম্বকীয় টেপটি প্লেব্যাক হেড (playback head) নামক আরেকটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটের উপর দিয়ে ঘোরানো হয়। টেপের উপর সংরক্ষিত চৌম্বকীয় প্যাটার্ন যখন প্লেব্যাক হেডের পাশ দিয়ে যায়, তখন এটি হেডের কয়েলে একটি পরিবর্তনশীল চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে। ফ্যারাডের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন (Faraday's electromagnetic induction) নীতি অনুসারে, এই পরিবর্তনশীল চৌম্বকীয় ক্ষেত্র কয়েলে একটি বৈদ্যুতিক সংকেত প্ররোচিত করে। এই দুর্বল বৈদ্যুতিক সংকেতকে একটি বিবর্ধক (amplifier) দিয়ে বাড়ানো হয় এবং অবশেষে লাউডস্পিকারের (loudspeaker) মাধ্যমে এটি আবার শব্দ তরঙ্গে রূপান্তরিত হয়, যা আমরা শুনতে পাই।