প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত সম্পদই হলো প্রাকৃতিক সম্পদ।
মানুষের বসবাসের জন্য নদনদীর ওপর নির্ভরশীলতা অনস্বীকার্য। কেননা নদনদী থেকে মানুষের প্রাত্যহিক ব্যবহার্য পানি পাওয়া নিশ্চিত থাকে। এছাড়াও কৃষিকাজের পাশাপাশি মাছ শিকারের জন্য নদনদীর বিকল্প হয় না। নদ-নদীই মানুষের খাদ্য ও রোজগারের প্রধান উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখে। ফলে পৃথিবীর সকল সভ্যতা ও জনবসতি গড়ে উঠেছে নদনদীর কূলে। তাই নদনদীর ওপর জনবসতির নির্ভরশীলতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক।
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত 'C' নদীটি হলো যমুনা নদী।
১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার একটি শাখা নদীর সৃষ্টি হয়। এ নতুন স্রোত ধারাটি যমুনা নামে পরিচিত হয়। এটি দক্ষিণে গোয়ালন্দ পর্যন্ত যমুনা নদী বলে পরিচিত। যমুনার শাখা নদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখা নদী-বুড়িগঙ্গা, ধরলা, তিস্তা ও করতোয়া। আত্রাই হলো যমুনা নদীর উপনদী। যমুনা নদী গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে। যা পরবর্তীতে চাঁদপুরের কাছে মেঘনা নাম ধারণ করে বঙ্গেপসাগরে পতিত হয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত 'C' নদীটি ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী যমুনাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে পদ্মায়, মেঘনার সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২-এ উল্লিখিত 'D' নদীটি হলো কর্ণফুলী নদী।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কর্ণফুলী নদীর বহুমুখী ভূমিকা রয়েছে। খাদ্যোৎপাদন, মাছ শিকার, পণ্য পরিবহন, ব্যবসায় বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন খাতে এ নদী ভূমিকা রেখে আসছে। যাতায়াত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কর্ণফুলী বহুমুখী পরিকল্পনা থেকে ৬৪৪ কি. মি. নৌ চলাচল করছে। জল বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ নদী প্রধান ভূমিকা পালন করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে নদীর গতিপথে বাঁধ দিয়ে পাকিস্তান আমলে প্রথম জলবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হয়। সবচেয়ে কম খরচে এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক দিক দিয়েও এ নদী ভূমিকা রেখে আসছে। কৃষি চাষাবাদের ক্ষেত্রে এ নদীর কূলবর্তী ১০ লক্ষ একর জমিতে কৃষিজ ফলন হচ্ছে। সেচ কার্যক্রমসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক নানাবিধ কাজে কর্ণফুলী নদী দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে আসছে।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কর্ণফুলী নদীর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
Related Question
View Allতিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়ে আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে। ১৭৮৭ সালের পূর্বে ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর- পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো। কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার শাখা নদীর সৃষ্টি হয়। আর এ শাখা নদীটি যমুনা নামে পরিচিতি।
অনুচ্ছেদে বর্ণিত বনভূমিটি হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশের ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পত্রপতনশীল বনভূমি এলাকা।
সাধারণ উষ্ণ ও আর্দ্র ভূমির কিছু এলাকা জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, তরুলতা, ঝোপঝাড় ও গুল্ম জন্ম নেয়। এসব গাছের পাতা একত্রে ফোটেও না, ঝরেও না। ফলে সারা বছর বনগুলো সবুজ থাকে। অবশ্য সে কারণেই এসব বনকে চিরহরিৎ বা চিরসবুজ বনভূমি বলা হয়। চাপালিশ, ময়না, তেলসুর, মেহগনি, জারুল, সেগুন, গর্জন এ বনভূমির উল্লেখযোগ্য গাছ। তবে বর্তমানে এসব বনভূমি রাবার চাষও হচ্ছে। তাছাড়া এ বনগুলো অনেক সৌন্দর্যের রূপ পরিগ্রহ করে।
উদ্দীপকের জাহিদ তার বিদেশি বন্ধুদের সাথে নিয়ে এই চিরহরিৎ বনভূমিতে বেড়াতে গিয়ে বনের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়। প্রায় প্রতিনিয়তই সেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা যাওয়া-আসা করে থাকেন।
উদ্দীপকে জাহিদের করা মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে বর্ণিত নদীটির নাম কর্ণফুলী। কর্ণফুলি নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী। এ নদীর উৎপত্তিস্থল লুসাই নামক পাহাড়ে। ৩২০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের এ নদীটি চট্টগ্রাম শহরের খুব নিকট দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এ নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। তাছাড়া এ নদীটি আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। উদ্দীপকে জাহিদ ছুটিতে তার বিদেশি সহপাঠীদের নিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের পাহাড়ি অঞ্চলে ফেরার পথে বেড়াতে গিয়ে সে অঞ্চলের প্রধান নদীটি সম্পর্কে যে মন্তব্যটি করে তা কর্ণফুলি নদীকেই বুঝিয়েছে যা আলোচনায় স্পষ্ট।
তাই আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি, উদ্দীপকে জাহিদের মন্তব্যটি যথার্থ।
বঙ্গোপসাগরের তলদেশে গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে।
নিরক্ষীয় নিম্ন অক্ষাংশ অঞ্চলে সূর্য বছরের প্রায় সব সময়ই লম্বভাবে কিরণ দেয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অপরাপর দেশগুলো নিরক্ষীয় বা ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত। আর তাই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রচুর সৌরশক্তি পাওয়া যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!