শরৎকালে নদীর তীর আঁকার উপকরণগুলো হলো- পেন্সিল, স্কেল, রাবার, কাগজ, প্যাস্টেল রং ও তুলি।
কার্যপদ্ধতি: নিচের ধাপগুলো অনুসরণের
মাধ্যমে শরৎকালে নদীর তীর আঁকি-
১। পেন্সিল ও স্কেল দ্বারা সাদা কাগজের উপর শরৎকালে নদীর তীরের একটি নকশা আঁকি।
২। নকশার দাগগুলো এলোমেলো হলে রাবার দ্বারা মুছে ঠিক করি।
৩। তুলি দ্বারা নকশার উপর প্যাস্টেল রং লেপন করি।

উপস্থাপন: শরৎকালে নদীর তীরের ছবিটি সুন্দরভাবে শিক্ষকের নিকট উপস্থাপন করি।
এ অধ্যায় পড়া শেষ করলে আমরা -
• মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণীর ছবি আঁকার সাধারণ নিয়মগুলো বর্ণনা করতে পাৱৰ ।
• সুন্দর ও সাবলীলভাবে মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণীর ছবি আঁকতে পারব।
• বিভিন্ন বিষয়ে ছবি ও নকশা আঁকতে পারব।
ছবি যা নিয়ে আঁকা হয়, সেটাই ছবির বিষয়। তবে বিষয়ভিত্তিক ছবি বলতে আমরা বুঝি কোনো বিশেষ বিষয়কে বা ঘটনাকে নিয়ে আমরা যখন ছবি আঁকি। যেমন- বিষয় হতে পারে প্রাকৃতিক দৃশ্য, ষড়ঋতুর কোনো একটি অথবা মুক্তিযুদ্ধ, বিজয়দিবস, শহিদদিবস কিংবা বাংলা নববর্ষ, বৈশাখী মেলা ইত্যাদি। বিষয়ভিত্তিক ছবি আঁকার পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে বা ঐ ঘটনা সম্পর্কে আঁকিয়ের সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। তাই শুরুতেই বিষয়কে ভালোভাবে বুঝে নিয়ে ছবি আঁকতে হবে। আমাদের চারপাশের প্রকৃতি ও পরিবেশকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ঋতুর পালাবদলে যাওয়া প্রকৃতি ও মানুষের জীবনাচার আগ্রহ নিয়ে লক্ষ করতে হবে।
কর্মরত মানুষের অনুশীলন
আমাদের চারদিকে প্রতিদিন কত রকমের কর্মরত মানুষ দেখি। কুলি, মজুর, রিকশাওয়ালা, ঠেলাওয়ালা, ফেরিওয়ালা আরও অনেক কর্মরত মানুষ দেখতে পাই। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আরও অনেক রকমের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতায় তাদের জীবনযাপন করতে হয়। সেসব কর্মরত মানুষের নানারকম প্রকাশভঙ্গি তাদের গতিময় পথচলাকে গভীরভাবে দেখে আঁকব এবং এইসব কর্মরত মানুষের ছবি সকলের সামনে তুলে ধরে তাদের কষ্টসাধ্য জীবনের কথা জানাতে পারব ।
মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণীর ছবি আঁকার অনুশীলন
পাশের চিত্রগুলোতে আমরা কী দেখছি? কতগুলো রেখার আঁচড়ে আঁকা মানুষের নানা ভঙ্গিমার গতিময় রূপ। অর্থাৎ মানুষের চলাফেরা কিংবা দৌড়ানোর সময় তার শরীরের মধ্যে হাড়ের কাঠামোটির কী পরিবর্তন হয়। এই অবস্থাগুলো যখন আমরা বেশি বেশি পর্যবেক্ষণ করব তখন হাড়ের এই কাঠামোর উপর মাংসের স্তর দিনেই ছবির আসল রূপ ফুটে উঠৰে ।
চলমান অথবা গতিময় বিষয়বস্তুর চিত্রাঙ্কনে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রেখা টানতে হয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজন দ্রুত গভির রেখা। আবার ক্ষির বিষরের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ধীরগতির। নিচের চিত্রের মতো মডেল বা কোনো ব্যক্তিকে বসিয়ে ধীরগতির রেখা দিয়ে আঁকতে হবে।
বিভিন্ন প্রাণী আঁকার অনুশীলন
মানুষের ছবি আঁকা আরতে এলে অন্যান্য প্রাণীর চিত্র অঙ্কনে আমাদের বিশেষ বেগ পেতে হবে না। ঐ সকল প্রাণীর গতিবিধি ও আকার-আকৃতি, প্রকৃতি ছেনে বিভিন্ন অবস্থায় ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে আঁকতে অভ্যস্ত হলে একটা সময় বেসকল প্রাণী সাধারণত আমরা সব সময় দেখি আঁকতে পারব।
নিচে কয়েকটি প্রাণীর রেখাচিত্র দেখানো হলো- যা আমাদের প্রাণীর ছবি আঁকफে সহায়তা করবে।
| কাজ : তোমার দেখা একজন কর্মরত মানুষের ছবি এবং তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তুলে ধরে একটি চিত্র অঙ্কন কর। কাজ : তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ভঙ্গিতে তিনজন মানুষের চিত্র অক্ষন কর। |
নকশা আঁকার অনুশীলন
