বুদ্ধত্ব লাভের পর এক আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে বুদ্ধ সারনাথে পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের মাঝে প্রথম ধর্ম প্রচার করেন। পঞ্চবর্গীয় শিষ্যরা হলেন- কোন্ডন্য, বপ্প, ভদ্রিয়, মহানাম ও অশ্বজিত। জীবজগতের কল্যাণে তিনি সূত্র দেশনা করেছিলেন। তাঁর এই প্রথম প্রচারিত ধর্মকে বলা হয় 'ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র'।
বৌদ্ধরা নানা রকম আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। যেমন বুদ্ধপূর্ণিমা, আষাঢ়ী পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা, কঠিন চীবরদান ইত্যাদি। বৌদ্ধবিহার এবং পারিবারিক অঙ্গনে এসব আচার-অনুষ্ঠান উদ্যাপন করা হয়। ধর্মীয় বিধি-বিধানমতে আচরণীয় ও পালনীয় অনুষ্ঠানসমূহকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বলে। কিছু কিছু বৌদ্ধ আচার- অনুষ্ঠান ধর্মীয় ভাবধারায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা হয়। সেই আচার-অনুষ্ঠানগুলো ধর্মীয় উৎসব নামে পরিচিত। বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় বছরের বিভিন্ন সময়ে এরূপ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এ অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। এ অধ্যায়ে বৌদ্ধদের কয়েকটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে পড়ব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- বৌদ্ধ ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের বর্ণনা দিতে পারব;
- বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সামাজিক গুরুত্ব মূল্যায়ন করতে পারব।
Related Question
View Allভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিকে মধু পূর্ণিমা বলা হয়।
বুদ্ধপূর্ণিমা বৈশাখ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানের দিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সূত্র পাঠ ও বুদ্ধকীর্তনের মাধ্যমে প্রভাতফেরি করে উৎসবের সূচনা হয়। সকালে পূজা, সমবেত প্রার্থনা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করা হয়। দুপুর বারোটার আগে আহার সম্পন্ন করে বৌদ্ধবিহারে ধ্যান সমাধি করে। বিকাশে ধর্মসভা হয়।
প্রবারণা পূর্ণিমার দিনই ফানুস উত্তোলন উৎসব হয়। সন্ধ্যায় প্রার্থনা ও প্রদীপ পূজার পর বৌদ্ধ বিহারে কিংবা বাড়ির উঠানে ফানুস উড়ানোর উৎসব শুরু হয়। নানারকম বাদ্য-বাজনার তালে তালে, সংকীর্তনের ঝংকারে নেচে গেয়ে বর্ণিল ফানুস আকাশে উড়ানো হয়।
প্রবারণা পূর্ণিমার দিন বুদ্ধ ভিক্ষুদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, "ভিক্ষুগণ! বহুজনের মঙ্গলের জন্য হিতের জন্য তোমরা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়। প্রচার কর সেই ধর্ম, যে ধর্মের আদিতে কল্যাণ, মধ্যে কল্যাণ এবং অন্তে কল্যাণ।"
বৌদ্ধ আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবসমূহ চান্দ্রবছরের নিয়মে অনুষ্ঠিত হয়, সেগুলো ধর্মীয় তিথি বা পর্ব। যেমন- বুদ্ধপূর্ণিমা, মধু পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা প্রভৃতি। আর যে অনুষ্ঠানগুলো বছরের যে কোনো সময় করা যায়, সেগুলোকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বলা হয়।
যেমন- সঙ্ঘ দান, প্রব্রজ্যা, উপসম্পদা প্রভৃতি।
বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো প্রধানত পূর্ণিমাকেন্দ্রিক। প্রতিটি পূর্ণিমার সঙ্গে গৌতম বুদ্ধের জীবনের কোনো না কোনো স্মরণীয় ঘটনা রয়েছে। বুদ্ধের জীবনাদর্শ স্মরণ ও অনুশীলন করা এবং আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্মরণীয় ঘটনাগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!