"তরুণ নামের জয়-মকুট শুধু তাহারই যাহার শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তন্ডপ্রায়, বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উৎসাহ, বিরাট যাহার ঔদার্য, অফুরন্ত যাহার প্রাণ, অটল যাহার সাধনা, মৃত্যু যাহার মুঠিতলে।"

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
Satt AI
Satt AI
3 days ago
উত্তরঃ

“তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা” বলতে অদম্য প্রাণশক্তি ও অফুরন্ত সম্ভাবনায় ভরপুর তরুণদের জীবনে নেমে আসা সীমাহীন কষ্ট, হতাশা ও বঞ্চনাকে বোঝানো হয়েছে। যখন তরুণদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাগুলো বাস্তবতার কঠোর আঘাতে নিষ্পেষিত হয়, তখন তাদের সজীব মনে যে তীব্র বেদনার সৃষ্টি হয়, তাই এখানে বর্ণিত হয়েছে।

সমাজ, রাষ্ট্র বা পারিপার্শ্বিকতার কারণে অনেক সময় তরুণদের সৃজনশীলতা, উদ্দীপনা ও উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়। দারিদ্র্য, শোষণ, অন্যায় বা সুযোগের অভাবে তরুণদের সম্ভাবনাময় জীবন যখন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন তাদের সতেজ প্রাণে অসহনীয় কষ্ট বাসা বাঁধে, যা তাদের মানসিক ও আত্মিক শক্তিকে দুর্বল করে তোলে।

Satt AI
Satt AI
3 days ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে তারুণ্যের এক প্রখর ও বিজয়ী রূপের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, তরুণ নামের জয়মুকুট কেবল সেই মানুষটিরই যোগ্য যার শক্তি অপরিসীম, গতিবেগ ঝড়ের মতো দ্রুত, তেজ নির্মেঘ আষাঢ়ের মধ্যাহ্ন সূর্যের মতো প্রখর। এমন তরুণদের আশা হয় বিশাল, উৎসাহ হয় ক্লান্তিহীন, উদারতা হয় বিরাট, প্রাণশক্তি হয় অফুরন্ত এবং সাধনা হয় অটল। তাদের শক্তি এত বেশি যে, মৃত্যুও যেন তাদের হাতের মুঠোয় থাকে। এটি মূলত তারুণ্যের অদম্য ক্ষমতা, বিপুল সম্ভাবনা এবং বিজয়ী মানসিকতার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তারুণ্যের উদ্দীপনা, সাহস ও অমিত সম্ভাবনার পাশাপাশি এর কিছু সংকটপূর্ণ দিকও উন্মোচিত হয়েছে। কবি বলেছেন, আঠারো বছর বয়স নতুন কিছু সৃষ্টির তাড়না নিয়ে আসে, দুরন্ত সাহসে ভরা থাকে এবং রক্তদানের মতো মহৎ ত্যাগের তাৎপর্য বুঝতে পারে। এ বয়স একদিকে যেমন বিপদ-আপদের মুখোমুখি হয়, তেমনি অপ্রত্যাশিত আঘাত ও বেদনায়ও মন কেঁপে ওঠে। কবিতাটি তারুণ্যের প্রখর জীবন্ত শক্তি, দৃঢ় সংকল্প এবং নতুনত্ব সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে এর সহজাত অস্থিরতা ও ঝুঁকিপ্রবণতার একটি ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।

উদ্দীপকের ভাবার্থের সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার এক নিবিড় সাদৃশ্য বিদ্যমান। উদ্দীপকে তারুণ্যের যে 'অপরিমাণ শক্তি', 'ঝঞ্ঝার ন্যায় গতিবেগ', 'বিপুল আশা', 'ক্লান্তিহীন উৎসাহ' এবং 'অটল সাধনা'র কথা বলা হয়েছে, তা 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার 'এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য', 'এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে', 'এ বয়স দারুণ দুঃসাহসে ভয়াল' প্রভৃতি পঙ্‌ক্তির সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়। উভয় ক্ষেত্রেই তারুণ্যকে অদম্য প্রাণশক্তি, উদ্যম, সৃষ্টিশীলতা এবং যেকোনো প্রতিকূলতা বা বিপদ জয় করার জন্য অপরিহার্য সাহস ও দৃঢ় মানসিকতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উদ্দীপকের 'মৃত্যু যাহার মুঠিতলে' উক্তিটিও কবিতার 'এ বয়স বাঁচে দুর্বিপাকে' ভাবনার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়ে তারুণ্যের অসীম ক্ষমতার ইঙ্গিত বহন করে।

Satt AI
Satt AI
3 days ago
উত্তরঃ

তারুণ্য হলো জীবনের সেই সময়কাল যখন শারীরিক ও মানসিক শক্তি থাকে অফুরন্ত, মন থাকে স্বপ্ন ও আশায় পূর্ণ এবং চারপাশের প্রচলিত ধারার প্রতি এক ধরনের অসন্তোষ কাজ করে। এই অপরিসীম শক্তি, অদম্য সাহস ও উদ্যম তারুণ্যকে সমাজ বিনির্মাণের এক অপরিহার্য চালিকাশক্তিতে পরিণত করে। তারুণ্যের এই অমিত সম্ভাবনা থেকেই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নতুনত্ব আসে, পরিবর্তন আসে এবং আসে প্রগতি।

উদ্দীপকে তরুণ নামের জয়-মুকুট পরার জন্য যে গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে, তা সমাজ পরিবর্তনে তারুণ্যের ভূমিকাকেই জোরদার করে। 'অপরিমাণ শক্তি', 'ঝঞ্ঝার ন্যায় গতিবেগ', 'নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তন্ডপ্রায় তেজ', 'বিপুল আশা', 'ক্লান্তিহীন উৎসাহ', 'বিরাট ঔদার্য', 'অফুরন্ত প্রাণ', 'অটল সাধনা' এবং 'মৃত্যু যাহার মুঠিতলে' – এই প্রতিটি বৈশিষ্ট্য তারুণ্যের সেই অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতাকে নির্দেশ করে যা যেকোনো বাধা অতিক্রম করে নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য অপরিহার্য। একটি স্থবির সমাজকে গতিশীল করতে, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণে এই গুণাবলি সম্পন্ন তরুণদের কোনো বিকল্প নেই। উদ্দীপকের এই বৈশিষ্ট্যগুলো তারুণ্যকে শুধুমাত্র একটি বয়সের গণ্ডিতে আবদ্ধ না রেখে এটিকে একটি আদর্শিক অবস্থানে স্থাপন করেছে, যা যেকোনো সামাজিক পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তারুণ্যের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা সমাজ বিনির্মাণের চালিকাশক্তি হিসেবে তারুণ্যের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে। কবি আঠারো বছর বয়সকে 'দুঃসহ', 'ভয়ংকর' এবং 'বিপদসংকুল' হিসেবে বর্ণনা করলেও এর মধ্যেই দেখেছেন 'তাৎপর্যপূর্ণ সাহস', 'রক্তের উন্মাদনা', 'নতুন কিছু করার দুর্বার আকাঙ্ক্ষা'। এই বয়সই 'দুর্গমকে করে জয়', 'বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় উঁকি', 'এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য'। সমাজে যা কিছু জরাজীর্ণ, যা কিছু পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ, যা কিছু অগ্রগতির পথে বাধা, তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার শক্তি ও সাহস এই তারুণ্যেরই থাকে। তাই সমাজকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য, পুরোনো আবর্জনা দূর করে নতুন চিন্তাধারা প্রবর্তন করার জন্য তারুণ্যের অমিত তেজ অপরিহার্য।

সুতরাং, উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাব বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট যে, তারুণ্যই সমাজ বিনির্মাণের মূল চালিকাশক্তি। তারুণ্যের উদ্ভাবনী শক্তি, অদম্য সাহস এবং প্রথা ভাঙার মানসিকতা সমাজকে নতুন পথে চালিত করে। যুগে যুগে পৃথিবীতে যত বিপ্লব, সংস্কার, বা নতুন ধারার সূচনা হয়েছে, তার মূলে ছিল তারুণ্যের শক্তি ও নেতৃত্ব। তাই সমাজকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে হলে তারুণ্যের শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং তাদের স্বপ্নকে ধারণ করা অপরিহার্য।

Satt AI
Satt AI
3 days ago
343

আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ 

স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি, 

আঠারো বছর বয়সেই অহরহ 

বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি ।

[ আঠারো বছর বয়সের নেই ভয় 

পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা, 

এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়- 

আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা ।

এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য 

বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে, 

প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য 

সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে ।

(আঠারো বছর বয়স ভয়ংকর) * 

তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা, 

এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর

 এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা ।

আঠারো বছর বয়স যে দুর্বার 

পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান,

 দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার

 ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্র প্রাণ । 

আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে 

অবিশ্রান্ত; একে একে হয় জড়ো, 

এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে 

এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো 

তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি, 

এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে, 

বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী 

এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে । 

এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয় 

পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে, 

এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়— 

দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে ৷৷

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews