মধ্যযুগে বাংলার স্থানীয় অঞ্চলপ্রধান ও জমিদারদের মধ্যে যারা সম্রাট আকবর এবং জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে মুঘলবিরোধী প্রতিরোধ গড়েছিলেন তারাই ইতিহাসে 'বারোভূঁইয়া' নামে পরিচিত।
প্রতিরক্ষা, রাজ্য সম্প্রসারণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি নৌবহর গড়ে তুলেছিলেন।
বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজিই সর্বপ্রথম শক্তিশালী নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেছিলেন। ইওজ খলজি বুঝতে পেরেছিলেন যে, শক্তিশালী নৌবাহিনী ছাড়া নদীমাতৃক বাংলায় শুধু অশ্বারোহী বাহিনী দ্বারা রাজ্য সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করে বাংলায় মুসলমান শাসন বজায় রাখতে হলেও নৌবাহিনীর প্রয়োজন ছিল। তাছাড়া নদী তীরে নৌ-বাহিনী গড়ে তোলাও সহজতর হবে। ফলে ইওজ খলজি নৌবাহিনী গঠনের এ উদ্যোগ নেন।
দৃশ্য-১-এ রাজার পদক্ষেপের সাথে পাঠ্যপুস্তকের শাসক সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজির সাদৃশ্য রয়েছে।
সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি নিঃসন্দেহে খলজি মালিকদের মধ্যে শাসক হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। তিনি শাসনকার্যের সুবিধার্থে রাজধানী দেবকোট হতে গৌড় বা লখনৌতিতে স্থানান্তর করেন। রাজধানীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার জন্য বসনকোট নামক স্থানে তিনি একটি দুর্গ নির্মাণ করেন। লখনৌতি নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় ব্যবসা- বাণিজ্যের সুবিধা ছিল। তাছাড়া ইওজ খলজি বুঝতে পেরেছিলেন, শক্তিশালী নৌ-বাহিনী ছাড়া শুধু অশ্বারোহী বাহিনীর পক্ষে নদীমাতৃক বাংলায় রাজ্য সম্প্রসারণ সম্ভব হবে না। তাই তিনি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলেন। তিনি রাজধানীর নিরাপত্তার স্বার্থে এর তিন পাশে গভীর ও প্রশস্ত পরিখা নির্মাণ করেন। এছাড়াও তিনি তার রাজ্যকে রক্ষাকল্পে বহু খাল খনন ও সেতু নির্মাণ করেন।
উদ্দীপকের সোহান টেলিভিশনে প্রাচীন বাংলার এক রাজার কাহিনি দেখছিল। রাজা তার রাজধানীর প্রতিরক্ষার জন্য একটি দুর্গ নির্মাণ করেন এবং আরও নিরাপত্তার জন্য গভীর ও প্রশস্ত পরিখা খনন করেন। উপরে আলোচিত শাসক সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজির শাসন ব্যবস্থায়ও প্রতিরক্ষার জন্য উক্ত পদক্ষেপগুলো পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের দৃশ্য ১- এ সোহানের দেখা প্রাচীন রাজার পদক্ষেপের সাথে পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত | শাসক সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজির সাদৃশ্য রয়েছে।
দৃশ্য-২-এ বিজয়ী সেনাপতির যুদ্ধকৌশলের মধ্যে মধ্যযুগের সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির যুদ্ধ কৌশল প্রতিফলিত হয়েছে। তার প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে প্রথম মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
বখতিয়ার খলজি বিহার বিজয় করার পর নদীয়া আক্রমণ করার মনোস্থির করেন। রাজা লক্ষণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন। বিহার হতে বাংলায় প্রবেশ করতে হলে তেলিয়াগড় ও শিকড়িগড় এই দুই গিরিপথ দিয়ে আসতে হতো। কিন্তু এ গিরিপথ দুটি সুরক্ষিত থাকায় বখতিয়ার খলজি এ পথে না এসে ঝাড়খণ্ডের অরণ্যময় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়াতে তার সৈন্যদল খন্ড খন্ড ভাবে অগ্রসর হয়। মাত্র ১৭/১৮ জন সৈনিক নিয়ে বখতিয়ার খলজি মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া বিজয় করেন। ফলে বিনা বাধায় নদীয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল মুসলমানদের অধিকারে আসে। এরপর তিনি নদীয়া ত্যাগ করে লক্ষণাবতীর (গৌড়) দিকে অগ্রসর হন। লক্ষণাবতি অধিকার করে সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন। গৌড় জয়ের পর তিনি বরেন্দ্র বা উত্তর বাংলায়ও নিজ অধিকার বিস্তার করেন। বাংলায় মুসলমান শাসনের ইতিহাসে তাই ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার এ শাসন প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছরের অধিক স্থায়ী হয়েছিল।
উদ্দীপকের দৃশ্য-২-এ টেলিভিশনে সুমি প্রাচীন যোদ্ধাদের ছবি দেখছিল। যুদ্ধে সেনাপতি তার যোদ্ধাদের বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত করে জঙ্গলপথ দিয়ে রাজ্য আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। তার পরিকল্পনা সফল হয় এবং তিনি রাজ্য দখল করে নেন। উক্ত সেনাপতির যুদ্ধ কৌশলের সাথে উপরে আলোচিত সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির যুদ্ধ কৌশলের মিল রয়েছে।
