আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পণ্যদ্রব্যের আদর্শমান নির্ধারণ ও সংরক্ষণে যে প্রতিষ্ঠান কাজ করে তাকে ISO (International Organization for Standardization) বলে।
যমান ব্যবস্থাপনা হলো মানের ধারাবাহিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ক্রেতাদের প্রত্যাশা সন্তুষ্টি সহকারে পূরণার্থে পণ্যের নকশাকরণ, প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ক্রয়করণ, উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে উন্নত জ্ঞান অর্জন, প্রকিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান এবং সকলকে সম্পৃক্ত করে উৎপাদন প্রক্রিয়া নির্ধারণ।
চটকদারি বিজ্ঞাপন ও মূল্য হ্রাসের কবলে পড়ে ক্রেতারা কোনো পণ্য ক্রয় করলে তা যদি নিম্নমানের হয় বা ক্রেতাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয় তাহলে পরবর্তীতে সেই পণ্য তারা আর ক্রয় করে না। তাই পণ্যের সঠিক মান ব্যবস্থাপনা করতে হয়। উৎপাদিত পণ্যের মান নির্ধারণ, নকশাকরণ, উপকরণ সংগ্রহ, ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, উৎপাদনকার্য পরিচালনা, মান নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কাজের ক্ষেত্রে মান ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় প্রতিরোধমূলক ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষণ ব্যয়।
কোনো পণ্যের ত্রুটি সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই তা রোধের জন্য যে ব্যয়। করা হয়, তাকে প্রতিরোধমূলক ব্যয় বলে। অন্যদিকে কর্মীদের ক্রমাগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দানের জন্য যে ব্যয় হয় তাকে প্রশিক্ষণ ব্যয় বলে। প্রশিক্ষণ ব্যয় প্রতিরোধমূলক ব্যয়েরই একটি অংশ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুলাল এমবিএ সমাপ্ত করেই সু তৈরির একটি কারখনা স্থাপন করে'আকর্ষণীয় বেতনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫০ জন দক্ষ শ্রমিক সংগ্রহ করেন। উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে তিনি আরও ২২৫ জন শ্রমিক নিয়োগ করে এক মাসের কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। প্রশিক্ষণ সময়ে প্রশিক্ষকদের বেতন ও শ্রমিকদের বেতন ভাতাদি এবং অন্যান্য খরচ বাবদ পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যয় করেন। এই প্রশিক্ষণ দানের মাধ্যমে কর্মীদের ক্রমাগত মানোন্নয়ন হয়। এর জন্য নির্বাহ করা ব্যয়কে প্রশিক্ষণ ব্যয় বলে। সুতরাং প্রশিক্ষণ প্রদান বাবদ ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় প্রতিরোধমূলক ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষণ ব্যয় বলে বিবেচিত।
যথাযথ মান ব্যবস্থাপনাই উদ্দীপকের সুকারখানাটির সফলতার কারণ'- উক্তিটি সঠিক।
উৎপাদিত পণ্যের মান নির্ধারণ করা মান ব্যবস্থাপনার একটি অন্যতম কাজ। আর ক্রেতাদের প্রত্যাশা বা চাহিদা পূরণের জন্য পণ্যের মান নির্ধারণ প্রয়োজন। শুধু মানের দিক দিয়ে পণ্য ভালো হলেই চলে না, ক্রেতাদের নিকট তা আকর্ষণীয়ও হতে হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান দুলাল বিবিএ পাস করার পর থেকে শিল্পপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখে। সে লক্ষ্যে এমবিএ সমাপ্ত করেই তিনি সু তৈরির একটি কারখানা স্থাপন করে আকর্ষণীয় বেতনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫০ জন দক্ষ শ্রমিক সংগ্রহ করেন। উৎপাদন মাত্রা বৃদ্ধির জন্য তিনি আরও ২২৫ জন শ্রমিক নিয়োগ করে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শ্রমিকগণ দক্ষতার সাথে কাজ করতে সক্ষম হয়। তিনি বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন বলেই পণ্যের সঠিক মান নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। ফলশ্রুতিতে দুলালের কারখনায় উৎপাদিত সু সঠিক মানসম্পন্ন হয় এবং বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ক্রেতাদের নিকট সমাদৃত হয়। এভাবে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সফলত অর্জন করেন।
পরিশেষে বলা যায়, "যথাযথ মান ব্যবস্থাপনাই উদ্দীপকে উল্লিখিত দুলালের সু কারখানাটির সফলতার কারণ"- এ বিষয়টিতে আমি একমত।
Related Question
View Allপূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা এবং মানের বিচ্যুতি হলে তার সংশোধনমূলক ব্যবস্থাকে মান নিয়ন্ত্রণ বলে।
সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা একটি দর্শন যাতে মান উন্নয়ন ও ক্রেতাসন্তুষ্টি অর্জনের প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে গুণগত মান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়।
সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা হলো সেই মতবাদ, যা তিনটি নীতির ওপর গুরুত্ব দেয়। এগুলো হলো: ক্রেতাসন্তুষ্টি, কর্মীদের সম্পৃক্ততা এবং মানের ধারাবাহিক উন্নয়ন। অর্থাৎ সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা হলো মানের ধারাবাহিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ক্রেতাদের প্রত্যাশা সন্তুষ্টিসহকারে পূরণার্থে পণ্যের নক্সাকরণ, প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ক্রয়করণ, উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে উন্নত জ্ঞান অর্জন, প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান এবং সকলকে সম্পৃক্ত করে উৎপাদন প্রক্রিয়া নির্ধারণ।
মি. সাফিক যে কাজগুলো সম্পাদন করেন সেগুলো মান ব্যবস্থাপনার উপাদান।
ভোক্তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্যের মান নির্ধারণ, মান সংরক্ষণ, মান উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণকে মান ব্যবস্থাপনা বলে। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য মান ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেতাদের প্রত্যাশা পূরণার্থে মান ব্যবস্থাপনা পণ্যের নক্সাকরণ, কাঁচামাল ক্রয়করণ, উৎপাদন প্রক্রিয়া নির্দিষ্টকরণ, প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান এবং সর্বোপরি উৎপাদন প্রক্রিয়া নির্ধারণ ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করে থাকে উদ্দীপকে মি. সফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এমবিএ অর্জন করে একটি উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের মান পরিকল্পনা, মান নিয়ন্ত্রণ, মানের নিশ্চয়তা এবং মান উন্নয়নের সাথে জড়িত। তার এই কাজগুলো মান ব্যবস্থাপনা কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, মি. সাফিক যে কাজগুলো সম্পাদন করেন সেগুলো মান ব্যবস্থাপনার উপাদান।
পণ্যের মান নির্ধারণে মি. সাফিকের গৃহীত মান ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমে ক্রেতাগণের খুশি হওয়ার বিষয়টি যথার্থ।
বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিপণন পরিবেশে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য মান ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মান ব্যবস্থাপনা বলতে ভোক্তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্যের মান নির্ধারণ, মান সংরক্ষণ, মান উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকে বোঝায়।
উদ্দীপকে মি. সাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এমবিএ অর্জন করে একটি উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের মান পরিকল্পনা, মান নিয়ন্ত্রণ, মানের নিশ্চয়তা এবং মান উন্নয়নের সাথে জড়িত। তিনি বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি ক্রেতাদের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পণ্যের মান নির্ধারণ করেন। ফলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের মানে ক্রেতাগণ বেশ খুশি।
প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধি নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্যের মানের ওপর। এক্ষেত্রে মান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধিকল্পে ক্রেতাদের প্রয়োজন ও' অভাবকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এতে ক্রেতাগণ তাদের মনেরমতো পণ্য পেয়ে খুশি থাকে। উদ্দীপকের মি. সাফিকও তাই প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্যের মান নির্ধারণে মান ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। তাই বলা যায়, পণ্যের মান নির্ধারণে মি. সাফিকের গৃহীত মান ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমে ক্রেতাগণের খুশি হওয়ার বিষয়টি যথার্থ।
প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত দক্ষ ও যোগ্য কর্মীদের উৎপাদন কাজে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে পণ্যের মান উন্নয়ন করে ক্রেতা বা ভোক্তার সন্তুষ্টিবিধান করাকে সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা বলে।
ভোক্তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্যের মান নির্ধারণ, মান সংরক্ষণ, মান উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণকে মান ব্যবস্থাপনা বলে।
পণ্য ও সেবার মানের মধ্যে পণ্য ও সেবার কার্যকারিতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং স্থায়িত্বতা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। এসব গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য পণ্য ও সেবার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে কিনা তা দেখা মান ব্যবস্থাপনার কাজ। এ কাজে কোনো ত্রুটি কোনো অবস্থাতেই প্রতিষ্ঠানের জন্য কাম্য নয়। মান এমন একটি পরিমাপক যা দ্বারা প্রতিযোগী কোম্পানি থেকে কোনো কোম্পানিকে, পণ্যকে ও ব্র্যান্ডকে পৃথক করা যায়। তাই বলা হয়, মান ব্যবস্থাপনা পণ্য ও সেবার মানের সর্বোৎকৃষ্ট নিশ্চয়তা প্রদান করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!