বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর দেশ।
মানবসম্পদ বলতে মূলত শ্রমশক্তিকে বোঝানো হয়। কিন্তু সকল শ্রমশক্তিই যথাযথ অর্থে মানবসম্পদ নয়। যখন একজন শ্রমিক (মানুষ) উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুস্থ দেহের অধিকারী হয়ে দক্ষ শ্রমশক্তিতে পরিণত হয়, তখন সে মানবসম্পদে পরিণত হয়। একটি দেশের যত প্রকারের শক্তি আছে তার মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো মানবসম্পদ।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ বাংলাদেশের শহুরে অর্থনীতিকে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ শহরাঞ্চলে বাস করে। রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, শিল্প শহর নারায়ণগঞ্জ ও খুলনায় বাস করে বিপুলসংখ্যক মানুষ। এসব শহর ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে বসবাসকারী মানুষ সাধারণত অফিস-আদালত ও শিল্পকারখানায় চাকরি, ব্যবসায় বাণিজ্য, যানবাহন চালনা, নানা ধরনের দিনমজুরি ও বাসাবাড়িতে সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। শহুরে জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা ধনী তারা নগরীর অভিজাত এলাকায় বাস করে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজস্ব বা ভাড়া বাসায় থাকে। এছাড়া বিপুলসংখ্যক মানুষ বস্তি এলাকায় বাস করে। বড়ো শহরগুলোতে ভাসমান মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তারা অস্থায়িভাবে ফুটপাত, পার্ক, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ইত্যাদিতে রাত কাটায়। বেঁচে থাকার জন্য তাদেরকেও কোনো না কোনো জীবিকা অবলম্বন করতে হয়। S শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, পেশাজীবী, শ্রমিক, দিনমজুর, Go to Settings to activate Win বস্তিবাসী সবাই মিলেই শহরের অর্থনৈতিক জীবনকে সচল রাখে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দৃশ্যপট-১ এ গ্রামের হাট-বাজার, কামার,
কৃষিকাজ, ছোটখাটো ব্যবসা এগুলো গ্রামীণ অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য এবং দৃশ্যপট-২ এ অফিস-আদালত, অভিজাত এলাকা, শিল্পায়ন, ফ্ল্যাট এগুলো শহুরে অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য। এ দুই 'অর্থনীতির মধ্যে শহুরে অর্থনীতি, অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করে বলে আমি মনে করি।
শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে আজ বাংলাদেশের গ্রাম ও শহরের মানুষের জীবনধারার পার্থক্য কিছুটা কমে আসছে। বাড়ছে গ্রাম ও শহরের একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতা। লেখাপড়া, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদির জন্য গ্রামের মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি শহরের ওপর নির্ভরশীল। নগরজীবনের বিস্তার, শিল্পায়ন ও কাজের খোঁজে গ্রাম থেকে প্রতিদিন বহুলোক শহরে আসে। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে শহরে জনগণের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূ হয়ে উঠছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ শহরাঞ্চলে বাস করে।
বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ কৃষির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। তাই বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়।
গ্রামের অধিকাংশ লোক কৃষিজীবী। কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। এমনকি যাদের নিজস্ব জমি নেই তারাও অন্যের জমিতে কাজ করে জীবন নির্বাহ করে। অর্থাৎ দেশের কয়েক কোটি মানুষ তাদের জীবিকার জন্য সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সে কারণে বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়।
মিসেস জমিলার কাজটি অর্থনীতির কৃষি খাতের বৈশিষ্ট্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশের মতো আমাদের অর্থনীতিরও প্রধান খাতগুলো হলো কৃষি, শিল্প, ব্যবসায় বাণিজ্য ও সেবা খাত। প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি কৃষি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মিসেস জমিলা তার বাড়ির আঙিনায়, মুরগির খামার তৈরি করে তার থেকে উৎপাদিত প্রায় শতাধিক ডিম বাজারে বিক্রি করে। অর্থাৎ মিসেস জমিলা মুরগি পালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। আর মুরগির খামার যেহেতু কৃষি খাতের, আওতাভুক্ত, সেহেতু মিসেস জমিলার কাজটি অর্থনীতির কৃষি খাতের বৈশিষ্ট্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
উদ্দীপকে আশরাফ আলীর কাজটি শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্ত আর মিসেস জমিলার কাজটি কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত। আশরাফ আলী ও মিসেস জমিলার কাজের মধ্যে আশরাফ আলীর কাজটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অধিক সহায়ক বলে আমি মনে করি।
অর্থনীতির খাত শিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্য একটি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আশরাফ আলী লন্ডন ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে তার কারখানার উৎপাদিত চামড়ার ব্যাগ রপ্তানি করেন। আর মিসেস জমিলা তার মুরগির খামারে উৎপাদিত শতাধিক ডিম বাজারে বিক্রি করেন। এভাবে মিসেস জমিলার কাজের মাধ্যমে-স্থানীয় চাহিদা পূরণ হচ্ছে আর আশরাফ আলীর কাজের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জিত হচ্ছে।
সূতরাং নির্দ্বিধায় বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উভয়ের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও মিসেস জমিলার কাজের তুলনায় আশরাফ আলীর কাজটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অধিক সহায়ক বলে আমি মনে করি।
আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদান প্রায় ২০ শতাংশ।
যেকোনো দেশের অর্থনীতিতে সেবা খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পরিবহণ বা যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যাংক, বিমা, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এগুলো হলো সেবা খাতের উদাহরণ। সরকারি ও বেসরকারি উভয় উদ্যোগেই এ খাতটি পরিচালিত হয়। যে দেশ যত উন্নত এবং জনগণের কল্যাণকে যত বেশি গুরুত্ব দেয়, সেখানে এ সেবা খাতটি ততই শক্তিশালী।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!