না, আমি মনে করি, নিলয়ের বাবার কার্যক্রমে অর্থাৎ কঠোর ব্যবস্থায় নিলয় সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে না বরং তার জন্য কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। নিলয়ের কিশোর অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে নিলয়ের বাবা তাকে একটি কঠোর শৃঙ্খলার আবাসিক স্কুলে ভর্তি করে দেন। আমার মতে নিলয়ের বাবার এ পদক্ষেপ তাকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হবে। কারণ সন্তানের আচরণ পরিবর্তনে তার সাথে সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়। পরিবারে সন্তানদেরকে তাদের মানসিক বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশের ব্যবস্থা করতে হয়। পিতামাতার পক্ষে সন্তানের প্রতি যথেষ্ট সময় বা মনোযোগ দিতে না পারা এবং আদর-যত্নের অভাব তাদেরকে মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলে। এমনকি অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের কারণে সন্তানদের অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়। নিলয়ের ক্ষেত্রে তার বাবার যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া উপযুক্ত হতো তা হলো-নিলয়কে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে যুক্ত করা। নিলয়কে সুস্থ সংস্কৃতি এবং চিত্তবিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা। সর্বোপরি নিলয়ের বাবাকে তার ব্যাপারে অধিক সচেতন হওয়া।
পরিশেষে আমি মনে করি, নিলয়ের বাবার পদক্ষেপ নিলয়কে সুস্থ-স্বাভারিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সফল হবে না।
Related Question
View Allসামাজিক সমস্যা হলো সমাজে বিরাজিত একটি অবস্থা, যা জনগণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে এবং এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে।
বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি দুটি বড়ো সমস্যা। বর্তমানে এ দুটি সমস্যা সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণভাবে রাষ্ট্র বা সমাজ স্বীকৃত নয় এমন কজকে অপরাধ বলে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ। কিশোর বয়সে এরা রাষ্ট্র ও সমাজের আইন ও নিয়ম ভাঙে বলেই তারা কিশোর অপরাধী।
বিভিন্ন দেশের সমাজবিজ্ঞানী ও আইনবিদদের মধ্যে কিশোর অপরাধের বয়স নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়স ৭ থেকে ১৮ বছর। আর জাপানে এ বয়সীমা ১৪ থেকে ২০ বছর।
আমাদের দেশে কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য। দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের অনেক সাধ বা ইচ্ছাই অপূর্ণ থেকে যায়। এর ফলে তাদের মধ্যে বাড়ে হতাশা এবং এ হতাশাই তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
বাড়ির বাইরে বা কর্মস্থলে অতি ব্যস্ততার কারণে মাতাপিতার পক্ষে তাদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় বা মনোযোগ দিতে না পারা, আদর-যত্নের অভাব, মাতাপিতার অকালমৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদ এমনকি অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের কারণেও অনেক কিশোর ধীরে ধীরে অপরাধী হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!