সমাজবিজ্ঞান হলো এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান যা সামাজিক গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান, কর্মকাণ্ড, সম্পর্ক এবং ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার বিজ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধান করে।
সমাজকাঠামোর মূল ভিত্তি হওয়ার কারণে সমাজবিজ্ঞানীরা 'সামাজিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া'কে অত্যধিক গুরুত্ব প্রদান করেন।
বেশিরভাগ সমাজতাত্ত্বিক মনে করেন, সামাজিক সম্পর্কসমূহ হলো সামাজিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মূল ভিত্তি।এর ওপর ভিত্তি করে সমাজকাঠামোর স্বরূপ নির্ণয় করা যায়। আর এজন্য সমাজবিজ্ঞানীরা 'সামাজিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া' ধারণাটিকে অধিক গুরুত্ব প্রদান করেন।
ড. প্রীতিকুমার তার প্রতিষ্ঠানে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন কর্মী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সমাজবিজ্ঞান হলো মানবসমাজ ও সমাজবদ্ধ মানুষ-সম্পর্কিত যাবতীয় জ্ঞানের নির্ভরযোগ্য উৎস। সামাজিক সংগঠন, সামাজিক সমস্যা, সামাজিক রীতিনীতি, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, বহু বিচিত্র মানবিক সম্পর্ক প্রভৃতি সমাজবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে মানুষ এসব ধারণা সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান লাভ করে থাকে।
উদ্দীপকে বর্ণিত ড. প্রীতিকুমার ছিন্নমূল শিশুদের আচরণ, মূল্যবোধ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে নিজ এলাকায় 'আপন ভুবন' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের জন্য যাদের কয়েকটি বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান বা আচরণবিধি, সামাজিক মূল্যবোধ, মানবিকবোধ প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞান রয়েছে সেসব কর্মী নির্বাচনের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে কর্মী নিয়োগ দেন।
সুতরাং বলা যায়, ড. প্রীতিকুমার তার প্রতিষ্ঠানে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে পারদর্শী কর্মী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় তথা সমাজবিজ্ঞান পাঠের সামাজিক ও ব্যক্তিগত মূল্য অত্যধিক বলে আমি মনে করি।
সমাজবিজ্ঞানের মাধ্যমেই মানবসমাজ সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানের আগে মানবসমাজ নিয়ে কোনো বিজ্ঞান এত গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করেনি। সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে মানুষ সামাজিক সংগঠন, সামাজিক সমস্যা, সামাজিক রীতিনীতি, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ প্রভৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান লাভ করে থাকে। সমাজবিজ্ঞান সমাজস্থ মানুষকে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কে অবহিত করে। সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামাজিক নীতি নির্ধারণ ও তার বাস্তবায়নে সমাজবিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সামাজিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়নে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে আমরা সমাজস্থ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সম্পর্কে জানতে পারি। বস্তুত আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় জীবনের সব ক্ষেত্রের সাথে সমাজবিজ্ঞানের সম্পর্ক গভীর। এছাড়া সমাজের মানুষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, জীবনধারাসহ অন্যান্য অবস্থা সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ, যুক্তিনির্ভর ও তথ্যভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের জন্যও সমাজবিজ্ঞান পাঠের আবশ্যকতা রয়েছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে পারি যে, সমাজবিজ্ঞান পাঠের সামাজিক ও ব্যক্তিগত মূল্য অত্যধিক।
Related Question
