দুর্নীতি হচ্ছে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার
। এটি ন্যায়বিরুদ্ধ ও ধর্মবিরুদ্ধ আচরণ, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় দুটি সমস্যা হচ্ছে-
১. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব ও সহিংসতা এবং
২. আইনের অনুশাসনের অভাব।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন কর্মকমিশন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এবং স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনে বা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধাবী, দক্ষ ও যোগ্য লোক নিয়োগ দিতে হবে। এজন্য দরকার সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়া, নিয়োগের সুস্পষ্ট নীতিমালা এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কর্মকমিশন। একমাত্র স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কর্মকমিশনের মাধ্যমেই প্রশাসনে বা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবসহ সব রকম ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে মেধাবী, দক্ষ ও যোগ্যপ্রার্থী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এজন্য দরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। কেবলমাত্র স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমেই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায়। মানবাধিকার কমিশনের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে সরকার অযাচিত ও অযৌক্তিকভাবে জনগণের ওপর দমন, নিপীড়ন চালাতে পারে না, ইচ্ছা করলেই জনগণের মৌলিক অধিকার ও বিভিন্ন মানবাধিকারের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে না। কেননা জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা একদিনের বিষয় নয় বা একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয়। নিচে ধাপসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো-
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা: সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান শর্ত হলো গণতন্ত্র। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় শাসনকার্যে জনগণের অংশগ্রহণ বেড়ে যায়। জনগণের মতামতকে অধিক প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে রাষ্ট্রে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুশাসনের প্রাণ। জবাবদিহিতা থাকলে দুর্নীতি হ্রাস পায়। জবাবদিহিতা দক্ষতা ও সততাকে উৎসাহিত করে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত শাসনের স্বরূপ, শাসকের কাজকর্ম, প্রণীত আইনকানুন ও বিধি-বিধানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা আবশ্যক। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: আইনের শাসন ব্যতীত কোনোভাবেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আইনের শাসনের অর্থ হলো আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইনের যথাযথ প্রয়োগের ফলে দুর্নীতি হ্রাস পেয়ে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে সমাজ গড়ে ওঠে। এরূপ পরিবেশে সহজেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
কার্যকর তথ্য অধিকার আইন: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে ন র ন তথ্য অধিকার আইনের কোনো বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে সুশাসনের পথ প্রশস্থ হয়।
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ: বিচার বিভাগকে আইন ও শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। স্থানীয় সরকার। কাঠামো শক্তিশালীকরণ: স্থানীয় সরকারকে। শক্তিশালী করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রাণ। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দরকার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, যা সুশাসনের পূর্বশর্ত।
দুর্নীতি প্রতিরোধ: রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে যদি দুর্নীতি থাকে তবে তা এক বিরাট বৈষম্যের সৃষ্টি করে। জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। দারিদ্র্য বিমোচন! দারিদ্র্য সুশাসনের ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা। কাজেই সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দাঁরিদ্র্য বিমোচন পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক।
সুযোগ্য নেতৃত্ব: সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতাই পারেন সুশাসনের ভিতকে, দৃঢ় করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে তুলতে হবে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সুশাসন কী, কীভাবে সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে, এক্ষেত্রে জনগণ ও সরকারের কী করণীয় সে সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয় ধাপে ধাপে এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে।
Related Question
View AllকUNDP-এর পূর্ণরূপ হলো United Nations Development
Programme |
সাধারণভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনের অস্থিতিশীল পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলা হয়। একটু ব্যাপকভাবে বলতে গেলে ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক পরিবেশে যখন রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চার অভাবহেতু পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, কোন্দল এবং হানাহানি ও সহিংসতা দেখা দেয়, সেই পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলে। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এর ফলে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়, নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে না। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সুশাসনের অন্তরায়।
ক' দেশটির উল্লিখিত সমস্যাগুলো সামাজিক সমস্যা। কোনো দেশের আর্থসামাজিক বিপর্যয়ের ওপর নির্ভর করে এ ধরনের সামাজিক সমস্যার জন্ম হয়। এরূপ সামাজিক সমস্যা অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। যেমন অধিক জনসংখ্যা একটি সামাজিক সমস্যা, কিন্তু এটি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, পরিবেশ বিপন্ন করে, সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে থাকে। অধিক জনসংখ্যা শিক্ষা বিস্তারে বাধার কারণ হয়। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, অপরাধপ্রবণতা বাড়ে অর্থাৎ একটি সমস্যা থেকে একাধিক সমস্যার উৎপত্তি হয়। উদ্দীপকের সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। এসব মূলত সামাজিক সমস্যা হলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যারও সৃষ্টি করে থাকে। যেকোনো দেশের জন্য এসব সমস্যা সুশাসনের অন্তরায়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথে এসব সমস্যা যখন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। আর সুশাসনের অন্তরায় দুঃশাসনকে টেনে আনে।
সুনাগরিকগণ একটি দেশের সর্বোত্তম সম্পদ। একটি দেশের অগ্রগতি, উন্নতি নির্ভর করে সুনাগরিকদের কাজের ওপর।
কোনোদেশের সরকারের একার পক্ষে দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জনগণ ও সরকার সম্মিলিতভাবে এসব সমস্যার সমাধান করতে পারে। উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশটির সমস্যা সমাধানেও নাগরিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কোনো দেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধান সরকার যত কার্যক্রমই গ্রহণ করুক না কেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়। জনসংখ্য পরিকল্পনায় প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।
জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আবশ্যক। শিক্ষা বিস্তারে দেশের জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে। শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি নাগরিককে এক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। যারা শিক্ষার আলো থেকে দূরে, তাদেরকে শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। শিক্ষাই উন্নতির সোপান, কথাগুলো শিক্ষা বঞ্চিতদেরকে বোঝাতে হবে।
সন্ত্রাস ও দুর্নীতি একটি দেশের জন্য অভিশাপস্বরূপ। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা সমাজেরই অংশ। নাগরিকদের একটি অংশই এ কাজে যুক্ত থাকে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সাধারণ জনগণকেই সজাগ থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকে, সেজন্য নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। দুর্নীতিবাজদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি দূর করা খুবই সহজ কাজ। এ ব্যাপারে নাগরিকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।
শাসন প্রক্রিয়ায় সুশৃঙ্খল, কাঠামোবদ্ধ ও আদর্শ এমন রূপকে সুশাসন বলা হয় যেখানে আইনের শাসন, নিরপেক্ষ, সংবেদনশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং কার্যকর শাসন পদ্ধতি চালু থাকবে।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন। আইনের
শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন
প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও
রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন
নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!