ষষ্ঠ শ্রেণিতে আমরা নকশা অঙ্কনে ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত ইত্যাদির ব্যবহার করেছি। সপ্তম শ্রেণিতে নকশা অঙ্কনে ব্যবহার করেছিলাম ফুল-পাখি, লতা-পাতা ইত্যাদি। অষ্টম শ্রেণিতে আমরা এই দুইয়ের সমন্বয় করে নকশা আঁকব। আমরা তো ইতিমধ্যে জেনেছি নকশা আঁকার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। মনের ইচ্ছেগুলোকে কখনো নির্দিষ্ট মাপে আবার কখনো বা মাপ ছাড়াই নিজের সৃষ্টিশীল চিন্তাগুলো সাজিয়ে মজার মজার নকশা আমরা আঁকতে পারব। তবে নকশা অঙ্কনের যেমন স্বাধীনতা আছে, তেমনি কোন নকশা কোন জায়গায় আঁকলে বা সাজালে সেই জিনিসের সৌন্দর্য আরও বাড়বে সে বিষয়ে আমাদের একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
দৈনন্দিন জীবনে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে নকশার ব্যবহার নেই। আমাদের পোশাকে, শাড়ি, জামা, পাঞ্জাবি, চাদর, ছোট ছেলে-মেয়েদের জামা-কাপড়ে রং-বেরঙের নকশার ছড়াছড়ি। ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, হাঁড়ি-পাতিল, থালা- বাটি, খাবার-দাবার, পিঠা সর্বত্রই যেন নকশার প্রয়োজন ।
বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা, প্রচারপত্র, মানপত্র, জন্মদিন, বিয়ে ও নানারকম অনুষ্ঠানে নকশাকে আমরা বিভিন্নভাবে কাজে লাগাচ্ছি ।
এ ছাড়াও নকশিকাঁথায়, শীতলপাটিতে, জায়নামাজে, শখের হাঁড়িতে, আলপনায় নকশাধর্মী ছবি ব্যবহার করে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয় ।
সুন্দর নকশা ও উজ্জ্বল রঙের কারণে বিভিন্ন বস্তু বা সামগ্রী মনকে আকৃষ্ট করে। এ সকল বাহারি নকশা যেমন আমাদের মনের প্রফুল্লতার প্রকাশ ঘটে তেমনি সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটে।
ব্যবহারিক প্রশ্ন
১। বৃত্ত, ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজ ব্যবহার করে ৫" x ৫" মাপে একটি নকশা এঁকে সাদা-কালো রং কর ।
২। ফুল, লতা-পাতার সমন্বয়ে ৬” x ৬” মাপে একটি নকশা তৈরি কর। সাদা-কালো রং কর ।
৩। তোমার চেনাজানা দুটি পোষা প্রাণীর ছবি অঙ্কন কর ।
৪। কর্মরত মানুষের তিনটি প্রকাশভঙ্গি এঁকে দেখাও ।
৫। প্রাকৃতিক ফর্ম (ফুল, লতা-পাতা, পাখি) ব্যবহার করে ৬" x ৪ " মাপে একটি সাদা-কালো নকশা অঙ্কন কর।
৬। তোমার প্রিয় ঋতুর একটি ছবি আঁক এবং রং কর।
৭। মুক্তিযুদ্ধ অথবা ভাষা আন্দোলনকে বিষয় করে একটি ছবি এঁকে যে কোনো মাধ্যমে রং কর ।
৮। বাংলাদেশের যে কোনো একটি উৎসব এর ছবি এঁকে রং কর ।
৯। তোমার দেখা একটি গ্রামবাংলার দৃশ্য এঁকে রং কর ।
১০। নদী ও নৌকাকে বিষয় করে একটি দৃশ্য অঙ্কন করে রং করা ।
Related Question
View Allনকশা তৈরির উপকরণ হলো- পেন্সিল, রাবার, স্কেল, কম্পাস, রং, কাগজ, তুলি ইত্যাদি।
কার্যপদ্ধতি: নকশাটি তৈরির ধাপগুলো হলো-
১। পেন্সিল দিয়ে কম্পাসের সাহায্যে কাগজের উপর ৫" ৫" আকারের বর্গ আঁকি।
২। বড় বর্গটির ভেতরে চারকোণে ছোট আকারের ৪টি বর্গ আঁকি।
৩। মাঝের ফাঁকা অংশে ছোট আকারের একটি বৃত্ত আঁকি এবং বৃত্তটি ঠিক উপর-নিচ ও ডানে-বামে চারটি ছোট বর্গ আঁকি।
৪। ছোট বর্গগুলোর বাকি তিনটি কোণের বাইরে ছোট ছোট বৃত্ত আঁকি।
৫। এবার বৃহৎ বর্গটির চারটি রেখার বাইরের মাঝামাঝি জায়গায় একটি করে ত্রিভুজ আঁকি।
৬। ফাঁকা জায়গা খালি রেখে ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ও. বর্গের মাঝের জায়গাগুলো যে কোনো একটি রং দ্বারা রং করে দিই।
উপস্থাপন: বৃত্ত, ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজ ব্যবহার করে ৫" ৫" মাপে এক রঙে আঁকা নকশাটি সুন্দরভাবে শিক্ষকের নিকট উপস্থাপন করি।
নকশা তৈরির উপকরণ হলো- পেন্সিল, রাবার, স্কেল, কম্পাস, কাগজ, রং ও তুলি।
কার্যপদ্ধতি : নকশা তৈরির ধাপগুলো হলো-
১। কম্পাস, পেন্সিল ও স্কেল ব্যবহার করে দৈর্ঘ্য বা ভূমি ৬" এবং প্রস্থ বা উচ্চতা ৬" নিয়ে একটি চতুর্ভুজ আঁকি।
২। এবার পেন্সিল দ্বারা চতুর্ভুজটির মাঝে পছন্দ মতো ফুল ও লতা-পাতা আঁকি, ফাঁকা জায়গাগুলোতে আড়াআড়ি বক্ররেখা টেনে দিই।
৩। পছন্দনীয় যে কোনো একটি রং দ্বারা ফুল, লতা-পাতা ও বক্ররেখাগুলো রং করি।

উপস্থাপন: ফুল, লতা-পাতা সমন্বয়ে একরঙে ৬" ৬" মাপে আঁকা নকশাটি সুন্দরভাবে শিক্ষকের নিকট উপস্থাপন করি'।
পোষা প্রাণীর ছবি অঙ্কন করার উপকরণ হলো- পেন্সিল, রাবার, কাগজ, রং ও তুলি।
কার্যপদ্ধতি: পোষা বিড়াল ও হাঁসের ছবি অঙ্কন করার ধাপগুলো হলো-
১। প্রথমে পেন্সিল দিয়ে কাগজের উপর বিড়াল ও হাঁসের প্রাথমিক নকশা আঁকি।
২। এরপর বিড়াল ও হাঁসের প্রয়োজনীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রূপ প্রদান করি।

৩। ছবি দুটির বিভিন্ন অংশে প্রয়োজন অনুপাতে রং করি।
উপস্থাপন: চেনাজানা দুটি পোষা প্রাণীর আঁকা ছবিটি সুন্দরভাবে শিক্ষকের নিকট উপস্থাপন করি।
ছবিগুলো আকার উপকরণ হলো- পেন্সিল, তুলি, রাবার, রং, কাগজ।
কার্যপদ্ধতি: নিম্নোক্ত ধাপে ছবি তিনটি আঁকি-
১। প্রথমে তিনজন মানুষের তিনটি কাঠামো পেন্সিল দ্বারা এঁকে নিই।
২। কাঠামো তিনটির যে যে কাজের ভঙ্গি প্রকাশ করবে তা নির্দিষ্ট কাঠামোগুলোকে সেভাবে রূপ দিই।
৩। ছবিগুলোর কাজের প্রকাশভঙ্গি অনুযায়ী তাতে কাজের উপকরণগুলো এঁকে দিই।
৪। ছবিগুলোকে বিভিন্ন রং দ্বারা লেপন করি।

উপস্থাপন: কর্মরত মানুষের তিনটি প্রকাশ ভঙ্গির আকারে আঁকা ছবিটি শিক্ষকের নিকট সুন্দরভাবে উপস্থাপন করি।
উত্তর: প্রাকৃতিক ফর্ম (ফুল, লতা-পাতা, পাখি) ব্যবহার করে ৬" ৪" মাপে একটি নকশা নিচে অঙ্কন করা হলো

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি ছবি এঁকে প্যাস্টেল রং করা হলো-
উপকরণ: মুক্তিযুদ্ধকে বিষয় করে একটি ছবি আঁকার উপকরণ হলো- পেন্সিল, রাবার, কাগজ, রং ও তুলি।.
কার্যপদ্ধতি: নিচের ধাপগুলো অনুসরণে
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ছবি আঁকি-
১। সাদা কাগজের উপর পেন্সিল দ্বারা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি নকশা আঁকি।
২। নকশাটি ছোট-বড় হলে রাবার দ্বারা মুছে ঠিক করি।
৩। তুলির সাহায্যে নকশাটির উপর প্যাস্টেল রং লেপন করি।

উপস্থাপন: ছবিটি সুন্দরভাবে শিক্ষকের নিকট উপস্থাপন করি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!