"তোমরা মাত্র পঁচিশ ভাগ মুসলিম, বাকি পঁচাত্তর ভাগ হিন্দু।” বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানিদের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের জাতিগতভাবেই ঘৃণা করত। বাঙালিদের তারা মনে করত হিন্দুস্তানপন্থি লোক। যার প্রতিফলন '১৯৭১' উপন্যাসেও পাওয়া যায়। মেজর এজাজ আহমেদ কোনো আড়ষ্টতা না রেখে রফিকের কাছে নিশ্চিতভাবেই বলেছেন তোমরা তথা বাঙালিরা পঁচিশ ভাগ মুসলমান মাত্র, বাকি পঁচাত্তর ভাগ হিন্দু। এর মধ্য দিয়েই মূলত বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানিদের জাতিগত ঘৃণ্য দৃষ্টিভঙ্গিটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

'১৯৭১' উপন্যাসের মেজর এজাজ আহমেদের মতে, বাঙালিদের মান-অপমান বলে কিছুই নেই, একটা কুকুরেরও আত্মসম্মান থাকে। বাঙালিদের সেটাও নেই। মেজর এজাজের এই ধারণা বৃহত্তর অর্থে বাঙালিদের সম্পর্কে পশ্চিম পাকিস্তানিদের ধারণাকে তুলে ধরে। এই উপন্যাসে মেজর এজাজ পাকিস্তানিদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বাঙালি সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি মেজর এজাজের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে। ঝড়ের সময় মেজর এজাজ কালীমন্দির দেখে সেটিকে উল্লেখ করেছেন 'তোমাদের কালী মন্দির' বলে। অথচ রফিক একজন বাঙালি মুসলিম। তাদের মতে বাঙালি এবং হিন্দুদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। বাঙালিদের তিন-চতুর্থাংশই হিন্দু, বাকি এক ভাগ মুসলমান। তাদের দৃষ্টিতে তারা এতটাই অনড় যে মেজর এজাজ বলেছেন রফিক যদি কালীমন্দিরে ঢুকে মূর্তিকে প্রণাম করে পূজা করে তাহলেও সে তথা পাকিস্তানিরা বিন্দুমাত্র অবাক হবে না। তাদের দৃষ্টিতে বাঙালিদের মূর্তি পূজা করার বিষয়টি অত্যন্ত স্বাভারিক, বরং না করাটাই অস্বাভাবিক। এর মূলে রয়েছে মূলত জাতিগত ঘৃণা।

পরিশেষে বলা যায়, বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানিদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত হীনতর। এই হীন মানসিকতার কারণেই এজাজ তার সহচর রফিককে কোনো রাখঢাক না রেখেই বাঙালির জাতিগত উনতা বিষয়ে তার এবং তাদের নিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে। বাঙালি মুসলমানের মুসলমানত্ব যে মোটেই ধর্তব্যের মধ্যে নয়, বরং তারা যে প্রায় হিন্দুর কাছাকাছি এবং তাদের অধিকাংশই যে হিন্দু এ বিষয়ে মেজর এজাজ কোনো অনিশ্চয়তা রাখেননি। বৃহত্তর অর্থে যা বাঙালিদের সম্পর্কে পাকিস্তানিদের দৃষ্টিভঙ্গিকেই তুলে ধরে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
107

Related Question

View All
উত্তরঃ

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি সাধারণ জনতার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। '১৯৭১' উপন্যাসেও নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারি নৃশংসতা চালায়। পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে এদেশের মানুষের মধ্যে কিছু ধারণা প্রচলিত ছিল। নীলগঞ্জ গ্রামে মেজর এজাজ আহমেদের নেতৃত্বে মিলিটারি প্রবেশের পর গ্রামের মানুষ অনিশ্চিত পরিস্থিতির জন্য শঙ্কিত হয়ে ওঠে। নীলগঞ্জ গ্রামের বৃদ্ধ মীর আলির বড় ছেলে বদিউজ্জামানের কাছ থেকে সেনাদের সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়; যা সে শুনে এসেছে নান্দাইল রোড থেকে। দলবল নিয়ে ছাতিম গাছের নিচে অপেক্ষারত জয়নাল মিয়ার কাছে সেনাদের সম্পর্কে বদিউজ্জামান বলে যে, মুসলমানদের জন্য ভয়ের কিছুই নেই, কারণ মিলিটারিরা মুসলমানদের খুব খাতির করে। তবে পাক্কা মুসলমান হওয়া লাগে। সাথে জানা লাগে চার কালেমা। সুন্নত হয়েছে কিনা এটাও দেখে। বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মিলিটারি সম্পর্কে বদিউজ্জামান যে ধারণা ব্যক্ত করেছে তা অনেকাংশে সত্য, কিন্তু সর্বাংশে নয়। কারণ ধর্ম ছিল পাকিস্তানিদের মুখোশ মাত্র, আসলে তারা ছিল বাঙালি বিদ্বেষী।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
140
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews