ছোট রানি ঘুঁটে-কুড়ানি দাসী হলো।
নিজেদের পরিচয় ও তাদের মাকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য সাত ভাই চম্পা কারও কাছে ফুল দিতে চাইছিল না।
সাত ভাই চম্পা ছোট রানির সন্তান। কিন্তু বড় রানিরা ষড়যন্ত্র করে তাদেরকে পাঁশগাদায় পুঁতে ফেলে। সেখানে থেকেই জন্মায় চাঁপা ফুল। পুজোর জন্য মালি সেখান থেকে ফুল আনতে গেলে সাত ভাই চম্পা দিতে চায় না। কৌশলে তারা রাজা, বড় রানিদের এবং ছোট রানিকে সেখানে হাজির করে এবং সব সত্য প্রকাশ করে। মূলত এই সত্য প্রকাশ করার জন্যই সাত ভাই চম্পা কাউকে ফুল দিতে চাইছিল না।
উদ্দীপকের নকল রানির ব্যক্তিত্বের সঙ্গে 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের বড় রানিদের ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্যক্তিত্বই মানুষকে মহান করে তোলে। যার, ব্যক্তিত্ব যত সুন্দর, সে ততটাই সমাদৃত। আর যার ব্যক্তিত্ব কলুষিত, সে পুরো সমাজকে নস্ট করে। তাই নিঃসন্দেহে একজন সুন্দর ব্যক্তিত্বের মানুষ সমাজে অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র।
উদ্দীপকের নকল রানির ব্যক্তিত্ব বিদ্বেষমূলক। সে আসল রানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পিঠা বানায় ঠিকই কিন্তু তা কারও কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় না। সেখানে আসল রানির পিঠা সবার মন কাড়ে। 'সাত ভাই চম্পা' গল্পে ছোট রানি বড় রানিদের চেয়ে শান্ত এবং রাজা তাকেই বেশি ভালোবাসতেন। কিন্তু বড় রানিরা এজন্য ছোট রানিকে হিংসা করত। এমনকি ছোট রানি বড় রানিদের নির্মম ষড়যন্ত্রের শিকারও হয়েছে। তাই বলা যায়, বিদ্বেষমূলক আচরণের দিক দিয়ে উদ্দীপকের নকল রানির ব্যক্তিত্বের সঙ্গে 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের বড় রানিদের ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকটি 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের মূলভাবের সম্পূর্ণ নয়, বরং আংশিক প্রতিফলন- মন্তব্যটি যথার্থ।
অন্যকে হিংসা করে, ছোট করে কখনই মর্যাদাসম্পন্ন হওয়া যায় না, উপরন্তু নিজের ব্যক্তিত্ব নষ্ট হয় অন্যদের কাছে। তাই সম্প্রীতি ও ভালোবাসাই হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অস্ত্র, যা দিয়ে সবকিছুকে জয় করা যায়।
উদ্দীপকে আসল ও নকল রানির তুলনামূলক চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। নকল রানি আসল রানির প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ করে। কিন্তু তাদের কাজে ও ব্যক্তিত্বে মানুষ ঠিক বুঝে যায় কে আসল রানি আর কে নকল রানি। 'সাত ভাই চম্পা' গল্পে বড় রানিরা ছোট রানিকে হিংসা করে। এমনকি শেষ পর্যন্ত তাদের হিংসা ও বিদ্বেষের কারণে ছোট রানিকে কঠিন শাস্তি পেতে হয়। তার সন্তান হওয়ার বিষয়ে রাজাকে মিথ্যা সংবাদ দিয়ে ছোট রানিকে রাজপুরী থেকে বিদায় করতে সমর্থ হয়। কারণ রাজা ছোট রানিকে বেশি ভালোবাসতেন। এ বিষয়টি বড় রানিরা ভালোভাবে দেখত না।
উদ্দীপকে আসল রানির প্রতি নকল রানির বিদ্বেষমূলক আচরণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিন্তু 'সাত ভাই চম্পা' গল্পে ছোট রানির প্রতি বড় রানিদের বিদ্বেষের চিত্র সরাসরি প্রকাশ পেয়েছে, যা উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allসন্তান হওয়ার বদলে ছোট রানির কাঁকড়া ও ইঁদুর হয়েছে- এ কথা শুনে ছোট রানি অজ্ঞান হয়ে গেল।
রাজার কোনো সন্তান নেই বলে সবসময় তার মনে দুঃখ ছিল। অনেক দিন পর হঠাৎ ছোট রানির সন্তান হওয়ার কথা শুনে পুরো রাজ্যে আনন্দের ঢল নামে। কিন্তু রাজার বড় রানিরা এই সংবাদে মোটেই খুশি ছিল না। সন্তান হওয়ার দিন ছোট রানি কী সন্তান হয়েছে তা জানতে চাইলে বড় রানিরা জানায় তার পেট থেকে কাঁকড়া ও ইঁদুরের ছানা হয়েছে। এমন সংবাদ শুনে ছোট রানি অজ্ঞান হয়ে পড়ে রইল।
উদ্দীপকের পারুল 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের ছোট রানি চরিত্রের প্রতিনিধি।
অন্যায় করলে মানুষকে শাস্তি পেতে হয়। কিন্তু অনেক সময় এমনও হয়, কোনো অন্যায় না করেও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শাস্তি পেতে হয়। শুধু প্রমাণের অভাবে দিনের পর দিন শাস্তির এই বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হয়। আর যখন প্রমাণিত হয়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।
উদ্দীপকে রাজার হুকুমে পারুলের বনবাস হয়। কেউ রাজার হুকুমের অবাধ্য হতে পারে না বলে পারুলকে বনবাসে যেতে হয়। জন-প্রাণীহীন গভীর অরণ্যে পারুল একাকী দিন কাটায়। 'সাত ভাই চম্পা' গল্পে বড় রানিদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয় ছোট রানি। আর রাজা তাকে ভুল বুঝে রাজপুরীর বাইরে বের করে দেন। রাজপুরীর বাইরে 'অত্যন্ত দুঃখে ছোট রানির দিন কাটে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের পারুল 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের ছোট রানি চরিত্রের প্রতিনিধি।
"উদ্দীপকটি কেবল 'সাত ভাই চম্পা' গল্পের একটি দিকের ধারক, পুরোটির নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের জীবনে নানান সময় নানা রকমের ঘটনা ঘটে। কোনো কোনো ঘটনার ওপর তাদের নিজেদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এরপরও সেই ঘটনার জন্য দিনের পর দিন ভুগতে হয় সেই ব্যক্তিকে। তখন তাকে নিয়তি বলে মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কিছুই করার থাকে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজার হুকুমে পারুলের বনবাস হয়। বনে গিয়ে পারুলের একাকী দিন কাটে। কেবল পরীরা তার সঙ্গী হয়। 'সাত ভাই চম্পা' গল্পে বড় রানিরা হিংসা করে ছোট রানিকে রাজার সামনে অপরাধী করে। ছোট রানির সাত ছেলে এক মেয়ে হলেও বড় রানিরা রাজাকে মিথ্যা কথা বলে। তারা রাজাকে জানায়, ছোট রানির ব্যাঙের ছানা ও ইঁদুরের ছানা হয়েছে। একথা জানতে পেরে রাজা ছোট রানিকে রাজপুরীর বাইরে বের করে দেন। অনেক দিন পরে ছোট রানি নির্দোষ প্রমাণিত হয়।
উদ্দীপকে শুধু পারুলের বনবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে পারুলের অপরাধ বা তার নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার কোনো ঘটনা ফুটে ওঠেনি। কিন্তু 'সাত ভাই চম্পা' গল্পে ছোট রানির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, তার শাস্তি হওয়া এবং শেষপর্যন্ত তার নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার দিকটিও প্রকাশ হয়েছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
ছোট রানিকে রাজপুরীর বাইরে বের করে দেওয়া হলো।
ছোট রানির বাচ্চা হওয়ার কথা শুনে বড় রানিরা হিংসায় জ্বলে গেল।
রাজার মনে দুঃখ ছিল ভীষণ। কারণ তার কোনো ছেলেমেয়ে ছিল না। অনেক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ছোট রানির বাচ্চা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ল। রাজা এই খবর শুনে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং রাজভাণ্ডার খুলে দিলেন সাধারণ মানুষের জন্য। ছোট রানির এমন সুসংবাদ শুনে এবং রাজার খুশি দেখে বড় রানিরা হিংসায় জ্বলে গেল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
