কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের মোট পরমাণুর ঠিক অর্ধেক পরিমাণ ক্ষয়প্রাপ্ত হতে যে সময় লাগে তাই ঐ তেজস্ক্রিয় পদার্থের অর্ধায়ু।
যে সময়ে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের মোট পরমাণুর ঠিক অর্ধেক। পরিমাণ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় তাকে ঐ পদার্থের অর্ধায়ু বলে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো মৌলে ৮০০০০০টি তেজস্ক্রিয় পরমাণু আছে। এর অর্ধেক, অর্থাৎ ৪০০০০০ টি পরমাণু ক্ষয় হয়ে কোনো নতুন মৌলে রূপান্তরিত হতে যে সময় লাগে তাকে ঐ পদার্থের অর্ধায়ু বলে। পরবর্তী অর্ধায়ুর পর এতে অবশিষ্ট থাকবে ২০০০০০টি পরমাণু। আর একটি অর্ধায়ুর পর এ পরমাণুর সংখ্যা দাঁড়াবে ১০০০০০টিতে, এভাবে চলতে থাকবে।
উদ্দীপক থেকে পাই, দশম শ্রেণির ছাত্র সম্রাট শিক্ষা সফরে পাবনার রূপপুরে গেল। সেখানে নিউক্লীয় চুল্লীতে শক্তি উৎপাদিত হয়। এই চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে মূলত ইউরেনিয়াম 235 ব্যবহৃত হয়। ইউরেনিয়াম 235 নিউক্লিয়াস খুব সহজেই নিউট্রনকে গ্রহণ করতে পারে। তখন ইউরেনিয়াম 235 পুরোপুরি অস্থিতিশীল হয়ে যায়। এটা তখন Kr02 এবং Ba141 এ দুটো ছোট নিউক্লিয়াসে ভাগ হয়ে যায়।

এ বিক্রিয়ায় যে তিনটি নিউট্রন বের হয়ে এসেছে তারা আসলে প্রচণ্ড গতিতে বের হয়ে আসে। তাই খুব সহজে অন্য ইউরেনিয়াম সেগুলো ধরে রাখতে পারে না। কোনোভাবে যদি এগুলোর গতিশক্তি কমানো যায় তাহলে সেগুলো অন্য ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াসে আটকা পড়ে সেটাকেও ভেঙে দিয়ে আরও কিছু শক্তি এবং আরও তিনটি নতুন নিউট্রন বের করবে। নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে এ কাজটি করা হয়, তাই বের হয়ে আসা নিউট্রনগুলোর গতি কমে আসার পর সেগুলো আবার অন্য নিউক্লিয়াসকে ভেঙে দেয় এবং এভাবে চলতেই থাকে। এ পদ্ধতিতে প্রচণ্ড তাপশক্তি বের হয়ে আসে। সেই তাপশক্তি ব্যবহার করে পানিকে বাষ্পীভূত করে সেই বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। এভাবেই ইউরেনিয়াম-235 থেকে সম্রাটের দেখা স্থানে শক্তি উৎপাদন করা যায়।
উদ্দীপকে নিউক্লীয় শক্তি উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে ঐ শক্তি উৎপাদনের ব্যবস্থা যৌক্তিক।
বিশ্লেষণ: দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করলে দেশের আর্থসামাজিক তথা নাগরিক জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে বিদ্যুৎ সাবরাহ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত প্রধানত গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার মজুদ আমাদের দেশে অত্যন্ত সীমিত। ফলশ্রুতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশকে আমদানি নির্ভর তরল পেট্রেলিয়ামের উপর বহুলাংশে নির্ভর করতে হয়। প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার ফলে পেট্রোক্যামিক্যালস জাতীয় শিল্পদ্রব্য তৈরিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, কৃষির জন্য সার উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে এবং এলপি গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। তেল ও কয়লা আমদানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে বটে, কিন্তু সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। কৃষিকাজ এবং নতুন নতুন শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা সর্বোপরি দেশের জনসাধারণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য আমাদের আরও অনেক বেশি বিদ্যুৎ শক্তি প্রয়োজন। এসব বিষয় বিবেচনা করে সরকার একটি উপযুক্ত জ্বালানি-মিশ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০ শতাংশ পারমাণাবক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য দ্রুতগতিতে কাজ করা হচ্ছে।
এখানে প্রতিটি আনুমানিক ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন দুই ইউনিট বিশিষ্ট পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। পরবর্তীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ের নির্মাণ কার্যাদি সম্পাদনের জন্য State Export Credit সংক্রান্ত চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক প্রযুক্তি সরবরাহকারী কোম্পানি রূপপুর প্রকল্পের জন্য উপযোগি সকল নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ভিভিইআর পরিবারের সর্বাধুনিক বিদ্যুৎ চুল্লি সরবরাহ করবে। উক্ত কোম্পনি বর্তমানে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ের বিভিন্ন কাজ সম্পাদনে নিযুক্ত রয়েছে।
বহুলাকাঙ্ক্ষিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হলে উৎপন্ন বিদ্যুৎ জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরও সচল ও মজবুত করবে। পরিবেশ দূষণের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে। অতএব বাংলাদেশে ঐ শক্তি উৎপাদনের ব্যবস্থা যৌক্তিক।
Related Question
View Allপরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে
নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে
পরমাণুর ব্যাসার্ধ নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধের প্রায় এক লক্ষ গুণ
পরমাণুর ভর আসলে নিউক্লিয়াসের ভর
প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়
প্রতি সেকেন্ডে একটি তেজস্ক্রিয় বিভাজনকে এক বেকেরেল বলে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!