দৃশ্যকল্প-১: আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে

কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।

মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন,

মানুষ হইতে হবে এই যার পণ।

দৃশ্যকল্প-২: নন্দর ভাই কলেরায় মরে দেখিবে তারে কেবা

সকলে বলিল, যাও না নন্দ কর না ভায়ের সেবা

নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই

না হয় দিলাম, অভাগা দেশের হইবে কী?

বাঁচাটা আমার অতি দরকার ভেবে দেখি চারদিক।

Updated: 7 months ago
উত্তরঃ

কাজের সম্ভাবনা-অসম্ভাবনার কথা আগে বিবেচনা করে কাজে নামলে উৎসাহ অনর্থক নষ্ট হবে না।

উত্তরঃ

'দশচক্রে ভগবান ভূত' কথাটির মধ্য দিয়ে বোঝানো হয়েছে, দশজনের চক্রান্তে সাধুও অসাধু প্রতিপন্ন হতে পারে।

'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে লেখক মানবজীবনে ভাব ও কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন। আমাদের সমাজে এক শ্রেণির মানুষ আছেন যারা সত্যিকার দেশকর্মী ও ত্যাগী। কিন্তু সমাজের অসৎ লোকদের কারণে তারা দেশের কোনো কল্যাণ কর্মে অংশগ্রহণ করেন না। এমনকি তাদের দানকে অসৎ লোকেরা নিজেদের কাজে ব্যবহার করে। যারা সত্যিকার দেশকর্মী তারা এসব অসৎ লোকের কারচুপিতে পুয়াল চাপা পড়ে। এসব অসৎ ব্যক্তি সৎ লোকদের মিথ্যাবাদী ও দোষী প্রমাণ করে দেয়। সহজ-সরল সাধারণ মানুষরা এসব বুঝতে না পেরে মহৎপ্রাণ মানুষদেরই ভুল বোঝে। বহু অসৎ লোকের ষড়যন্ত্রে সৎ অসতে পরিণত হন। এ কথাটি আলোচ্য চরণের মধ্য দিয়ে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন।

উত্তরঃ

'দৃশ্যকল্প-২' 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের ভাবের সঙ্গে কাজের সমন্বয়হীনতা ও কর্মবিমুখতার বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করেছে।

পরিশ্রমের মাধ্যমেই জীবনে সফলতা আসে। তা জানা সত্ত্বেও মানুষ পরিশ্রম করতে চায় না। কাজ না করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে। যারা কাজ থেকে নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে রাখে, তারা অলস ও আরামপ্রিয়। তাদের দ্বারা দেশ ও জাতির কোনোরূপ উন্নতি, অগ্রগতি এবং তাদের নিজেদের আত্মমুক্তি সম্ভব নয়।

'দৃশ্যকল্প-২'-এ নন্দলালের অলসতা ও কর্মবিমুখতা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে নন্দলাল দেশসেবার নামে নিজেকে কর্ম থেকে যেভাবে দূরে সরিয়ে রেখেছে তা প্রকৃতপক্ষে দেশসেবার জন্য প্রস্তুতি নয়। বরং দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য কর্মবিমুখতা। সে অসুস্থ ভাইয়ের সেবা পর্যন্ত করতে রাজি নয়, অথচ বলে, দেশের সেবা করবে বলে সে নিজেকে সুস্থ রাখছে। নন্দর এই যুক্তি কর্মবিমুখ, অলস ব্যক্তির অসার উক্তি। এ ধরনের মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের দ্বারা কোনো কালেই কোনো দেশ ও জাতির কোনোরূপ উন্নতি সম্ভব হয়নি। উদ্দীপকের নন্দলালের বৈশিষ্ট্য 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের শুধু ভাব নিয়ে অকর্মণ্য থাকা মানুষের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। যারা কেবল ভাব দ্বারা জীবনকে পরিচালিত করতে চায়, তাদের দ্বারা জগতে কোনো সাফল্য আসে না, কারণ ভাবের সঙ্গে কাজের সমন্বয় না ঘটাতে পারলে ভাবাবেশ কপূরের মতো উবে যায়। আর এতে করে আত্মার শক্তি নষ্ট হয়। তাই বলা যায় যে, দৃশ্যকল্প-২ আলোচ্য প্রবন্ধের ভাবের সঙ্গে কাজের সমন্বয়হীনতা ও কর্মবিমুখতার বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করেছে।

উত্তরঃ

দৃশ্যকল্প-১-এর আহ্বানই 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের লেখকের আহ্বান।- মন্তব্যটি যথার্থ।

কোনো দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য সমন্বিত কাজের কোনো বিকল্প নেই। শুধু কথা বা ভাব দিয়ে জাগতে মহৎ কিছু অর্জন করা যায় না। তার জন্য কর্মশক্তি এবং সঠিক উদ্যোগের দরকার হয়। তাই ভাবের দ্বারা মানুষকে জাগিয়ে তুলে যথাযথ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে তাকে কাজে জুড়ে দিতে হয়। তা না হলে যেকোনো ভালো উদ্যোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এর কবিতাংশে কবি তার দেশে সেই ছেলের প্রত্যাশা করেছেন, যে ছেলে কথায় বড় হতে চায় না, কর্মশক্তি দিয়ে মহৎ কাজ করে বড় হতে চায়। যার মুখে আত্মবিশ্বাসের হাসি লেগে থাকবে, আর কঠিন কাজ করার জন্য প্রচণ্ড তেজ ও বুকভরা সাহস থাকবে। উদ্দীপকের কবির সেই প্রত্যাশিত ছেলেদের 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে লেখকও প্রত্যাশা করেছেন। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ কবি যেমন কথায় নয়, কাজে বড় হওয়া সাহসী ছেলের প্রত্যাশা করেছেন, তেমনই 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধেও লেখক ভাব ও কাজের সমন্বয় সাধনকারীদের আহ্বান করেছেন। কারণ তিনি জানেন ভাব ও কাজের সমন্বয় না ঘটলে জগতে কোনো মহৎ কাজ সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।

'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে লেখক ভাব ও কাজের সমন্বয়ে সাফল্যের বাস্তবধর্মী কর্মে তৎপর হওয়ার উপর জোর দিয়েছেন। যাতে দেশের উন্নতি ও কল্যাণ সাধন হয়। তাই তিনি ভাব জাগিয়ে তোলার আগে কর্মক্ষেত্র প্রস্তুতের কথা বলেছেন। কাজের মধ্যদিয়ে মানুষকে মুক্তি লাভ করতে বলেছেন। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ কবিতাংশের কবিও কথায় বড় না হয়ে কাজে বড় হওয়ার কথা বলেছেন। এদিক বিচারে বলা যায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

71

ভাবে আর কাজে সম্বন্ধটা খুব নিকট বোধ হইলেও আদতে এ-জিনিস দুইটায় কিন্তু আসমান-জমিন তফাৎ। ভাব জিনিসটা হইতেছে পুষ্পবিহীন সৌরভের মতো, একটা অবাস্তব উচ্ছ্বাস মাত্র। তাই বলিয়া কাজ মানে যে সৌরভবিহীন পুষ্প, ইহা যেন কেহ মনে করিয়া না বসেন। কাজ জিনিসটাই ভাবকে রূপ দেয়, ইহা সম্পূর্ণভাবে বস্তুজগতের। 

