উত্তরঃ
যুক্তিবিদ্যায় পদ এবং বচনসমূহের গঠন প্রকৃতি ও অর্থ ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্ক নির্দেশ করে। প্রদত্ত দৃশ্যকল্প দুটি পদের গঠন এবং তাদের দ্বারা প্রকাশিত অর্থের ভিন্নধর্মী যৌক্তিক সম্পর্ককে নির্দেশ করে। একটি দৃশ্যকল্পে যেখানে পদের অভিন্নতা বা সমার্থক রূপ প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে অন্যটিতে একটি পদের অভাবজনিত সংজ্ঞা তুলে ধরা হয়েছে, যা যুক্তিবিদ্যার মৌলিক ধারণাসমূহের প্রয়োগকে স্পষ্ট করে।
দৃশ্যকল্প-১, 'সূর্য হয় রবি', একটি অভিন্ন বা সমার্থক সম্পর্কযুক্ত বচন। এখানে 'সূর্য' এবং 'রবি' উভয়ই একই বস্তু, অর্থাৎ সূর্যকে নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে, উভয় পদই সার্থক, সদর্থক এবং একবাচক পদ। 'সূর্য' একটি বিশেষ নক্ষত্রের নাম এবং 'রবি' তার অপর একটি নাম বা প্রতিশব্দ। এই বচনটি দুটি পদের মধ্যে একটি ইতিবাচক এবং অভিন্নতার সম্পর্ক স্থাপন করে, যেখানে বিধেয় পদ উদ্দেশ্য পদের অর্থকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে অথবা তার সমার্থক রূপ প্রকাশ করে। এটি এমন এক ধরনের সম্পর্ক যেখানে দুটি পদের গুণ (connotation) ও পরিমাণ (denotation) এক ও অভিন্ন হয়।
অপরদিকে, দৃশ্যকল্প-৩, 'আলোর অভাব হলো অন্ধকার', 'অভাববাচক পদ'-এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। যুক্তিবিদ্যায় অভাববাচক পদ (Privative Term) বলতে এমন পদকে বোঝায় যা কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্যের অনুপস্থিতি বা অভাবকে নির্দেশ করে, যেখানে সেই গুণ বা বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাশিত। 'অন্ধকার'কে আলোর অনুপস্থিতি দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে আলো নামক ইতিবাচক গুণের অভাব রয়েছে। এখানে 'অন্ধকার' নিজের কোনো স্বতন্ত্র ইতিবাচক গুণ দ্বারা সংজ্ঞায়িত না হয়ে, 'আলো' নামক একটি সদর্থক পদের অনুপস্থিতির মাধ্যমে পরিচিত হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-৩ এর নির্দেশিত বিষয়সমূহের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য সুদূরপ্রসারী। দৃশ্যকল্প-১ দুটি পদের মধ্যে একটি ধনাত্মক, অভিন্ন এবং সমার্থক সম্পর্ক স্থাপন করে, যেখানে উভয় পদই একই বাস্তব সত্তাকে নির্দেশ করে এবং তাদের অর্থ ইতিবাচক। এটি পদের সরাসরি পরিচিতি বা সমতা প্রকাশ করে। পক্ষান্তরে, দৃশ্যকল্প-৩ একটি পদের নেতিবাচক বা অভাবজনিত সংজ্ঞাকে তুলে ধরে, যেখানে 'অন্ধকার' নামক পদটি 'আলো' নামক গুণের অভাবকে বোঝায়। এটি পদের এমন এক ধরনের সম্পর্ক যা কোনো কিছুর অনুপস্থিতির ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হয়। সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ পদের প্রত্যক্ষ ও সদর্থক সম্পর্ককে নির্দেশ করে, আর দৃশ্যকল্প-৩ পদের অভাবজনিত ও নঞর্থক সম্পর্ককে সুস্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করে, যা যুক্তিবিদ্যার বিভিন্ন প্রকার পদ ও বচনের পার্থক্যের মূলভিত্তি।