যে বসতির সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী জীবিকা অর্জনের জন্য প্রথম পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তথা কৃষির উপর নির্ভরশীল তাকে গ্রামীণ বসতি বলে।
নদীর তীরে রৈখিক বসতি গড়ে ওঠে। এ ধরনের বসতিতে বাড়িগুলো একই সবলরেখায় গড়ে ওঠে। প্রধানত প্রাকৃতিক এবং কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক কারণ এই ধরনের বসতি গড়ে ওঠতে সাহায্যে করে। নদীর প্রাকৃতিক বাঁধ, নদীর কিনারা এসব স্থানে; এই ধরনের বসতি গড়ে ওঠে।
লাউদ্দীপকে উল্লিখিত ঢাকা শহরটি প্রশাসনিক শহর। অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে ওঠা শহরটি হলো চট্টগ্রাম। এটি একটি বাণিজ্যভিত্তিক শহর।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্র হলো নগর। শাসনব্যবস্থার প্রয়োজনে সাধারণত কোনো কেন্দ্রীয় শহরকে রাজধানীর রূপ দেওয়া হয় এবং সেখানে পৌর বসতির প্রসার ঘটে। ঢাকা শহরটি এভাবে গড়ে উঠেছে। ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ৫০ লক্ষের অধিক হওয়ায় শহরটি বর্তমানে মেগাসিটি হিসাবে পরিচিত।
অপরদিকে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণ চট্টগ্রাম মূলত একটি বাণিজ্যিক নগর। নগরায়নের ধারায় ক্ষুদ্র বিনিময় কেন্দ্র সম্প্রসারিত হয়ে পৌর বসতিতে রূপান্তরিত হয়। বিনিময় কেন্দ্রভিত্তিক একটি বাজার সৃষ্টি হয়। এই সকল স্থানীয় বাজার বিভিন্ন দিক থেকে আগত পথের মিলনস্থানে গড়ে ওঠে। শহর ও নগর বিকাশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আজও অত্যন্ত ক্রিয়াশীল। কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম শহর এভাবেই গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সিংহ ভাগ এ নগরকেন্দ্রিক। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যেও এর অবদান অসামান্য। চট্টগ্রাম শহরের জনসংখ্যা ১০ লক্ষের বেশি কিন্তু ৫০ লক্ষের কম হওয়ায় এটি - মহানগরী নাম পরিচিতি লাভ করেছে।
তানহা ঢাকা শহরে বসবাস করে। এটি পরিকল্পিত নগর নয়।
অধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঢাকা নগরীকে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। ঢাকা দেশের বৃহত্তম ও রাজধানী শহর। তাই এখানে অধিক সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির আশায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এত জনগণের জায়গা সংকুলানের জন্য দ্রুত আবাসন সৃষ্টি করতে হচ্ছে। ফলে সঠিক প্রক্রিয়ায় পরিকল্পিতভাবে নগরী গড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জনসংখ্যা অধিক হওয়ায় কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে শহরের আশেপাশে বৃহৎ শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে আবার এসব জায়গায় জনগণের আবাসনও তৈরি হচ্ছে। ফলে ঢাকা শহরের খাবার পানি ও উপযুক্ত পয়ঃনিষ্কাশনের সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। বর্জ্য অপসারণ সমস্যা, পরিবহন ও যানজট সংকট, বাসস্থানের অভাব ও বস্তির সৃষ্টি, পানি, বায়ু, মাটি ও শব্দ দূষণ ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান
নগরবাসীর জন্য এসব সমস্যার সমাধান করা দুরুহ হয়ে পড়ছে। ফলে পরিকল্পনাহীন ব্যবস্থাপনা ও দুর্বল অর্থনীতির কারণে পরিকল্পিত নগরায়ণ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সুতরাং, আমি মনে করি তানহার বসবাসকৃত শহর ঢাকা অপরিকল্পিত।
Related Question
View Allমুসলিম সভ্যতায় (অষ্টম শতাব্দী থেকে) নগরায়ণের প্রসার ঘটে।
মাটির উর্বরাশক্তির ওপর নির্ভর করে বসতি স্থাপন করা হয়।
উর্বর মাটিতে পুঞ্জীভূত বসতি গড়ে ওঠে। মানুষ কৃষিজমির পাশে বসতি গড়ে তোলে যাতে করে সহজে ও কম খরচে ফসল ফলাতে পারে এবং খাদ্যের চাহিদা মেটাতে পারে। যেমন- যমুনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল। কিন্তু মাটি অনুর্বর বা অসমতল হলে বিক্ষিপ্ত জনবসতি গড়ে ওঠে। যেমন- চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!