দুইটি সমাসবদ্ধ শব্দ লিখুন।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ পিতাম্বর, রাজপুত্র

বাংলা ব্যাকরণে 'সমাস' একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। এটি দুই বা ততোধিক পদকে একপদে পরিণত করার প্রক্রিয়া, যার ফলে নতুন একটি শব্দ গঠিত হয় এবং বাক্য সংক্ষেপিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো ভাষার সৌন্দর্য ও গতি বৃদ্ধি করা, এবং একই সাথে একাধিক অর্থবোধক পদকে একটি একক শব্দে প্রকাশ করা। এর ফলে ভাষা আরও সুনির্দিষ্ট এবং অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা বিশেষ করে সরকারি চাকরির পরীক্ষা বা উচ্চশিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলায় মূলত ছয় প্রকার সমাস প্রচলিত আছে, যা নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

        
  • দ্বন্দ্ব সমাস: যে সমাসে সমস্যমান প্রতিটি পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে এবং ব্যাসবাক্যে 'ও', 'এবং', 'আর' ইত্যাদি অব্যয় পদ ব্যবহূত হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: মা-বাবা (মা ও বাবা), ভাই-বোন (ভাই ও বোন), ভালো-মন্দ (ভালো ও মন্দ)।
  •     
  • কর্মধারয় সমাস: বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মধ্যে অথবা বিশেষণ ও বিশেষণ পদের মধ্যে যে সমাস হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়। এটি সাধারণত চার প্রকার: মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত ও রূপক কর্মধারয়। যেমন: নীলপদ্ম (নীল যে পদ্ম), মহাজন (মহান্ যে জন), সিংহাসন (সিংহ চিহ্নিত আসন)।
  •     
  • তত্পুরুষ সমাস: এই সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি (দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত) লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়। বিভক্তিভেদে এটি ছয় প্রকার। যেমন: রাজপুত্র (রাজার পুত্র - ষষ্ঠী তত্পুরুষ), বিপদাপন্ন (বিপদকে আপন্ন - দ্বিতীয়া তত্পুরুষ), মনগড়া (মন দিয়ে গড়া - তৃতীয়া তত্পুরুষ)।
  •     
  • বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে সমস্যমান পদগুলির কোনোটিরই অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে অন্য কোনো তৃতীয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। এটি বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে, যেমন: সমানাধিকরণ, ব্যাধিকরণ, ব্যতিহার, নঞর্থক ইত্যাদি। যেমন: দশানন (দশ আনন যার - রাবণ), পিতাম্বর (পীত অম্বর যার - বিষ্ণু), হাতাহাতি (হাতে হাতে যে যুদ্ধ)।
  •     
  • দ্বিগু সমাস: যে সমাসে পূর্বপদ সংখ্যাবাচক বিশেষণ হয় এবং পরপদ বিশেষ্য হয়, এবং সমাসবদ্ধ পদটি সমষ্টি বা সমাহার অর্থ প্রকাশ করে, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। এটি কর্মধারয় সমাসেরই একটি বিশেষ রূপ। যেমন: তেমাথা (তিন মাথার সমাহার), পঞ্চনদ (পঞ্চ নদের সমাহার), ত্রিকাল (ত্রিকাল বা তিন কালের সমাহার)।
  •     
  • অব্যয়ীভাব সমাস: এই সমাসে পূর্বপদে অব্যয় যুক্ত থাকে এবং অব্যয়ের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়। এই সমাসবদ্ধ পদটি ক্রিয়া বিশেষণ বা অব্যয়রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: আমরণ (মরণ পর্যন্ত), প্রতিদিন (দিনের পর দিন), উপকূল (কূলের সমীপে)।

উপরে প্রদত্ত 'পিতাম্বর' শব্দটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ (পীত অম্বর যার), এবং 'রাজপুত্র' শব্দটি তত্পুরুষ সমাসের উদাহরণ (রাজার পুত্র)। সমাস নির্ণয় ও প্রয়োগের দক্ষতা বাংলা ব্যাকরণে দখল ও পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য অপরিহার্য।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
142

সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। যেমন : দেশের সেবা = দেশসেবা, বই ও পুস্তক = বইপুস্তক, নেই পরোয়া যার বেপরোয়া। বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে সমাসের = সৃষ্টি। সমাস দ্বারা দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে নতুন অর্থবোধক পদ সৃষ্টি হয়। এটি শব্দ তৈরি ও প্রয়োগের একটি বিশেষ রীতি। সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। তবে খাঁটি বাংলা সমাসের দৃষ্টান্তও প্রচুর পাওয়া যায়। সেগুলোতে সংস্কৃতের নিয়ম খাটে না।

সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ।

 

সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদটির অন্তর্গত পদগুলোকে সমস্যমান পদ বলে। সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় পূর্বপদ এবং পরবর্তী অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় উত্তরপদ বা পরপদ ।

সমস্ত পদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ করা হয়, তার নাম সমাসবাক্য, ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য। উদাহরণ-বিলাত – ফেরত রাজকুমার সিংহাসনে বসলেন। এখানে বিলাত-ফেরত, রাজকুমার ও সিংহাসন এ তিনটিই - সমাসবদ্ধ পদ। এগুলোর গঠন প্রক্রিয়া ও রকম বিলাত হতে ফেরত, রাজার কুমার,সিংহ চিহ্নিত আসন এগুলো হচ্ছে ব্যাসবাক্য। এসব ব্যাসবাক্যে 'বিলাত’, ফেরত’, ‘রাজা, ‘কুমার,’ ‘সিংহ’, ‘আসন' হচ্ছে এক একটি সমস্যমান পদ। আর বিলাত-ফেরত, রাজকুমার এবং সিংহাসন সমস্ত পদ। বিলাত, রাজা ও সিংহ হচ্ছে পূর্বপদ এবং ফেরত, কুমার ও আসন হচ্ছে পরপদ। -

 

সমাস প্রধানত ছয় প্রকার : দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু ও অব্যয়ীভাব সমাস ।

 

[ দ্বিগু সমাসকে অনেক ব্যাকরণবিদ কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবার কেউ কেউ কর্মধারয়কেও তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেছেন। এদিক থেকে সমাস মূলত চারটি : দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, অব্যয়ীভাব। কিন্তু সাধারণভাবে ছয়টি সমাসেরই আলোচনা করা গেল। এছাড়া, প্রাদি, নিত্য, অলুক ইত্যাদি কয়েকটি অপ্রধান সমাস রয়েছে। সংক্ষেপে সেগুলোরও আলোচনা করা হয়েছে। ]

Related Question

View All
উত্তরঃ

অনশন = ন অশন = নঞ তৎপুরুষ সমাস

PRONAY TIRKI
PRONAY TIRKI
3 years ago
উত্তরঃ

সপ্তর্ষি = সপ্ত ঋষির সমাহার = দ্বিগু সমাস

PRONAY TIRKI
PRONAY TIRKI
3 years ago
উত্তরঃ

পরানপাখি = পরান রূপ পাখি = রূপক কর্মধারয় সমাস

PRONAY TIRKI
PRONAY TIRKI
3 years ago
উত্তরঃ

হাটবাজার = হাট ও বাজার = দ্বন্দ্ব সমাস

PRONAY TIRKI
PRONAY TIRKI
3 years ago
উত্তরঃ

আয়কর = আয়ের উপর কর = মধ্যপদলোপী কর্মধারয়

PRONAY TIRKI
PRONAY TIRKI
3 years ago
834
উত্তরঃ

সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ বা একপদীকরণ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের একটি পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে ।

বাংলাভাষায় সমাসের প্রয়োজনীয়তাঃ
ভাষা সংক্ষিপ্তকরণঃ সমাস ভাষাকে সংক্ষেপ করে। যেমন: মাস্টার সাহেবের ঘরে আশ্রিত জামাই বাষ্প চালিত যানে ঢাকা গেলেন। না বলে সংক্ষিপ্তাকারে আমরা বলতে পারি - মাস্টার সাহেবের ঘরজামাই বাষ্পযানে ঢাকা গেলেন।

নতুন শব্দ গঠনঃ সমাস নতুন নতুন শব্দ গঠন করে। যেমন: জায়া ও পতি মিলে নতুন শব্দ দম্পতি

ভাষার শ্রুতিমধুরতা বৃদ্ধিঃ সমাস ভাষাকে শ্রুতিমধুর, প্রাঞ্জল ও ছন্দময় করে তোলে। যেমনঃ 'রাজা সিংহ চিহ্নিত আসনে বসে আছেন' না বলে ‘রাজা সিংহাসনে বসে আছেন' বললে বাক্যটি শ্রুতিমধুর হয়।

তুলনাকরণঃ দুই পদের মধ্যে তুলনা বোঝাতেও সমাস ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন: বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু সহচর শব্দ গঠনঃ সমাসের মাধ্যমে সহচর শব্দ গঠিত হয়। যেমন: সোনা ও রুপা = সোনারুপা ।

8k
উত্তরঃ

রাজর্ষি = যিনি রাজা তিনিই ঋষি (কর্মধারয় সমাস)।

উত্তরঃ

অহি-নকুল = অহি ও নকুল (দ্বন্দ্ব সমাস)।

192
উত্তরঃ

সতীর্থ = সমান তীর্থ যাদের (বহুব্রীহি সমাস)। 

শিক্ষামন্ত্রী = শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)। 

প্রগতি = প্র (প্রকৃষ্ট) গতি (প্রাদি সমাস)।

524
উত্তরঃ

বাংলা ভাষায় সমাসের প্রয়োজনীয়তা

১. সমাসের মাধ্যমে অনেক নতুন শব্দ গঠন করা যায় 

২. ভাষাকে সহজ-সরল সংক্ষিপ্ত শ্রুতিমধুর করা যায়।

৩. অল্প কথায় ব্যাপক ভাব প্রকাশ করা যায়। 

৪. সহজভাবে শব্দ উচ্চারণ করা যায়

৫. বক্তব্যকে সুন্দর - অর্থবহ তাৎপর্যপূর্ণ করা যায়। 

৬.ব্যাক্যকে গতিশীল করা যায়।

1.4k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews