দীনি আলোচনা সমাজ পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখে- মাওঃ শফীউল্লাহর বক্তব্যের আলোকে বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

দীনি আলোচনা সমাজ পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখে- উদ্দীপকের শরিফ যার বাস্তব প্রমাণ। 

পরিবর্তনশীল সমাজে সময়ের ধারাবাহিকতায় উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য কুরআন-হাদিসের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ইমামদের মতের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন মাযহাব সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে হানাফি মাযহাবে সাধারণ মানুষের পার্থিব প্রয়োজনাদি তথা লেনদেন ও আচার-আচরণের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা (র) মানবিক আবেদনে সাড়া দিয়ে অন্তর্দৃষ্টি ও উপলব্ধির সাথে সমাধান দিয়েছেন। এ মাযহাবে একদিকে গোঁড়ামি, অন্যদিকে উঁচু মানের জটিল দার্শনিক তত্ত্ব পরিহার করা হয়েছে। যেমন- হানাফি মাযহাবে বিবাহের ক্ষেত্রে কন্যা নিজ বিবাহের ব্যাপারে মতপ্রকাশে পুরুষের ন্যায় স্বাধীন। এছাড়া জিম্মির রক্ত মুসলমানের ন্যায় নিরাপদ। এরূপ বিভিন্ন ব্যাপারে বিভিন্ন মাযহাবের দীনি আলোচনা সমাজের মানুষকে নানা প্রকার গোঁড়ামি থেকে বের হয়ে আসার শিক্ষা দেয়। ফলে সমাজ পরিবর্তিত হয়। উদ্দীপকেও দীনি আলোচনার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

উদ্দীপকের মাওঃ শফীউল্লাহ অডিটরিয়ামে দীনি আলোচনায় মাযহাবের ভেদাভেদের কারণ ও হানাফি মাযহাবের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে এক মর্মস্পর্শী বক্তৃতা প্রদান করেন। শ্রোতাদের মধ্যে শরিফ হোসাইন নামে একজন লোক উপস্থিত ছিল। কোনো মাযহাব মান্য করত না। মাওলানা সাহেবের বক্তৃতায় শরিফ হোসাইনের মন বিগলিত হয় এবং পরবর্তীতে সে হানাফি মাযহাব অনুসরণ করতে শুরু করে।

উপরিউক্ত আলোচনায় দেখা যায়, দীনি আলোচনা মানুষের মনকে বিগলিত করতে পারে। আর যেহেতু মন-মানসিকতা পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সমাজের পরিবর্তন ঘটে। সুতরাং দীনি আলোচনা সমাজ পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখে- উক্তিটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
75

Related Question

View All
উত্তরঃ

সিহাহ সিত্তাহ বলতে বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে বোঝায়। হিজরি তৃতীয় শতকে হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগে হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে ছয়জন মুহাদ্দিস এবং তাদের সংকলিত গ্রন্থ বিশেষ প্রাধান্য পায়। এগুলো সর্বজনীন ও সর্বাঙ্গীন বিশুদ্ধতার স্বীকৃতি লাভ করে। ইলমে হাদিসের পরিভাষায় তাদের সংকলিত বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়। এগুলো হলো- সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে তিরমিযি, সুনানে নাসাঈ, সুনানে ইবন মাজাহ ও সুনানে আবু দাউদ। হাদিস সংকলকদের নাম অনুযায়ী উক্ত হাদিস গ্রন্থগুলোর নামকরণ করা হয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
379
উত্তরঃ

জনাব ময়নুল দ্বিতীয় উৎস হিসেবে হাদিস অধ্যয়ন করেন- যার গুরুত্ব অপরিসীম।

হাদিস অর্থ- কথা বা বাণী। ইসলামি পরিভাষায়, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতিকে হাদিস বলে। হাদিস হলো শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। এটি আল কুরআনের মূলনীতিসমূহের বাস্তবরূপ ও ব্যাখ্যা। উদ্দীপকে এ উৎসের আলোকপাত হয়েছে।

উদ্দীপকের জনাব ময়নুল কুরআনের ব্যাখ্যা বোঝার জন্য হাদিস অধ্যয়ন করেন। মূলত ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উৎস হলো হাদিসের জ্ঞান। মানুষ জীবন চলার পথে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতেই পারে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্ভূত সব সমস্যার সমাধান দিতে হাদিস অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। হাদিস মুসলমান জাতির জন্য জীবন চলার অন্যতম উপকরণ। ইসলামি জীবনধারার অন্যতম শর্ত হলো আল্লাহর বন্দেগি বা ইবাদত করা। এ ইবাদত কীভাবে করতে হবে তার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রদান করেছে হাদিস। একজন মুসলমানের সামগ্রিক আচার-আচরণ কেমন হবে তা পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছে হাদিস। আর মহানবি (স) ছিলেন পরিচ্ছন্ন আচার- আচরনের বাস্তব প্রতিকৃতি। সুতরাং ইসলামি জীবনধারায় প্রত্যেক মুসলমানের জীবনাচরণ নিয়ন্ত্রিত হবে হাদিসের আলোকে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
278
উত্তরঃ

উদ্দীপকে মাওলানা ফখরুলের কর্মটি ফিকহশাস্ত্র নিয়ে। ইসলামি শিক্ষা প্রসারে যার গুরুত্ব অপরিসীম। ফিকহ শব্দের অর্থ- অনুধাবন করা, বুঝতে পারা ইত্যাদি। পরিভাষায় যে শাস্ত্রে কর্মসংক্রান্ত তথা ব্যাবহারিক জীবনের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত শরিয়তের হুকুম-আহকাম ও বিধি-বিধান আলোচিত হয়, সে শাস্ত্রকে বলা হয় ফিকহশাস্ত্র বা ইলমুল ফিকহ। উদ্দীপকে এ শাস্ত্রেরই ইঙ্গিত এসেছে।

উদ্দীপকের মাওলানা কুরআন হাদিস গবেষণা করে এর বিধি-বিধান একটি বইয়ের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন। তার কাজটি ইসলামি আইন সম্পর্কিত জ্ঞান প্রসারে অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে। কেননা কুরআন নাজিল সমাপ্তি ও রাসুলুল্লাহ (স)-এর ইন্তেকালের পর সর্বসাধারণের উপযোগী করে শরয়ি বিধান পরিবেশনের জন্য মূলনীতি ও বিধানাবলির চুলচেরা বিশ্লেষণ অনিবার্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া কুরআন-হাদিসের অবিন্যস্ত ও বিক্ষিপ্ত বর্ণনা ইসলামি আইনের বিন্যাস ও সহজ উপস্থাপনার উপযোগিতা সৃষ্টি করে। ফিকহশাস্ত্র শরয়ি বিধানের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেয়। বিধান গুলোর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুসারে এগুলোকে বিন্যস্ত করে সব দেশের সাধারণ মানুষের উপযোগী করে। সর্বোপরি এ শাস্ত্রবিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে সহজ উপস্থাপনার রীতি গ্রহণ করে আপামর মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মানুশীলনকে সহজসাধ্য করেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
234
উত্তরঃ

ইসলামের প্রসারের ফলে সাহাবিদের যুগে ফিকহশাস্ত্র বিকশিত হয়। সাহাবিদের যুগে ইসলাম দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়। সাহাবিগণ সম্মিলিতভাবে কুরআন-হাদিসের মূলনীতির আলোকে এসব সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ চেষ্টায় তারা ইজতিহাদের সূচনা করেন। এরপর ইজতিহাদি বিষয়ে ইজমা প্রতিষ্ঠিত করে সমস্যার সর্বসম্মত সমাধান দেওয়ার প্রয়াস পান। ফলে এ যুগে স্বতন্ত্র ফিকহশাস্ত্র সৃষ্টির পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
372
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews