উত্তরঃ
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা একদিনের বিষয় নয় বা একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয়। নিচে ধাপসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো-
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা: সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান শর্ত হলো গণতন্ত্র। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় শাসনকার্যে জনগণের অংশগ্রহণ বেড়ে যায়। জনগণের মতামতকে অধিক প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে রাষ্ট্রে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুশাসনের প্রাণ। জবাবদিহিতা থাকলে দুর্নীতি হ্রাস পায়। জবাবদিহিতা দক্ষতা ও সততাকে উৎসাহিত করে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত শাসনের স্বরূপ, শাসকের কাজকর্ম, প্রণীত আইনকানুন ও বিধি-বিধানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা আবশ্যক। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: আইনের শাসন ব্যতীত কোনোভাবেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আইনের শাসনের অর্থ হলো আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইনের যথাযথ প্রয়োগের ফলে দুর্নীতি হ্রাস পেয়ে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে সমাজ গড়ে ওঠে। এরূপ পরিবেশে সহজেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
কার্যকর তথ্য অধিকার আইন: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে ন র ন তথ্য অধিকার আইনের কোনো বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে সুশাসনের পথ প্রশস্থ হয়।
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ: বিচার বিভাগকে আইন ও শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। স্থানীয় সরকার। কাঠামো শক্তিশালীকরণ: স্থানীয় সরকারকে। শক্তিশালী করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রাণ। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দরকার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, যা সুশাসনের পূর্বশর্ত।
দুর্নীতি প্রতিরোধ: রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে যদি দুর্নীতি থাকে তবে তা এক বিরাট বৈষম্যের সৃষ্টি করে। জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। দারিদ্র্য বিমোচন! দারিদ্র্য সুশাসনের ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা। কাজেই সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দাঁরিদ্র্য বিমোচন পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক।
সুযোগ্য নেতৃত্ব: সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতাই পারেন সুশাসনের ভিতকে, দৃঢ় করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে তুলতে হবে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সুশাসন কী, কীভাবে সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে, এক্ষেত্রে জনগণ ও সরকারের কী করণীয় সে সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয় ধাপে ধাপে এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে।