কোনো দেশের একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক আর্থিক বছরে) সরকারের প্রত্যাশিত আয় ও সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ সমান না হলে তাকে অসম বাজেট বলে।
বাজেটের যে অংশে সরকারের দৈনন্দিন বা চিরাচরিত আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয় এবং বাজেটের ব্যয়ের খাতসমূহ সরাসরি উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, তাকে অ-উন্নয়ন বাজেট বলে।
অ-উন্নয়ন বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশ রক্ষা এবং দেশের প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিষয় এ বাজেটে উল্লেখ থাকে না। এই বাজেটের আয় সংগৃহীত হয় মূলত কর ও করবহির্ভূত রাজস্ব হতে। এ বাজেটের ব্যয়ের খাতগুলোর মধ্যে শিক্ষা ও প্রযুক্তি, জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
দৃশ্যকল্প-১ এ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত বলতে এখানে কর রাজস্ব খাতকে বোঝানো হয়েছে।
সরকার জনগণের নিকট থেকে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ আদায় করে কিন্তু তার বিনিময়ে জনগণ সরকার থেকে সরাসরি বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা আশা করতে পারে না তাকে কর রাজস্ব বলে। সরকার দেশের নিবাসী বা অনিবাসী ব্যক্তি, বিভিন্ন ব্যবসায়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং পণ্যের ওপর যে কর ধার্য করে তা থেকে প্রাপ্ত আয়কে কর রাজস্ব বলা হয়। সরকারের কর রাজম্বের উৎসসমূহ হলো- আয়কর, মূল্যসংযোজন কর, আবগারি শুল্ক, ভূমি রাজস্ব ইত্যাদি।
কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত আয়ের ওপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আয়কর বলে। বাংলাদেশ সরকাররে আয়ের একটি অন্যতম উৎস হলো আয়কর। আবার, উৎপাদন ক্ষেত্রে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয় তার ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে যে কর আরোপ করা হয়, সেটি হচ্ছে মূল্য সংযোজন কর (মূসক)। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে বলা হয় আবাগারি শুল্ক। এছাড়া ভূমি মালিকানা ও ভোগদখলের জন্য ভূমির মালিকদের যে খাজনা দিতে হয় তা ভূমি রাজস্বের অন্তর্গত।
দৃশ্যকল্প-২ বা সরকারের ব্যয়ের খাতসমূহের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে দৃশ্যকল্প-১ বা সরকারি আয়ের উৎস হিসেবে কর রাজম্বের ওপর নির্ভরশীল। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সম্পদ ব্যবহার তথা অর্থ ব্যয় অপরিহার্য। সরকারি এ ব্যয় ব্যবস্থাপনা সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অর্থাৎ সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং এর খাতসমূহ সম্পূর্ণভাবে সরকারি আয়ের ওপর নির্ভরশীল। যদি কোনো আর্থিক বছরে সরকারের আয়ের খাত সংকোচন হয় তবে এসব ব্যয়নির্বাহ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তখন সরকারকে বাধ্য হয়ে বিদেশি সরকার বা বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করে বাজেটের ব্যয়নির্বাহ করতে হয়। এতে করে সরকারকে অধিক হারে অন্য দেশের ওপর এবং তাদের ধার্য করা নানান শর্তের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই দেশের সরকারি ব্যয়সমূহের অর্থ সংস্থানের জন্য কর রাজস্ব খাতই সর্বাপেক্ষা উত্তম।
অন্যদিকে, সরকারকে দেশ পরিচালনার জন্য প্রতিবছর শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত, প্রতিরক্ষা, দারিদ্র্যবিমোচন, কর্মসংস্থান ইত্যাদি খাতে ব্যয়নির্বাহ করতে হয়। দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও গুণগত মানের উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারকে যে অর্থ ব্যয় করতে হয় তা অনেকাংশে কর রাজস্ব খাত থেকে আসে। অন্যদিকে, সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাপত্র হাতে নিয়েছে। যার জন্য দেশের প্রতিটি স্থানে 'ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়াও দেশরক্ষা, প্রতিরক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য যে ব্যয়ের প্রয়োজন তা কর রাজস্ব থেকে আসে।
অতএব, বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এর কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে দৃশ্যকল্প-১ এর ওপর নির্ভরশীল।
Related Question
View Allভূমির মালিকানা অধিকার ভোগের জন্য ভূমির মালিক সরকারকে যে খাজনা দেয় তাকে ভূমি রাজস্ব বলে।
সম্পূরক শুল্ক হলো একটি পরোক্ষ কর। বিশেষ অবস্থায় এটি ধার্য করা হয়।
