আমাদের এ পৃথিবী বড় সুন্দর, বড় বৈচিত্র্যময়। এ বৈচিত্র্যময় পৃথিবীতে বিচিত্র মানুষ, কীটপতঙ্গ, পাহাড়, পর্বত, আকাশ, চন্দ্র, সূর্য, উপগ্রহ আর নক্ষত্র এ সবকিছুর মধ্যে গভীর ঐক্য ও শৃঙ্খলা বিদ্যমান। প্রকৃতি ও পরিবেশের মধ্যে যেমন বৈচিত্র্য রয়েছে, তেমনি এক অনাবিল ঐক্যের পরিচয়ও পাওয়া যায়। ঋতুচক্রের আবর্তন, দিবারাত্রির পালাবদল, গ্রহগুলোর আপন কক্ষপথে একই নিয়মে ঘুরে ঘুরে চলা প্রভৃতির মধ্যে একটি গভীর ঐক্য ও শৃঙ্খলা রয়েছে। এ গভীর ঐক্য ও শৃঙ্খলার মূলে রয়েছেন একজন বিশ্বনিয়ন্তা। তিনিই হচ্ছেন ঈশ্বর। তিনি অতুলনীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেই সবকিছুর মাঝে শৃঙ্খলা ও ঐক্য বিদ্যমান। আমরা প্রকৃতি ও পরিবেশের যে বিস্ময়কর রূপ প্রত্যক্ষ করি তা ঈশ্বরেরই রূপ। সকলের সেবা ও বন্দনার মধ্যে ঈশ্বরের আরাধনাই প্রকাশিত।
আমরা প্রকৃতির যে সৌন্দর্য বা রূপ উপলব্ধি করি মূলত তা ঈশ্বরেরই বহিঃপ্রকাশ। তাঁর সৃষ্টিকে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা তাঁর গুণগান করব।
কারণ প্রকৃতির বৈচিত্র্য ও ঐক্যের মূলে রয়েছে সর্বদা ঈশ্বরের উপস্থিতি।
Related Question
View Allহিন্দুধর্ম অনুসারে সৃষ্টিকর্তাকে ঈশ্বর নামে অভিহিত করা যায়।
জীবাত্মা হচ্ছে পরমাত্মার অংশ। সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর হচ্ছেন পরমাত্মা। এ ঈশ্বর যখন জীবের হৃদয়ে আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন তাকে বলে জীবাত্মা। অতিক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ থেকে শুরু করে 'সকল জীবের মধ্যে তিনি জীবাত্মারূপে অবস্থান করেন। দেহকে কেন্দ্র করে আত্মার আগমন ঘটে। দেহ ছাড়া আত্মা কখনও প্রকাশিত হয় না। তেমনি আত্মা ছাড়াও জীব হিসেবে পূর্ণতা পায় না। জীবের সকল বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্যতার মাঝে ঈশ্বরেরই রূপবৈচিত্র্য প্রতিফলিত হয়। জীবের মাঝে ঈশ্বর তথা পরমাত্মা অবস্থান করে। তাই জীবাত্মাকে পরমাত্মার অংশ বলা হয়।
উদ্দীপকের বর্ণনার আলোকে বলা যায়, সজীব তার জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে এক গভীর অন্ধবিশ্বাসের পথকে বেছে নিয়েছে। সে বিশ্বাস হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের বিশ্বাস। সজীব সবকিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি এবং ঈশ্বর সবকিছু পরিচালনা করছেন মনে করে। অন্যদিকে তুষারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে বিজ্ঞানভিত্তিক। সে যা সৃষ্টি করতে পারে তাই বিশ্বাস করে। তার ভিতর অন্যবিশ্বাস নেই। সে ঈশ্বরকে বিশ্বাস করতে পারে না। তাই সজীব ও তুষারের মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে গভীর বিশ্বাসের ক্ষেত্রে।
সজীব বইপুস্তক ও বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পড়ে জানতে পেরেছে যে, এ বিশাল পৃথিবী ও পৃথিবীর সবকিছু ঈশ্বরের সৃষ্টি। তাছাড়া সজীব যখন এ পৃথিবীর মানুষ, গাছপালা, জীবজন্তু, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা, আকাশ, বাতাস সবকিছু একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলতে দেখে এবং ঋতু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও দেখে শীতের পর বসন্ত আসে, মানুষের ক্ষেত্রেও দেখে কেউ কালো, কেউ ফর্সা, কেউ বেঁটে এবং কেউ লম্বা। তখন তার মনে এক গভীর বিশ্বাসবোধের জন্ম হয়। এ গভীর বিশ্বাসবোধ থেকেই সে সবসময় মনে করে এ সবকিছুর একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন যিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে এগুলো সৃষ্টি করেছেন। তিনিই হচ্ছেন ঈশ্বর।
আমাদের এ বিশাল পৃথিবী ও সকল জীবের সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন ঈশ্বর।
সংস্কৃত মন্ত্র:
নমস্তে পরমং ব্রহ্ম
সর্বশক্তিমতে নমঃ।
নিরাকারোহপি সাকার:
স্বেচ্ছারূপং নমো নমঃ। (যজুর্বেদ, শান্তি পাঠ)
সরল অর্থ: যিনি পরম ব্রহ্ম, যিনি সর্বশক্তিমান, নিরাকার সাকার, ইচ্ছামতো রূপধারী, তাঁকে নমষ্কার করি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!


