একদা শ্রাবস্তী নগরের শ্রেষ্ঠী সুদত্ত পাঁচশত শকট (পশুচালিত গাড়ি) নিয়ে রাজগৃহ নগরে এক শ্রেষ্ঠী বন্ধুর কাছে বেড়াতে গেলেন। সেখানে তিনি জানতে পারেন জগতে ভগবান বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছেন। এ সংবাদ শুনে তিনি বুদ্ধকে দেখার ইচ্ছা পোষণ করেন। বুদ্ধের ধর্মবাণী শুনে অনাথপিণ্ডিক স্রোতাপত্তি ফল লাভ করেন। তিনি সশিষ্য বুদ্ধকে মহাদান দিলেন এবং শ্রাবস্তীতে যাবার জন্য নিমন্ত্রণ করলেন।
রাজগৃহ হতে শ্রাবস্তী পঁয়তাল্লিশ যোজন দূরে অবস্থিত। অনাথপিণ্ডিক শ্রাবস্তীতে ফেরার পথে প্রত্যেক যোজন অন্তর একটি করে বিহার নির্মাণ করান। আঠার কোটি স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করে জেতবন বিহার নির্মাণ করে। ভিক্ষুসঙ্ঘসহ বুদ্ধকে তিন মাসব্যাপী আপ্যায়ন ও সেবার জন্য আরও আঠার কোটি স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করেন। প্রতিদিন তাঁর বাড়িতে পাঁচশত ভিক্ষুকে সেবা দানের ব্যবস্থা ছিল। এসব মহাদানের জন্য বুদ্ধ তাঁকে 'শ্রেষ্ঠ দায়ক' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
তিনি যখন দুরবস্থায় ছিলেন তখনও দান বন্ধ করেননি। দানশীলতার কারণে অনাথপিণ্ডিক বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন, এখনও মানুষ শ্রদ্ধাচিত্তে তাঁর দানের কথা স্মরণ করেন। এ কাহিনি পাঠ করে আমরা বুঝতে পারি, দানে যশ খ্যাতি বৃদ্ধি পায় এবং দানের ক্ষেত্রে বিত্তের চেয়ে চিত্তের উদারতাই বেশি প্রয়োজন।
Related Question
View Allরৌদ্ধধর্ম তিন প্রকার কুশলকর্মের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত।
বৌদ্ধরা সাধারণত লোভ-দ্বেষ-মোহ ক্ষয়, 'পুণ্য অর্জন এবং নির্বাণ লাভের জন্য দান করে। পরলোকগত জ্ঞাতিদের সদৃগতি কামনায়ও দান করা হয়। মানুষের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশের জন্যও দান করা হয়।
উদ্দীপকে চম্পা যে দান করলেন তা সংঘদানের অন্তর্ভুক্ত। বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে সংঘদান অন্যতম'। ভিক্ষুসংঘকে উদ্দেশ্য করে যে দান করা হয় তাই সঙ্ঘদান। বৌদ্ধরা যেকোনো শুভকাজ শুরু করার পূর্বে সংঘদান করে থাকেন। সংঘদান করতে হলে অন্যূন পাঁচজন ভিক্ষুর উপস্থিতি প্রয়োজন হয়। সংঘদানে ভিক্ষুর সংখ্যা যতবেশি হবে তত ভালো। সংঘদান অনুষ্ঠানের পূর্বে ভিক্ষুসংঘকে নিমন্ত্রণ করতে হয়। সাধারণত ভিক্ষুদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দান করা হয়। সংঘদানের সময় ভিক্ষুসংঘের আসনের সামনে দানসামগ্রী সুন্দরভাবে সাজাতে হয়। ভিক্ষুসংঘ পরিপাটি হয়ে আসনে উপবেশন করলে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ভিক্ষুদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ একজন সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গাথা তিনবার আবৃত্তি করেন।
বৌদ্ধধর্মে দানের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। দান দেওয়া মানুষের মহৎ কর্ম। এ গুণটি বিকশিত করার ক্ষেত্রে দানানুষ্ঠান বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। দানানুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অভ্যাস গড়ে ওঠে। অহংকার, কৃপণতা, লোভ-দ্বেষ-মোহ প্রভৃতি ভুলে পরোপকারী মনোভাব সৃষ্টি হয়। অন্যের বিপদে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রেরণা সৃষ্টি হয়। দয়া, নিঃস্বার্থপরতা, মৈত্রী, প্রেম প্রভৃতি মানবিক গুণের বিকাশ ঘটে। সৎ উপায়ে অর্জিত অর্থ দান করলে অধিক ফল অর্জন হয়। সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। পরস্পরের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি, হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। দান দ্বারা সমাজে অনেক মহৎ কাজ করা যায়। দানের ফলে চিত্তের উদারতার বৃদ্ধি এবং মানুষের মানবিক গুণাবলির বিকাশ প্রস্ফুটিত হয়। দান বা দানানুষ্ঠান নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বলা হয়, চম্পার দানের সামাজিক গুরুত্ব অনেক।
সংঘদানের জন্য অন্যূন পাঁচ জন ভিক্ষুর প্রয়োজন হয়।
ভিক্ষুসংঘকে দান করার কারণ বৌদ্ধরা বিশ্বাস করে একজন ভিক্ষুকে দান করার চেয়ে সঙ্ঘকে দান করা খুবই ফলদায়ক। সংঘদানে ভিক্ষুর সংখ্যা যত বেশি হয় ততই ভালো। এজন্য ভিক্ষুসঙ্ঘ দান করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!