বুদ্ধ, বুদ্ধের শিষ্য-প্রশিষ্য, উপাসক-উপাসিকা, রাজন্যবর্গ এবং পণ্ডিত ভিক্ষুদের স্মৃতিবিজড়িত অনেক স্থান, বিহার এবং চৈত্য আছে। যেগুলো বৌদ্ধ ঐতিহ্য এবং দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এসব ঐতিহ্য এবং দর্শনীয় স্থানসমূহ ছড়িয়ে আছে। তারমধ্যে অনেকগুলোই ভারতে অবস্থিত। এ অধ্যায়ে আমরা নালন্দা, রাজগৃহ, শ্রাবস্তী, তক্ষশীলা প্রভৃতি বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে পড়ব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা -
- ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থ ও দর্শনীয় স্থানসমূহের বর্ণনা দিতে পারব।
- বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও স্থানসমূহ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহের ধর্মীয় গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব।
Related Question
View Allসম্রাট অশোক নির্মিত স্তম্ভের মধ্যে শীর্ষ স্তন্ড হলো হস্তীর প্রস্তর ভাস্কর্য।
বৌদ্ধধর্মের অনুসারীদের কাছে বুদ্ধ এবং তাঁর শিষ্যদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহ তীর্থস্থান হিসেবে শ্রদ্ধা লাভ করে। তীর্থস্থান ভ্রমণে পুণ্য হয়। তাই বৌদ্ধরা শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এসব স্থান ভ্রমণ করেন। ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশে এরূপ অনেক বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান আছে।
প্রীতমের বর্ণনায় জেতবন বিহার তীর্থস্থানের চিত্র ফুটে উঠেছে।
যেটি বুদ্ধের সময়কালে শ্রাবস্তীর শ্রেষ্ঠ ধনী শ্রেষ্ঠী সুদত্ত বুদ্ধের বসবাসের জন্য নির্মাণ করেন। এটি জেত রাজকুমারের উদ্যান। এটি বিক্রয় করতে রাজি না হওয়ায় বুদ্ধভক্ত শ্রেষ্ঠী সুদত্ত জমির আয়তনের সমপরিমাণ স্বর্ণমুদ্রা ছড়িয়ে স্থানটি ক্রয় করেন এবং সেখানে জেতবন বিহার নির্মাণ করেন। এ বিহারে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য শয়ন কক্ষ, প্রার্থনা কক্ষ, রান্নাঘর, স্নানঘর, শৌচাগার, পুকুর, কূপ ও অন্যান্য ব্যবস্থাদি ছিল। জেত রাজকুমার বিহারের তোরণ নির্মাণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে তোরণের পাশে সম্রাট অশোক উঁচু স্তম্ভ নির্মাণ করেন। জেতবন বিহারের চারদিকে প্রচুর গাছপালা ছিল। পরিবেশ ছিল ধ্যান সাধনার অনুকূল। তাই বুদ্ধ এ বিহার খুব পছন্দ করতেন। তিনি এখানে উনিশ বর্ষাবাস পালন করেন। কালের গর্ভে জেতবন বিহারটি হারিয়ে যায়।
বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্য-প্রশিষ্যদের স্মৃতি বিজড়িত দর্শনীয় স্থানকে তীর্থস্থান বলে। যা কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পদ নয়; বরং তীর্থস্থানগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। যার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারের নয়। প্রত্যেক মানুষেরই এ দর্শনীয় স্থানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্ব রয়েছে। তীর্থস্থানগুলো আমাদের হারিয়ে যাওয়া গৌরবের উজ্জ্বলতম স্বাক্ষর বহন করে। তীর্থস্থান দর্শনে পুণ্য অর্জিত হয়। মনের কলুষতা দূর হয়। দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। ধর্মীয় অনুভব জাগ্রত হয়। আমাদের নতুন প্রজন্ম ঐতিহাসিক তীর্থস্থানসমূহ দর্শন করে নিজেদের মনে হারানো গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হবে। আলোচ্য কারণে প্রীতমের দাদা তীর্থস্থানগুলো সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন।
শ্রাবস্তীর শ্রেষ্ঠ ধনী এবং শ্রেষ্ঠ দানবীর শ্রেষ্ঠী সুদত্তকে 'অনাথপিণ্ডিক' নামে ডাকার যথার্থ কারণ হচ্ছে তিনি অনাথের পিন্ড দাতা ছিলেন বলে তাঁকে এ নামে ডাকা হতো। বুদ্ধের সময়কালে ভারতবর্ষে তাঁর দাদার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল।
শিক্ষার্থীদের প্রথম দিনের দর্শনীয় স্থানটি ছিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। সম্রাট অশোক অগ্রশ্রাবকের স্মরণে নালন্দায় একটি সুবৃহৎ সঙ্ঘারাম নির্মাণ করেছিলেন। সেটি নালন্দা মহাবিহার নামে খ্যাত হয়। বিহারটিকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। অনুমান করা হয়, খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকের পর নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বাংলার কৃতী সন্তান মহাপণ্ডিত ভিক্ষু ষষ্ঠ শতাব্দীতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ছিলেন। বৌদ্ধধর্ম দর্শন চর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিদ্যাপীঠের পাঠ্যক্রমের উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল বৌদ্ধ, বৈদিক ও ব্রাহ্মণ্য বিষয়ক সাহিত্য, দর্শন, অলঙ্কার শাস্ত্র, ব্যাকরণ শাস্ত্র, জ্যোতিষ শাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা প্রভৃতি। এছাড়া নানা নিয়মানুবর্তিতা, শিষ্টাচার, গভীর পাণ্ডিত্য ও আদর্শগত শিক্ষা এখানে দেওয়া হতো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!