ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় সালামের হাত থেকে নক্ষত্রের মতো অবিনাশী বর্ণমালা ঝরে।
ঘাতকের আস্তানা' বলতে স্বৈরাচারী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্মম নির্যাতনের শিকার পরাধীন বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে। এখানে ঘাতক হলো পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও আস্তানা হলো তাদের দ্বারা নির্যাতিত পরাধীন বাংলাদেশ। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি নানাভাবে শাসন-শোষণের শিকার হতে থাকে। শাসকবর্গ এ দেশের মানুষের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অত্যাচার চালাতে থাকে। তাদের এই ঘাতকসম অত্যাচারের জন্যই কবি পরাধীন বাংলাদেশকে ঘাতকের আস্তানা বলেছেন।
উদ্দীপকের তপুর কপালের রক্তের মধ্য দিয়ে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার ভাষা শহিদদের জীবন উৎসর্গ করার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিরোদ্ধে বাঙালি ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দেলন-সংগ্রাম গড়ে তোলে। এই সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে ১৯৫২ সালের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলনের চেতনা। কবি ভাষার দাবিতে মিছিলে শহীদ হওয়া সালাম, রফিক ও বরকতের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ দেখতে পান শহরের পথে পথে ফুটা কৃষ্ণচূড়ার মধ্যে।
উদ্দীপকের তপু ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে অংশগ্রহণ করে। সে মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করলে তপু গুলির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার কপালের ঠিক মাঝখানে গুলিটি লেগেছিল। ফলে কপালে গর্ত হয়ে নির্ঝরের মতো রক্ত ঝরেছে। 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কৃষ্ণচূড়ার রংয়ে শহিদের রস্তের স্মৃতিগন্ধ রয়েছে। আর উদ্দীপকের তপুর মাথায় গুলির চিহ্ন আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করছে। উদ্দীপকের তপুর কপালের রক্তের মাধ্যমে আলোচ্য কবিতায় উল্লিখিত ভাষা শহিদদের জীবন উৎসর্গের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপক ও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা উভয় ক্ষেত্রে বাঙালির সংগ্রামের প্রেক্ষাপট আছে বিধায় আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ।
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে যে গণ আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি সেই প্রেক্ষাপটকেই তুলে ধরেছে। কবি উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানের সংগ্রামে বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের শহীদদেরকে স্মরণ করেছেন। শহরের পথে পথে যে কৃষ্ণচূড়া ফুঠেছে সেগুলো কবির কাছে সালাম, রফিক ও বরকতের রক্ত মনে হয়। কবি ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে শৈল্পিকভাবে উনসত্তরের গণজাগরণের প্রেরণা হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের তপু চরিত্রটি ১৯৫২ সালের সাহসী ভাষাসৈনিক। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে যোগ দিয়ে পুলিশের গুলিতে শহিদ হয় সে। ভাষার জন্য তার এই আত্মত্যাগকে উদ্দীপকের লেখক তুলে ধরেছেন মমত্বের সঙ্গে। তপুর মধ্য দিয়ে লেখক মূলত ভাষা শহিদদের সংগ্রামকে তুলে ধরেছেন।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় দেখা যায় পাকিস্তান সরকার কর্তৃক জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এ দেশের সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। শহর ও গ্রামের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। কবি বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনার অসাধারণ এক শিল্পভাষ্য রচনা করেছেন। আর এই সংগ্রামী আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে কবি ভাষা: আন্দোলনের চেতনাকে তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকেও ভাষা আন্দোলনে বাঙালির সংগ্রামী ইতিহাসকে তুলে ধরেছেন। ভাষার দাবিতে মিছিলে অংশগ্রহণ করে তপুর মতো নাম না জানা অজস্র বাঙালি রাজপথে শহীদ হয়েছেন। কবিতা ও উদ্দীপক উভয়স্থানে বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামচেতনার ইতিহাস তুলে ধরায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয়।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!