জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সফল করার জন্য লেবানন থেকে কঙ্গো পর্যন্ত বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শান্তিরক্ষীদের পদচিহ্ন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার- উদ্দীপকের এ শেষ লাইনটির সাথে আমি একমত।
২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী (সশস্ত্রবাহিনী) এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্য মিলে ৪০টি দেশের ৫০টি মিশনে কাজ করছে। এ পর্যন্ত যেসব দেশে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা বাহিনী কাজ করছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবানন, কঙ্গো, হাইতি, আইভোরি কোস্ট, ইরাক, কুয়েত, নামিবিয়া, সিয়েরালিয়ন, জর্জিয়াসহ আরও অনেক দেশ। বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা বিশ্ব শান্তিরক্ষা বাহিনীতে অংশ নিয়ে এসব সংঘাতপূর্ণ দেশে কাজ করে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে। এ সুনাম অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে নতুনভাবে পরিচিত করেছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে অংশগ্রহণ ও সুনাম অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশকে অবশ্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের ১২৪ জন সদস্য বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও শান্তিরক্ষার যুদ্ধে নিহত হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা বাহিনী তাদের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষায় নজিরবিহীন অবদান রেখেছে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে উদ্দীপকের শেষ লাইনটির সাথে আমি একমত।
Related Question
View All১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
জাতিসংঘের একটি মৌলিক নীতি হলো- জাতিসংঘের সকল দিস্য রাষ্ট্র সমান মর্যাদা ও সমান সার্বভৌমত্বের অধিকারী হবে।
প্রতিসংঘের সদস্যভুক্ত কোনো রাষ্ট্র অন্যান্য রাষ্ট্রের তুলনায় অধিক মর্যাদার ধিকারী হবে না বা বঞ্চিত হবে না এবং সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রেও সকলের ধিকার সমান হবে। কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ রতে পারবে না।
উদ্দীপকের দুই ইউনিয়নের বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াটি জাতিসংঘের যে নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা হলো, সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করতে হবে।
বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার মহান লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘ সাতটি মৌলিক নীতি ঘোষণা করেছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নীতি হলো- সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করতে হবে।
উদ্দীপকের 'ক' উপজেলার অন্তর্গত সকল ইউনিয়নের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ২০১২ সালে 'ক' উপজেলার চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে কিছু নীতিমালা করা হয়। এর ফলে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এলাকার মানুষ নিরাপদ জীবনযাপন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু দুটি ইউনিয়নের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে 'ক' উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে তা সমাধান হয়, যা জাতিসংঘের অন্যতম নীতি তথা 'সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করতে হবে'- এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'ক' উপজেলার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টার অনুরূপ-উক্তিটি যথার্থ।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার একটি প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা। সূচনালগ্ন থেকেই বিশ্বশান্তি রক্ষার প্রধান দায়িত্ব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উপর ন্যস্ত। ফলে বিশ্বের কোথাও আন্তর্জাতিক শান্তি বিরোধী কোনো কাজ সংঘটিত হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এভাবে জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি রক্ষায় ভূমিকা পালন করে থাকে। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা অর্জন এর অন্যতম উদাহরণ।
উদ্দীপকের 'ক' উপজেলার ক্ষেত্রে দেখা যায়, উপজেলার সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা একত্রিত হয়ে উপজেলার চেয়ারম্যানকে পরিষদের সভাপতি করে প্রত্যেকটি ইউনিয়নের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কিছু নীতিমালা করেন। একইসাথে প্রতিটি ইউনিয়নের বিরোধ মীমাংসা, উন্নয়ন এবং এলাকার মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ শুরু করেন। ফলে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এলাকার মানুষ নিরাপদ জীবনযাপন করতে সক্ষম হয়।
উপরের আলোচনায় এটি সুস্পষ্ট যে, জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সাথে 'ক' উপজেলার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা সাদৃশ্যপূর্ণ।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিবের নাম অ্যান্টনিও গুতেরেস।
জাতিসংঘের অন্যতম কাজ হলো আঞ্চলিক সংস্থাসমূহের সহযোগিতা গ্রহণ করা।
নিজেদের জন্য উন্নয়ন ও শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি পৃথিবীতে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থাও গড়ে উঠেছে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে সার্ক, আসিয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন প্রভৃতি। জাতিসংঘ এসব সংস্থার সহযোগিতা গ্রহণ করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!