বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। কৃষির পাশাপাশি শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার লাভ করেছে। দেশে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় কিছু শিল্প কারখানা, রেল ও সড়ক ব্যবস্থা প্রভৃতি রয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশে গার্মেন্টস শিল্প বিকাশ লাভ করেছে, যা অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখছে। শ্রমজীবী মানুষের জীবনে অসমতা না ঘুচলেও তাদের জীবনেও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। অর্থনৈতিক উন্নতি ছাড়া কোনো দেশ ও জাতি টিকে থাকতে পারে না। দেশ থেকে বেকারত্ব, দারিদ্র্য দূর করতে পারলে দেশের জনগণও উন্নত জীবনযাপন করতে পারবে। এই অধ্যায়ের পাঠগুলোতে আমরা সেই বিষয়ে জানতে পারব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক জীবনধারা বর্ণনা করতে পারব;
গ্রাম ও শহরের অর্থনৈতিক কাজ বর্ণনা করতে পারব;
শহর ও গ্রামের অর্থনীতির তুলনা করতে পারব;
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান প্রধান খাতের বর্ণনা করতে পারব;
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারব;
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা ব্যাখ্যা করতে পারব;
বাংলাদেশের জনসংখ্যা কীভাবে সম্পদ হতে পারে তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পর্কে সচেতন হব এবং নিজেকে দক্ষ সম্পদে পরিণত করতে উদ্বুদ্ধ হব।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ শহরাঞ্চলে বাস করে।
বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ কৃষির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। তাই বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়।
গ্রামের অধিকাংশ লোক কৃষিজীবী। কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। এমনকি যাদের নিজস্ব জমি নেই তারাও অন্যের জমিতে কাজ করে জীবন নির্বাহ করে। অর্থাৎ দেশের কয়েক কোটি মানুষ তাদের জীবিকার জন্য সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সে কারণে বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়।
মিসেস জমিলার কাজটি অর্থনীতির কৃষি খাতের বৈশিষ্ট্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশের মতো আমাদের অর্থনীতিরও প্রধান খাতগুলো হলো কৃষি, শিল্প, ব্যবসায় বাণিজ্য ও সেবা খাত। প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি কৃষি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মিসেস জমিলা তার বাড়ির আঙিনায়, মুরগির খামার তৈরি করে তার থেকে উৎপাদিত প্রায় শতাধিক ডিম বাজারে বিক্রি করে। অর্থাৎ মিসেস জমিলা মুরগি পালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। আর মুরগির খামার যেহেতু কৃষি খাতের, আওতাভুক্ত, সেহেতু মিসেস জমিলার কাজটি অর্থনীতির কৃষি খাতের বৈশিষ্ট্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
উদ্দীপকে আশরাফ আলীর কাজটি শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্ত আর মিসেস জমিলার কাজটি কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত। আশরাফ আলী ও মিসেস জমিলার কাজের মধ্যে আশরাফ আলীর কাজটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অধিক সহায়ক বলে আমি মনে করি।
অর্থনীতির খাত শিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্য একটি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আশরাফ আলী লন্ডন ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে তার কারখানার উৎপাদিত চামড়ার ব্যাগ রপ্তানি করেন। আর মিসেস জমিলা তার মুরগির খামারে উৎপাদিত শতাধিক ডিম বাজারে বিক্রি করেন। এভাবে মিসেস জমিলার কাজের মাধ্যমে-স্থানীয় চাহিদা পূরণ হচ্ছে আর আশরাফ আলীর কাজের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জিত হচ্ছে।
সূতরাং নির্দ্বিধায় বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উভয়ের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও মিসেস জমিলার কাজের তুলনায় আশরাফ আলীর কাজটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অধিক সহায়ক বলে আমি মনে করি।
আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদান প্রায় ২০ শতাংশ।
যেকোনো দেশের অর্থনীতিতে সেবা খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পরিবহণ বা যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যাংক, বিমা, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এগুলো হলো সেবা খাতের উদাহরণ। সরকারি ও বেসরকারি উভয় উদ্যোগেই এ খাতটি পরিচালিত হয়। যে দেশ যত উন্নত এবং জনগণের কল্যাণকে যত বেশি গুরুত্ব দেয়, সেখানে এ সেবা খাতটি ততই শক্তিশালী।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!