যোগাযোগ হলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে বা এক যন্ত্র থেকে আরেক যন্ত্রে কথাবার্তা, চিন্তাভাবনা বা তথ্যের আদান-প্রদান বা বিনিময়
ফ্যাক্স মেশিনে যখন একটি ডকুমেন্ট দেওয়া হয়, তখন সেখানে উজ্জ্বল আলো ফেলা হয়, ডকুমেন্টের কালো অংশ থেকে কম এবং সাদা অংশ থেকে বেশি আলো প্রতিফলিত হয়, সেই তথ্যগুলো সংরক্ষণ করে ডকুমেন্টটির কপিকে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তর করে টেলিফোন লাইন দিয়ে পাঠানো হয়।
টেলিফোন লাইনের অন্য প্রান্তে ফ্যাক্স মেশিনটি তার কাছে পাঠানো ডকুমেন্টের কপিটিকে একটি প্রিন্টারে প্রিন্ট করে দেয়। এভাবে ফ্যাক্সের মাধ্যমে একটি ডকুমেন্টের ছবির হুবহু কপি পাওয়া যায়।
বাউদ্দীপকে ১ম যন্ত্রটি হলো টেলিভিশন।
টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক স্টেশন। শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য টেলিভিশন প্রেরক স্টেশনে পৃথক পৃথক প্রেরক যন্ত্র থাকে। একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয়, অন্য একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসাবে প্রেরণ করা হয়। যে দৃশ্য পাঠাতে হবে তার ছবি লেন্সের মধ্য দিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার পর্দায় ফেলা হয়। ক্যামেরা ছবিটিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে। এ তড়িৎ সংকেতকে তড়িচ্চুম্বকীয় বেতার তরঙ্গে রূপান্তরিত করে অ্যান্টেনার সাহায্যে আকাশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অপর প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে শব্দ প্রেরণ করা হয়। শব্দ প্রেরণকারী যন্ত্র মাইক্রোফোনের সাহায্যে বক্তার শব্দ সংগ্রহ করে। মাইক্রোফোনে একটি পাতলা ধাতব পাত থাকে যাকে ডায়াফ্রাম বলে। মাইক্রোফোনে আগত শব্দ ডায়াফ্রামটিকে কম্পিত করে। এ যান্ত্রিক কম্পন তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত হয়। এরপর এ সংকেতকে তড়িচ্চুম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে অ্যান্টেনার সাহায্যে আকাশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা প্রযুক্তিগুলো হলো টেলিভিশন ও স্মার্ট মোবাইল। এসব প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
টেলিভিশন থেকে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে সেগুলো প্রধানত শব্দ দূষণজনিত স্বাস্থ্যসমস্যা। অনেকেই খুব উচ্চ ভলিউমে টেলিভিশন ব্যবহার করে যার ফলে তার নিজের কানের যেমন সমস্যা হতে পারে তেমনি আশেপাশের মানুষেরও সমস্যা হতে পারে। বেশি শব্দের ফলে মাথাব্যথা, কানে কম শোনা এরকম স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়তে পারে। এছাড়া যারা দিনে তিন-চার ঘন্টা থেকে বেশি টিভি দেখে, তাদের মাথাব্যথা, নিদ্রাহীনতা, চোখে ব্যথা বা চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়ার মতো সমস্যায় পড়তে পারে। এ প্রতিক্রিয়াগুলো শিশুদের জন্য অনেক বেশি হয়ে থাকে। তাদের বিকাশমান কোষের যথোপযুক্ত বিকাশে টেলিভিশন থেকে নিঃসৃত বিকিরণ যথেষ্ট ক্ষতি করতে পারে।
মোবাইল ফোন এন্টেনার সাহায্যে রেডিও কম্পাঙ্কে বিকিরণ প্রেরণ ও গ্রহণ করে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় এ এন্টেনাটি ব্যবহারকারীর মাথার খুব কাছে থাকে। ধারণা করা হয়, এই মাইক্রো তরঙ্গের ক্রমাগত ব্যবহার হয়তো মাথার ক্যান্সার রোগের সৃষ্টি করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এ বিকিরণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা শিশুদের মস্তিষ্কের কোষ বিকাশে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার আশংকা অনেক বেড়ে যায়।
অতএব, টেলিভিশন ও মোবাইল প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!