অনেক সময় কিছু দ্রব্যসামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক বা আবগারি শুল্ক বা ভ্যাট আরোপ করেও পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা যায় না। তখন এসব কর ও শুল্কের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়। এটি সম্পূরক শুল্ক হিসেবে পরিচিত। যেমন- সিরামিক টাইলসের ওপর আরোপিত শুল্ক। সম্পূরক শুল্ক বাংলাদেশ সরকারের আয়ের একটি অন্যতম উৎস।
ইসরাতের দেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ছিল মূল্য সংযোজন কর বা VAT, যা সরকারের কর রাজস্বের একটি উৎস।
উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয়, তার ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে যে কর আরোপ করা হয় তাকে ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর বলে।
এটি একটি পরোক্ষ কর। দেশীয় ও আমদানিকৃত পণ্য সামগ্রী ও সেবাকর্মের উৎপাদন থেকে ভোগ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট হারে (১৫%) এ কর ধার্য করা হয়। সাধারণত ফার্মের মোট বিক্রয়মূল্য থেকে বিভিন্ন উপকরণের ক্রয়মূল্য বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে তার সাথে ভ্যাটের হার দিয়ে গুণ করলে মূল্য সংযোজন কর পাওয়া যায়। অর্থাৎ, মূল্য সংযোজন কর = (মোট উৎপাদন মূল্য মোট উপকরণ মূল্য) VAT হার। VAT আরোপের মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ কর রাজস্ব আদায় করে থাকে যা ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, ইসরাত পণ্যের প্রকৃত মূল্যের সাথে অতিরিক্ত কিছু অর্থ প্রদান করে, যা ছিল ভ্যাট। এটি তার কৃত পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণে ধার্য করা হয়েছে, যা সে চাইলেও ফাঁকি দিতে পারবে না। অর্থাৎ উক্ত অর্থ প্রদানে সে আইনগতভাবে বাধ্য। তাই বলা যায়, ইসরাতের প্রদত্ত অতিরিক্ত অর্থ হলো মূল্য সংযোজন কর বা VAT, যা সরকারের কর রাজস্বের একটি অন্যতম উৎস।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের লভ্যাংশ হলো কর বহির্ভূত রাজস্বের একটি উৎস এবং মূল্য সংযোজন কর হলো কর রাজস্বের উৎস। তবে উভয় উৎসই সরকারি আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরকার নিজস্ব মালিকানাধীন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান (যেমন- ব্যাংক, বিমা কোম্পানি এবং অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি) থেকে বছর শেষে বিপুল পরিমাণ লভ্যাংশ ও মুনাফা পেয়ে থাকে, যা অ-কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। লভ্যাংশ ও মুনাফা থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের আয় হলো ২,২৪১ কোটি টাকা, যার একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আসে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের লভ্যাংশ থেকে।
অন্যদিকে, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট হচ্ছে কর রাজস্বের প্রধান উৎস। উৎপাদন ক্ষেত্রে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদন করা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য যুক্ত হয়, তাকে মূল্য সংযোজন কর বলে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ উৎস থেকে বাংলাদেশ সরকারের আয় হয়েছে ১,০৪,৫৫৪ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রায় দেশি-বিদেশি ৩০টি খাতের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার জনকল্যাণ, প্রশাসন পরিচালনা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। এ ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ আয় করতে হয়। কাজেই বলা যায়, রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের লভ্যাংশ এবং মূল্য সংযোজন কর অর্থ সংগ্রহের দুটি আলাদা উৎস হলেও উভয়ই বাংলাদেশ সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবের বিবরণীকে বাজেট বলে।
অর্থনীতির যে শাখা সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে।
সরকার কোন কোন উৎস থেকে কীভাবে এবং কোন নীতিতে অর্থ সংগ্রহ করে সে অর্থ কীভাবে বরাদ্দ করা হবে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় আলোচনা করা হয়। সরকারি আয়-ব্যয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের সমস্যা ছাড়াও সরকারের আয়-ব্যয় নীতি ও কার্যক্রম কীভাবে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে প্রভাবিত করে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় বিশ্লেষণ করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!