তাই বলিয়া ভাবকে যে আমরা মন্দ বলিতেছি বা নিন্দা করিতেছি, তাহা নহে; ভাব জিনিসটা খুবই ভালো। মানুষকে কব্জায় আনিবার জন্য তাহার সর্বাপেক্ষা কোমল জায়গায় ছোঁওয়া দিয়া তাহাকে মাতাইয়া না তুলিতে পারিলে তাহার দ্বারা কোনো কাজ করানো যায় না, বিশেষ করিয়া আমাদের এই ভাব-পাগলা দেশে। কিন্তু শুধু ভাব লইয়াই থাকিব, লোককে শুধু কথায় মাতাইয়া মশগুল করিয়াই রাখিব, এও একটা মন্ত বদ-খেয়াল। এই ভাবকে কার্যের দাসরূপে নিয়োগ করিতে না পারিলে ভাবের কোনো সার্থকতাই থাকে না। তাহা ছাড়া ভাব দিয়া লোককে মাতাইয়া তুলিয়া যদি সেই সময় গরমাগরম কার্যসিদ্ধি করাইয়া লওয়া না হয়, তাহা হইলে পরে সে ভাবাবেশ কর্পূরের মতো উড়িয়া যায়। অবশ্য, এখানে কার্যসিদ্ধি মানে স্বার্থসিদ্ধি নয়। যিনি ভাবের বাঁশি বাজাইয়া জনসাধারণকে নাচাইবেন, তাঁহাকে নিঃস্বার্থ ত্যাগী ঋষি হইতে হইবে । তিনি লোকদিগের সূক্ষ্ম অনুভূতি বা ভাবকে জাগাইয়া তুলিবেন মানুষের কল্যাণের জন্য, নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়। তাঁহাকে একটা খুব মহত্তর উদ্দেশ্য ও কল্যাণ কামনা লইয়া ভাবের বন্যা বহাইতে হইবে, নতুবা বানভাসির পর পলিপড়ার মতো সাধারণের সমস্ত উৎসাহ ও প্রাণ একেবারে কাদাঢাকা পড়িয়া যাইবে । এই জন্য কেহ কেহ বলেন যে, লোকের কোমল অনুভূতিতে ঘা দেওয়া পাপ। কেননা অনেক সময় অনুপযুক্ততা প্রযুক্ত ইহা হইতে সুফল না ফলিয়া কুফলই ফলে। আগে হইতে সমস্ত কার্যের বন্দোবস্ত করিয়া বা কার্যক্ষেত্র তৈয়ার রাখিয়া তবে লোকদিগকে সোনার কাঠির ছোঁওয়া দিয়া জাগাইয়া তুলিতে হইবে। নতুবা তাহারা যখন জাগিয়া দেখিবে যে, তাহারা অনর্থক জাগিয়াছে, কোনো কার্য করিবার নাই, তখন মহা বিরক্ত হইয়া আবার ঘুমাইয়া পড়িবে এবং তখন আর জাগাইলেও জাগিবে না। কেননা, তখন যে তাহারা জাগিয়া ঘুমাইবে এবং জাগিয়া ঘুমাইলে তাহাকে কেহই ভুলিতে পারে না। তাহা অপেক্ষা বরং কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভালো, সে-ঘুম ঢোল কাঁসি বাজাইয়া ভাঙানো বিচিত্র নয়।

