নারী ও পুরুষ একে অপরের সহযোগী, সমাজের উন্নতি সাধনের জন্য নারী ও পুরুষ উভয়কেই একসঙ্গে পথ চলতে হবে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের এ বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে আলোচ্য উত্তিতে।
অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া নারীসমাজের বিশেষ করে মুসলমান নারীসমাজের উন্নতি কামনা করেছেন। আর এ উন্নতির জন্য নারী সমাজ কোনো না কোনোভাবে পুরুষের উপর নির্ভরশীল। সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। নারীরা সমাজের একটি বৃহত্তর অংশ, তাই তাদের উন্নতি মানেই সমাজের উন্নতি বলে লেখক মনে করেন।
উদ্দীপকে মনিকা নারী-পুরুষের সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট করতে গিয়ে তরুলতার সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের বিষয় উদাহরণস্বরূপ এনেছে। এ পৃথিবীতে প্রত্যেকে প্রত্যেকের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও নারীরা মেধা, মনন ও মানসিক শক্তিতে পুরুষকে সহযোগিতা করে সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে। তাই মনিকা, বলতে চেয়েছে, তরুলতার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যেমন মেঘ অর্থাৎ পানি দরকার; তেমনই মেঘের অস্তিত্বের জন্যও দরকার তরুলতা বা উদ্ভিদ। এভাবেই নারী-পুরুষ একে অপরের সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজ ও সংসারের উন্নতি সম্ভব হয়। এক অংশ বাদ দিয়ে অন্য অংশের উন্নতি বা সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন যে, সমাজের অগ্রগতি নারী ও পুরুষ উভয়ের উপর নির্ভরশীল। এ কারণে নারী ও পুরুষ নিজ নিজ উন্নতি 'সাধনের জন্যও একে অপরের উপর নির্ভরশীল। উদ্দীপকেও এ বিষয়টিই বোঝানো হয়েছে যে, নারী ও পুরুষ যদি একে অন্যকে সহায়তা করে তবেই সংসার সুখের হয়ে ওঠে।
Related Question
View All'শমস-উল-ওলামা' অর্থ জ্ঞানীদের মধ্যে সূর্য।
স্বামী'র স্থলে 'অর্ধাঙ্গ' শব্দটি প্রচলিত হলে নারীরা নিজেদের দাসী না ভেবে প্রকৃত অর্থেই স্বামীর অর্ধাঙ্গী ভাবতে'পারবে এবং মানসিক দাসত্ব থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হবে।
সুস্থভাবে জীবনযাপন করার জন্য শরীরের প্রতিটি অঙ্গই যেমন মূল্যবান, সমাজে নারী-পুরুষও ঠিক তেমনই। পুরুষ যদি নারীর প্রভু হয় তাহলে উন্নয়নের গতি স্থবির হয়ে পড়ে। এ কারণে 'স্বামী' বা 'প্রভু' শব্দের পরিবর্তে 'অর্ধাঙ্গ' শব্দটি প্রচলিত হওয়া উচিত। তাহলে নারীরা নিজেদের পুরুষের সহযোগী ভাবতে পারবে।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে পরিবারে মেয়েদের অবহেলিত হওয়ার বাস্তবানুগ চিত্র এঁকেছেন যা উদ্দীপকে বর্ণিত পরিবারের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়।
অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া নারীর সামাজিক অবস্থানের চিত্র তুলে ধরেছেন। পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষতান্ত্রিক চেতনা থেকে পুরুষদের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়। অন্যদিকে নারীর মৌলিক চাহিদাগুলোও অপূর্ণ থাকে। শুধু নারী বলেই তাদেরকে স্নেহ-ভালোবাসা ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বিয়ে ছাড়া তাদের কোনো গতি থাকে না।
উদ্দীপকে রেণু ও রাজু একই বাবা-মায়ের সন্তান হলেও মেয়ে বলে রেণুকে বঞ্চনার শিকার হতে হয়। স্নেহ থেকে শুরু করে পড়াশোনা পর্যন্ত সবখানেই তাকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বিয়ে দেওয়ার জন্য তার বাবা-মা ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তাঁদের মতে, মেয়েদের এত লেখাপড়া শেখার দরকার নেই বরং তাদের গৃহস্থালির কাজ শেখা উচিত। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও দেখানো হয়েছে যে, আমাদের সমাজে নারীর অবস্থান পুরুষের চেয়ে অনেকাংশে কম। পুরুষেরা পার্থিব-অপার্থিব সকল সুযোগ-সুবিধা অধিক মাত্রায় ভোগ করতে পারলেও নারীরা তা পারে না।
উদ্দীপকে রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে আমাদের সমাজে নারীর প্রতি অবহেলার চিত্র প্রকাশিত হয়েছে যা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আমাদের সমাজে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন। পুরুষতান্ত্রিক এ সমাজে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে অসমর্থ। পরিবারের সদস্যরাও তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে। এমনকি পরিবারের একজন নারী সদস্যও অন্য নারীর অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সচেতন হয় না। উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে একটি পরিবারের গল্প। গল্পটিতে রেণু-রাজু-দু ভাইবোনের প্রতি তাদের বাবা-মার আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। রেণু ও রাজু ভাইবোন হলেও তাদের মা রেণুর চেয়ে রাজুকে বেশি ভালোবাসেন। খাবারের ক্ষেত্রেও তিনি রাজুকেই প্রাধান্য দেন। কোনো অপরাধ করলে ছেলে বলে তার কোনো বিচার হয় না। এমনকি রাজুর লেখাপড়ার জন্য গৃহশিক্ষক রাখা হলেও রেণুর জন্য তা রাখা হয় না।
উদ্দীপকে অপরিণত বয়সে রেণুর আপত্তি সত্ত্বেও তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠার মধ্য দিয়ে তার মা সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দেন। গতানুগতিক সবার মতো তিনিও মনে করেন মেয়েদের বেশি লেখাপড়া শেখার দরকার নেই। বরং ঘর-গৃহস্থালির কাজকর্ম শিখলে তা তার ভবিষ্যতে কাজে আসবে। মূলত রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে নারীদের প্রতি সমাজের প্রচলিত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। উদ্দীপকে রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে নারীর প্রতি পরিবারের অবহেলার চিত্রটি প্রকাশিত হয়েছে, যা আলোচ্য প্রবন্ধেরই প্রতিরূপ
অবরোধ প্রথা হলো অন্তঃপুরে লোকচক্ষুর আড়ালে মেয়েদের আটক রাখার নিয়ম।
সমাজে নারী ও পুরুষের জীবনযাপনের পার্থক্য নির্দেশ করতেই 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নবদম্পতির প্রেমালাপ' কবিতাটি সংযুক্ত করা হয়েছে'।
আমাদের সমাজে পুরুষ ও নারীকে অভিন্ন সত্তা ভাবা হয় না বলে তাদের জীবনযাপন প্রণালিতেও দেখা যায় ব্যাপক বৈসাদৃশ্য। 'নবদম্পতির প্রেমালাপ' কবিতায় নববিবাহিত বর ও কনের কতিপয় সংলাপের ভেতর দিয়ে এই দৃশ্যই প্রতীয়মান হয়। কবিতা থেকে দেখা যায় যে, কন্যাকে এমন শিক্ষা দেওয়া হয় যাতে সে স্বামীর ছায়াতুল্য সহচরী হতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!