মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ (উর্বরাশক্তি) নষ্ট হয়ে যাওয়াকে মাটি দূষণ
বলে।
পরিবেশের প্রতিটি উপাদান একটি শৃঙ্খলের (System) মধ্যে বসবাস করে, যাকে বাস্তুসংস্থান (Ecosystem) বলে। যেমন- বনজ, জলজ ও স্থলজ বাস্তুসংস্থান।
এগুলোর প্রত্যেকটি আলাদাভাবে পরিপূর্ণভাবে একটি নিয়মের মধ্যে টিকে আছে। মানুষের প্রতিটি কর্মকান্ড দ্বারা এগুলো প্রভাবিত হয়। যেমন- বন হতে কাঠ, রাবার, মধু প্রভৃতি; সমুদ্র, নদী বা জলাশয় হতে পানি, মাছ ও সামুদ্রিক সম্পদ সংগ্রহ করে মানুষ জীবনযাপন করে। আবার মানুষের বসবাসের স্থান হসেবে স্থলভাগ ব্যবহৃত হয়। এভাবে পরিবেশের প্রত্যেকটি উপাদানের সাথে মানুষ সম্পর্কিত থেকে তার দৈনন্দিন কার্যাবলি সম্পাদন করে।
বর্ধিত চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কোনো বস্তুর উপযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই উন্নয়ন সম্ভব। একটি দেশের উন্নয়নে উদ্দীপকের দৃশ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দৃশ্য-১ এ জমিতে লাঙ্গলের পরিবর্তে ট্রাক্টর ব্যবহার করার মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। এত সময়, শ্রম ও অর্থ কম লাগে।
তাই একে কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
দৃশ্য-২ এ চিঠি লেখার পরিবর্তে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। এতে তথ্য আদান-প্রদান হয়ে ওঠে আরো দ্রুত। একে তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প উন্নয়ন বলা যায়।
দৃশ্য-৩ এ গরুর গাড়ির পরিবর্তে বাস ও ট্রেনের মাধ্যমে যাতায়াতের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত অনেক বেশি আরামদায়ক ও দ্রুততর হয়। এটি হলো যোগাযোগ ক্ষেত্রের উন্নয়ন।
দৃশ্য-৪ এ টিন ও কাঠের ঘরের পরিবর্তে ইটের দালান তৈরি বাসস্থানের ক্ষেত্রে উন্নয়ন বলে চিহ্নিত করা যায়।
সুতরাং বলা যায়, দৃশ্য-১, ২, ৩ ও ৪ এর উন্নয়নগুলো যথাক্রমে কৃষি, তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক, যোগাযোগ এবং বাসস্থানের ক্ষেত্রে উন্নয়ন কে নির্দেশ করে।
দৃশ্যগুলোর মধ্যে দৃশ্য-১ এ যে উদাহরণ দেয়া আছে তার উপরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বহুলাংশে নির্ভরশীল।
দৃশ্য-১ এ কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা বলা আছে। বাংলাদেশ একটি কৃষিভিত্তিক দেশ। এখানকার অধিকাংশ জনগোষ্ঠী কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সীমাক্ষা ২০১৭ অনুসারে, জিডিপিতে কৃষি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম খাত (১ম ও ২য় যথাক্রমে সেবা ও শিল্প)।
বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে যদি উৎপাদন বৃদ্ধি করা না যায়, তাহলে আমাদের দেশ খাদ্য আমদানির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তো। এটি আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি বড় বাধা। এছাড়া বাংলাদেশ বর্তমানে শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পথে অগ্রসরমান। কিন্তু শিল্পের প্রসার ও উন্নয়ন কৃষির উপর নির্ভরশীল। যেমন- পাট, বস্ত্র ইত্যাদি শিল্পের কাঁচামাল কৃষি থেকেই আসে। তাই কৃষির উন্নয়ন শিল্পের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। এভাবে আমাদের দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের সাথে সাথে শিল্পসহ সার্বিক উন্নতির জন্য কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন আবশ্যক। এর মাধ্যমে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!