এ-কথাটা একটা মস্ত সত্যি, তাহা এতদিনে আমরা ঠেকিয়া শিখিয়াছি। এই যে সেদিন একটা হুজুগে মাতিয়া হুড়হুড় করিয়া হাজার কতক স্কুল-কলেজের ছাত্রদল বাহির হইয়া আসিল, কই তাহারা তো তাহাদের এই সৎ সঙ্কল্প, এই মহৎ ত্যাগকে স্থায়ীরূপে বরণ করিয়া লইতে পারিল না। কেন এমন হইল? একটা সাময়িক উত্তেজনার মুখে এই ত্যাগের অভিনয় করিতে গিয়া 'স্পিরিট'কে কী বিশ্রী ভাবেই না মুখ ভ্যাঙচানো হইল! যাহারা শুধু ভাবের চোটে না বুঝিয়া না শুনিয়া শুধু একটু নামের জন্য বা বদনামের ভয়ে এমন করিয়া তাহাদের ‘স্পিরিট' বা আত্মার শক্তির পবিত্রতা নষ্ট করিল, তাহারা কি দরকার পড়িলে আবার কাল এমনি করিয়া বাহির হইয়া আসিতে পারিবে? আজ যাহারা মুখে চাদর জড়াইয়া কল্যকার ত্যক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার মুখটি চুন করিয়া ঢুকিল, কাল দেশের সত্যিকার ডাক আসিলে তাহারা কি আর তাহাতে সাড়া দিতে পারিবে? হঠকারিতা করিয়া একবার যে ভোগটা ভুগিল বা ভ্রম করিল, তাহারই অনুশোচনাটা তাহারা কিছুতেই মন হইতে মুছিয়া ফেলিতে পারিবে না – বাহিরে যতই কেন লা-পরওয়া ভাব দেখাক না। এখন সত্যিকার ডাক শুনিয়া প্রাণ চাহিলেও সে লজ্জায় তাহাতে আসিয়া যোগদান করিতে পারিবে না। এই রূপে আমরা আমাদের দেশের প্রাণশক্তি এই তরুণদের 'স্পিরিট'টাকে কুব্যবহারে আনিয়া মঙ্গলের নামে দেশের মহা শত্রুতা সাধনই করিতেছি না কি? রাগিবার কথা নয়, এখন ইহা রীতিমতো বিবেচনা-সাপেক্ষ। আমাদের এই আশা-ভরসাস্থল যুবকগণ এত দুর্বল হইল কীরূপে বা এমন কাপুরুষের মতো ব্যবহারই বা করিল কেন? সে কি আমাদেরই দোষে নয়? সাপ লইয়া খেলা করিতে গেলে তাহাকে দস্তুরমতো সাপুড়ে হওয়া চাই, শুধু একটু বাঁশি বাজাইতে পারিলেই চলিবে না। আজ যদি সত্যিকার কর্মী থাকিত দেশে, তাহা হইলে এমন সুবর্ণ সুযোগ মাঝ-মাঠে মারা যাইত না। ত্যাগী অনেক আছেন দেশে, কিন্তু কর্মীর অভাবে বা তথাকথিত কর্মী নামে অভিহিত লোকদের সত্য সাধনার অভাবে তাঁহারা কোনো ভালো কাজে আর কোনো অর্থ দিতে চাহেন না, বা অন্য কোনোরূপ ত্যাগ স্বীকার করিতেও রাজি নন। কী করিয়া হইবেন? তাঁহারা তাঁহাদের চোখের সামনে দেখিতেছেন যে, কতো লোকের কতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলার ধন দেশের নামে, কল্যাণের নামে আদায় করিয়া বাজে লোকে নিজেদের উদর পূর্ণ করিতেছে। যাঁহারা সত্যিকার দেশকর্মী— সে বেচারারা সত্যি কথা স্পষ্টভাবে বলিতে গিয়া এই সব কর্মীর কারচুপিতে পুয়ালচাপা পড়িয়া গিয়াছে। বেচারারা এখন ভালো বলিতে গেলেও এই সব মুখোশ-পরা ত্যাগী মহাপুরুষগণ হট্টগোল বাধাইয়া লোককে সম্পূর্ণ উল্টা বুঝাইয়া দিয়া তাহাকে একদম খেলো, ঝুটা ইত্যাদি প্রমাণ করিয়া দেন। সহজ জনসাধারণের সরল মন এ-সব না ধরিতে পারার দরুন তাহাদের মন অতি অল্পেই ঐ সত্যিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে বিষাইয়া উঠে। ‘দশচক্রে ভগবান ভূত' কথাটা মস্ত সত্যি কথা ।
তাহা হইলে এখন উপায় কী? এক সহজ উপায় এই যে, এখন হইতে জনসাধারণের বা শিক্ষিত কেন্দ্রের উচিত, ভাবের আবেগে অতিমাত্রায় বিহ্বল হইয়া কাণ্ডাকাণ্ড ভালোমন্দ জ্ঞান হারাইয়া না ফেলা। আমরা বলিব, ভাবের সুরা পান করো ভাই, কিন্তু জ্ঞান হারাইও না। তাহা হইলে তোমার পতন, তোমার দেশের পতন, তোমার ধর্মের পতন, মনুষ্যত্বের পতন! ভাবের দাস হইও না, ভাবকে তোমার দাস করিয়া লও। কর্মে শক্তি আনিবার জন্য ভাব-সাধনা কর। ‘স্পিরিট' বা আত্মার শক্তিকে জাগাইয়া তোল, কিন্তু তাই বলিয়া কর্মকে হারাইও না। অন্ধের মতো কিছু না বুঝিয়া না শুনিয়া ভেড়ার মতো পেছন ধরিয়া চলিও না । নিজের বুদ্ধি, নিজের কর্মশক্তিকে জাগাইয়া তোল। তোমার এই ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্যই দেশকে উন্নতির দিকে, মুক্তির দিকে আগাইয়া লইয়া যাইবে। এ-সব জিনিস ভাব-আবিষ্ট হইয়া চক্ষু বুজিয়া হয় না। কোমর বাঁধিয়া কাৰ্যে নামিয়া পড়িতে হইবে এবং নামিবার পূর্বে ভালো করিয়া বুঝিয়া-সুঝিয়া দেখিয়া লইতে হইবে, ইহার ফল কী। শুধু উদ্‌মো ষাঁড়ের মতো দেওয়ালের সঙ্গে গা ঘেঁষড়াইয়া নিজের চামড়া তুলিয়া ফেলা হয় মাত্র। দেওয়াল প্রভু কিন্তু দিব্যি দাঁড়াইয়া থাকেন। তোমার বন্ধন ওই সামনের দেওয়ালকে ভাঙিতে হইলে একেবারে তাহার ভিত্তিমূলে শাবল মারিতে হইবে।
আবার বলিতেছি, আর ভাবের ঘরে চুরি করিও না। আগে ভালো করিয়া চোখ মেলিয়া দেখ। কার্যের সম্ভাবনা-অসম্ভাবনার কথা অগ্রে বিবেচনা করিয়া পরে কার্যে নামিলে তোমার উৎসাহ অনর্থক নষ্ট হইবে না । মনে রাখিও তোমার 'স্পিরিট' বা আত্মার শক্তিকে অন্যের প্ররোচনায় নষ্ট করিতে তোমার কোনো অধিকার নাই। তাহা পাপ মহাপাপ !

