একটি দেশের নাগরিক নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) যে সকল দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP)।
দরিদ্র লোকের পর্যাপ্ত খাদ্য থাকে না বলে তারা দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। এরা কাজ পায় না বা করতে পারে না। ফলে তাদের আয় কম হয়। কম আয়ের কারণে তারা সঞ্চয় করতে পারে না বা কম সঞ্চয় করে। এভাবে স্বল্প আয়, স্বল্প সঞ্চয়, স্বল্প বিনিয়োগ, স্বল্প মূলধন চক্রাকারে আবর্তিত হয়। এটিই দরিদ্রদের চক্রাকার আবর্তন।
উদ্দীপকে তনিমা তার গ্রামে ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করার মাধ্যমে মানবসম্পদ তৈরিতে সচেষ্ট রয়েছে।
রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে পারে এমন মানুষই হলো মানব সম্পদ। এরা কেউ শারীরিক শ্রম দিয়ে দেশের জন্য সম্পদ তৈরিতে সহায়তা করে আবার কেউ মেধা দিয়ে নতুন নতুন সম্পদ উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখে। মানুষ যাতে দেশের উৎপাদন ও সেবায় ভূমিকা রাখতে পারে এমন শ্রমশক্তি বা দক্ষতা সম্পন্ন করে গড়ে তোলাই হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন। উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বাসস্থান, চিকিৎসা ও খাদ্যের সংস্থানের মাধ্যমেই মানব সম্পদের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।
তনিমা গ্রামে স্থানীয় মানুষদের সহায়তায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করেছেন। ফলে তারা দক্ষ হয়ে বিভিন্ন পেশায় কাজ করছে।
সুতরাং বলতে পারি, তনিমা ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করার মাধ্যমে তাদেরকে দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করেছে যা মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম পন্থা।
উদ্দীপকে সাকিলা দূরপ্রাচ্যের একটি দেশে চাকরিরত প্রবাসী।
তার প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রবাসী কর্মরত নাগরিকদের স্বদেশে প্রেরিত অর্থকে রেমিটেন্স বলা হয়। তাই সাকিলার প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রাও রেমিটেন্স। সাকিলাদের এ রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতির বিভিন্নভাবে সহায়তা করে। এর দ্বারা তার পরিবারের সচ্ছলতা আসে। এ অর্থ কেবল তার পরিবারের জীবনযাত্রার মানই বাড়াচ্ছে না। নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের বড় অংশ আসছে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স থেকে।
এছাড়াও দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে না পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে সাকিলাদের প্রেরিত অর্থ। বাংলাদেশের অর্থনীতি উন্নতির পিছনে রেমিটেন্সের বৃদ্ধি অন্যতম কারণ। বিশ্বব্যাংকের মতে, রেমিটেন্স প্রাপ্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৮ম।
তাই বলতে পারি, সাকিলার প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। আর কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায়। তাই বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়ে থাকে।
একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতিবছরে উৎপাদিত সকল চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মোট অর্থমূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলা হয়। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বা সামগ্রিক আয় বোঝার জন্য ব্যবহৃত হয়।
মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) হলো একটি দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার অর্থমূল্যের যোগফল। এতে দেশের নাগরিকদের বিদেশে করা আয়ের যোগ হয় এবং বিদেশিদের দেশে করা আয় বাদ দেওয়া হয়।
মাথাপিছু আয় হলো একটি দেশের মোট জাতীয় আয়ের সাথে সে দেশের জনসংখ্যার ভাগফল। এটি দেশের নাগরিকদের গড় আয় বোঝায়। মাথাপিছু আয় বেশি হলে সাধারণত দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পরিচায়ক হয়।
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতের উন্নয়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি। এই লক্ষ্যে শিল্প, সেবা এবং কৃষিখাতের উন্নয়ন প্রয়োজন। এছাড়াও দারিদ্র্য দূরীকরণ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) সাধারণত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি ও আয়ের পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ এবং দেশের অর্থনীতির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!