Related Question
View Allরাজা গণেশ দিনাজপুরের ভাতুলিয়া অঞ্চলের রাজা ছিলেন।
ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলাকে একত্রিত করে এর প্রকৃত স্বাধীনতা সূচনা করেন। তাই তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রবক্তা বলা হয়।
ইলিয়াস শাহ ফিরোজাবাদের সিংহাসনে আরোহণের মাধ্যমে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম বাংলার অধিপতি হন। তারপর তিনি সোনারগাঁও, সাতগাঁও, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম ইত্যাদি জয় করে বৃহত্তর বাংলার সৃষ্টি করেছিলেন। এ সময় থেকেই বাংলার সকল অঞ্চলের অধিবাসী 'বাঙালি' বলে পরিচিত হয়। আর এ কারণেই ইলিয়াস শাহকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা বলা হয়।
উদ্দীপকে বিজয়ী সেনাপতির যুদ্ধ কৌশলের প্রতিফলন পাঠ্যবইয়ের ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে।
বখতিয়ার খলজি বিহার বিজয় করার পর নদীয়া আক্রমণ করার মনোস্থির করেন। রাজা লক্ষণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন। বিহার হতে বাংলায় প্রবেশ করতে হলে তেলিয়াগড় ও শিকড়িগড় এই দুই গিরিপথ দিয়ে আসতে হতো। কিন্তু এ গিরিপথ দুটি সুরক্ষিত থাকায় বখতিয়ার খলজি এ পথে না এসে ঝাড়খণ্ডের অরণ্যময় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়াতে তার সৈন্যদল খণ্ড খণ্ড ভাবে অগ্রসর হয়। মাত্র ১৭/১৮ জন সৈনিক নিয়ে বখতিয়ার খলজি মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া বিজয় করেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, রোমান যোদ্ধারা একইভাবে উপদলে বিভক্ত হয়ে জঙ্গল পথে বিপক্ষদলের প্রাসাদ আক্রমণের পরিকল্পনা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বিজয়ী সেনাপতির কৌশলের প্রতিফলন পাঠ্যবইয়ের বখতিয়ার খলজির যুদ্ধকৌশলে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বখতিয়ার খলজির যুদ্ধকৌশল প্রতিফলিত হয়েছে। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি প্রথম জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও ভাগ্য ও কর্মশক্তির সংমিশ্রণ তাকে সফলতা এনে দেয় বলে আমি মনে করি।
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশির বা আধুনিক দশত-ই-মার্গের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে জীবিকার অন্বেষণে গজনিতে আসেন। এখানে তিনি শিহাবউদ্দিন ঘোরীর সৈন্য বিভাগে চাকরিপ্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হন। গজনিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের দরবারে গিয়েও চাকরি পেতে ব্যর্থ হন। এরপর বদাউনের শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দিন তাকে মাসিক বেতনে সৈন্য বিভাগে নিযুক্ত করেন। কিন্তু উচ্চাভিলাষী বখতিয়ার এ ধরনের সামান্য বেতনে সন্তুষ্ট না হয়ে বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যায় যান। সেখানকার শাসনকর্তা তার সাহস ও বুদ্ধিমত্তায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ভাগবত ও ভিউলি নামক দুটি পরগনার জায়গীর দান করেন। বিহার জয় করে বখতিয়ার খলজি অনেক ধনরত্নের মালিক হন। এরপর তিনি রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া দখল করেন। তারপর তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন।
তাই বলা যায়, প্রাথমিক জীবনে ব্যর্থ হলেও বখতিয়ার খলজি ভাগ্য ও কর্মের সমন্বয়ে পরবর্তীতে সফলতা লাভ করেন।
বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন।
বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হওয়াতে বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বলা হয়েছিল।
বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা থেকে অর্থাৎ ১২০৪ সাল থেকে ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত সময়কাল ছিল খুবই গোলযোগপূর্ণ। বাংলার শাসকগণ দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীন হতে চাইলে দিল্লির আক্রমণের মুখে তা ব্যর্থ হয়। ফলে মুসলমান শাসনের এ সময় ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলাময়। তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাকে 'বুলগাকপুর' অর্থাৎ বিদ্রোহের নগরী বলে আখ্যায়িত করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!