View Allআচার-আচরণের পশ্চাতে মানসিক কারণ ছাড়া অর্থনৈতিক, র ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি শক্তির প্রভাব রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে যে কয়েকজন ব্যক্তির অবদান স্বীকার্যক তার মধ্যে ম্যাকিয়াভেলি অন্যতম। সমাজদর্শন প্রচার করতে গিয়ে তিনি বাস্তবতার আশ্রয় নিয়েছেন। এর মাধ্যমে ম্যাকিয়াভেলি নি সমাজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তার The Prince গ্রন্থে আলোচনা করেন। তার সমাজ আলোচনার মূল ভিত্তি ছিল মানব প্রকৃতি ও মানব মনোভাব। তৎকালীন সময়ে সমাজের মানুষ যে নৈরাজ্যকর অবস্থায় ছিল ম্যাকিয়াভেলি তার সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দেন যা সমাজবিজ্ঞান বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হলো ধর্ম। কারণ ধর্ম হচ্ছে অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস। ধর্মে জ্ঞান, অনুভূতি ও ক্রিয়ার এক সার্থক সমন্বয় দেখা দেয়। এছাড়া মানুষ পার্থিব ও অপার্থিব কোনো কিছু পাওয়ার আশায় এ শক্তিতে বিশ্বাস করে। ধর্ম সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
সমাজজীবনে ধর্মের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে জাতি ও গোষ্ঠীগত পার্থক্য এবং শ্রেণিবিভাজন পরিলক্ষিত হয়। ধর্ম মানুষের আচরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ইত্যাদিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সমাজ বা গোষ্ঠীগত স্বকীয়তা দান করে। ধর্মীয় মূল্যবোধ, বিশ্বাস, ধর্মের উৎপত্তি ও এর বিকাশ, ধর্মের গুরুত্ব, ধর্মের প্রভাব, ধর্মের প্রকারভেদ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এর কার্যকারিতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে।
সুতরাং আমরা যথার্থই বলতে পারি যে, স্যারের আলোচিত ধর্ম সম্পর্কিত জ্ঞান সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
ধর্ম ছাড়াও সকল সামাজিক ঘটনাই সমাজবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়বস্তুর অন্তর্গত। প্রতিনিয়ত সমাজবিজ্ঞানের নতুন নতুন শাখার উদ্ভব ঘটছে। নিচে সমাজবিজ্ঞানের শাখাসমূহ উল্লেখ করা হলো- মানবসমাজের সবচেয়ে আদিম সংগঠন হলো পরিবার। প্রাচীনকালে পরিবারকে কেন্দ্র করেই মানবসমাজের সব কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হতো। সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম শাখা হলো পরিবারের সমাজবিজ্ঞান।
ঐতিহাসিক সমাজবিজ্ঞানে প্রাচীন সমাজ, সমাজের উদ্ভব, বিকাশ এবং বর্তমান সমাজের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গবেষণা করা হয়।
সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম উপাদান হচ্ছে জনসংখ্যা। জনগণই সমাজের গোড়াপত্তন করে। সমাজ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করতে হলে জনসংখ্যার কাঠামো, বণ্টন, বয়ঃকাঠামো, আদমশুমারি, জনসংখ্যা তত্ত্ব ইত্যাদি সম্পর্কে জানা অপরিহার্য।
অপরাধ, অপরাধপ্রবণতা, দারিদ্র্য, কিশোর অপরাধ, অপরাধের কারণ, অপরাধের স্বরূপ প্রভৃতি নিয়ে অপরাধ সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে।
রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয়াদির সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি, গোষ্ঠী তথা নাগরিকের সম্পর্ক নিরূপণ করে।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, সমাজবিজ্ঞানের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।
'ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও মালিকানা সব দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং শোষণের মূল'- উক্তিটি জার্মান দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ কার্ল মার্কস-এর।
সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে আমেরিকান আইনবিদ ও সামাজিক নৃবিজ্ঞানী লুইস হেনরি মর্গান অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।
ইরোকুয়া ইন্ডিয়ান নৃগোষ্ঠীর উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কে গবেষণা করে হেনরি মর্গান ১৮৭৭ সালে রচনা করেন 'Ancient Society', যেখানে তিনি সমাজ বিবর্তনের তিনটি ধাপ চিহ্নিত করেন; যথা- বন্যদশা, বর্বরদশা ও সভ্যতা। এছাড়া মর্গান আদিম পরিবারব্যবস্থা, বিবাহ এবং সম্পত্তির বিকাশ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন, যা সামাজিক নৃবিজ্ঞানের ভিত্তিমূল হিসেবে বিবেচিত হয়। বস্তুত নতুন একটি বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের পথচলায় লুইস হেনরি মর্গানের বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!