Related Question

View All
উত্তরঃ

যিনি ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনসাধারণকে নাচাবেন তাঁকে নিঃস্বার্থ ত্যাগী ঋষি হতে হবে।

702
উত্তরঃ

মানুষের মুক্তি ও উন্নতি সাধনের জন্য লেখক 'স্পিরিট' বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন।

একটি দেশের সার্বিক কল্যাণ সাধনে তরুণরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের মুক্তি, উন্নতি ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে তরুণরাই ভরসার স্থল। যুগে যুগে এদেশের যত অর্জন হয়েছে সেগুলো তাদের তারুণ্যের, চেতনার পথ ধরেই হয়েছে। তারা আত্মসচেতন হলে সমস্ত অন্যায়, অবিচার, নীচতা-হীনতা দূর হয়, সত্য-সুন্দর ও ন্যায়ের পথ সুগম হয়। এর জন্য অবশ্য প্রয়োজন হয় আত্মার শক্তি। এসব কারণে লেখক তরুণদের মধ্যে স্পিরিট বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন।

565
উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের ভাবের দাসত্ব না করে 'ভাব'কে কাজের দাসরূপে নিয়োগ করার দিকটি নির্দেশ করে।

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। পরিশ্রম না করে কেউ উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে না। বাঙালির অনগ্রসরতার মূলে রয়েছে তাদের শ্রমবিমুখতা। তারা ভাবের দাসত্বে চেতনাহীন। কাজের সঙ্গে তাদের ভাবের সমন্বয় ঘটে না।

উদ্দীপকে ভাবকল্পনা এবং কর্মের বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে শুধু ভাব দিয়ে যে উন্নতি সম্ভব নয় সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমে নিজের সৃজনীশক্তির বিকাশ ঘটিয়ে কর্মানুশীলনের মাধ্যমে নিজের, দেশ ও জাতির কল্যাণের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি আলোচ্য 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের আলোচিত বিষয়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সেখানে লেখক 'ভাব' ও 'কাজ' এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে দেশ ও জাতির মুক্তি ও উন্নতির কথা বলেছেন। লেখক বলেছেন, "ভাব'কে কার্যের দাসরূপে নিয়োগ করিতে না পারিলে ভাবের কোনো সার্থকতাই থাকে না।" উদ্দীপকেও এর সমর্থন পাওয়া যায়।

283
উত্তরঃ

"কল্পনার জগতে হাবু-ডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক"- মন্তব্যটি 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।

বাঙালি শ্রমবিমুখ বলে পৃথিবীর বহু জাতি থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। তাদের মনে ভাবকল্পনার শেষ নেই। আর সেই কারণেই জীবনের অশেষ কাজ পেছনে পড়ে থাকে। যা তাদের জীবনের উন্নতি ও অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

উদ্দীপকে 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে প্রতিফলিত ভাবের দাসত্ব না করে কাজে অগ্রসর হয়ে 'ভাব'কে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। শুধু স্বপ্ন ও কল্পনায় বিভোর থাকলে জীবনে উন্নতি করা সম্ভব নয়। ভাবকে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে না পারলে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব নয়। 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে শুধু ভাব দিয়ে যে কিছুই অর্জন করা যায় না সেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দেশ ও জাতির উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য কর্মশক্তি এবং সঠিক উদ্যোগের দরকার হয়। ভাবের মাধ্যমে মানুষকে জাগিয়ে তোলা যায়, কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা ও কাজের স্পৃহা ছাড়া যেকোনো ভালো উদ্যোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধে শুধু ভাবের উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত না হয়ে, ভাবের সঙ্গে পরিকল্পিত কর্মশক্তি ও বাস্তব উদ্যোগের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভাব বিষয়টি মূলত আবেগনির্ভর। তাই শুধু ভাব বা আবেগ দিয়ে কাজ সম্পাদিত হয় না। কাজের জন্য এর যথার্থ প্রয়োগ আবশ্যক। কাজেই সার্বিক মুক্তি, উন্নতি ও কল্যাণের জন্য ভাব-কল্পনার সঙ্গে কাজের সমন্বয় সাধন করতে হয়। এসব দিক বিচার করে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

370
উত্তরঃ

দেয়াল ভাঙতে হলে দেয়ালের ভিত্তিমূলে শাবল মারতে হবে।

117
উত্তরঃ

প্রশ্নোক্ত বাক্যটি দ্বারা লেখক মানুষের মুক্তি ও উন্নতির পথের অন্তরায়গুলো দূর করতে চাইলে অন্যায়ের ভিত্তিমূলে প্রতিবাদের শাবল মারার নির্দেশ করেছেন।

সাধারণভাবে কোনো ভালো কাজের পক্ষে যেমন সমর্থন পাওয়া যায়, তেমনই এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া ও কার্যক্রমও লক্ষ করা যায়। সমাজের এক শ্রেণির মানুষ চেষ্টা করে যাতে কাজটা না হয়, কাজটি যাতে থেমে যায়। এতে আমাদের মহৎ উদ্দেশ্য নষ্ট হয়, কর্মস্পৃহা কমে যায়। আমরা লোকভয়, লোকলজ্জা এবং নানা সমস্যা-সংকট বিবেচনা করে রণে ভঙ্গ দিই। প্রকৃতপক্ষে তা করা উচিত নয়। আমাদের উচিত সর্বশক্তি নিয়ে তাঁদের হীনশক্তির মূলে আঘাত করে প্রতিবাদ করে নিজেদের অধিকার, স্বাধীনতা এবং যাবতীয় প্রাপ্য বুঝে নেওয়া। তাতেই আমাদের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হতে পারে।

152
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews