নকসী কাঁথার মাঠ' একটি কাব্যগ্রন্থ l
কবি হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ করে একটি প্রেমময় পৃথিবীর প্রত্যাশা করেছেন তাই তিনি আঘাতের পরিবর্তে ভালোবাসা দান করতে চেয়েছেন। 'প্রতিদান' কবিতায় কবি সুন্দর একটি পৃথিবী গড়ার কথা চিন্তা করেছেন। এই জগতে হিংসা-বিদ্বেষ যতদিন থাকবে ততদিন শান্তি প্রতিষ্ঠিত
হবে না। শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে গেলে অবশ্যই ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ গঠন করতে হবে। কাঁটার বদলে কাঁটা দিলে জগতে দুঃখ ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাবে না। এই জন্য কবি প্রেমময় বিশ্ব গঠন করে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পারস্পরিক সহানুভূতির কথা বলেছেন। কেউ যদি 'কবিকে দুঃখ দেন তাহলে কবি তার বদলে প্রেম দেওয়ার কথা বলেছেন। তাহলে হিংসা-বিদ্বেষে ভরা মানুষটিও হয়তো মানবিক হয়ে উঠবে। এই জন্য কবি কাঁটা পেয়ে ফুল দান করার অঙ্গীকার করেছেন।
উদ্দীপকে 'প্রতিদান' কবিতার পরার্থে আত্মনিবেদনের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ পরিহার করে অপরের কল্যাণে আত্মনিবেদন করেছেন। তিনি অনিষ্টকারীকে কেবল ক্ষমা করেই ক্ষান্ত হননি বরং তার উপকার করতে চেয়েছেন। কবি মনে করেন, প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ভালোবাসাই পারে পৃথিবী সুন্দর ও নিরাপদ করতে। আর তাই তিনি তাঁর শত্রুর প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
উদ্দীপকে পরার্থপরতার বিভিন্ন প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি দেখাতে চেয়েছেন প্রকৃতি সকল সময় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে অন্যের উপকার করে। নদী, তরু, গাভি, স্বর্ণ, শস্য প্রভৃতি অন্যের জন্য কোনো স্বার্থ ছাড়াই নিজেদের উৎসর্গ করে চলেছে। তাঁর মতে, সাধুর ঐশ্বর্য কেবল পরের কল্যাণে আত্মনিবেদনেই নিবেদিত। উদ্দীপকের প্রকৃতির মাঝে এই আত্মনিবেদনের স্বরূপ আমরা 'প্রতিদান' কবিতার কবির মাঝেও দেখি। কবি মনে করেন, পরের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করতে পারলেই সমাজ হয়ে উঠবে সুন্দর। আর এখানেই উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্য।
পরার্থে আত্মনিবেদন করার দিকটি উঠে আসায় উদ্দীপকের সাধুজন 'প্রতিদান' কবিতার কবির কাঙ্ক্ষিত মানুষ হয়ে উঠেছেন।
'প্রতিদান' কবিতায়, ক্ষমাশীলতা, উদারতা ও সহনশীলতার দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। কবি সমাজে বিদ্যমান হানাহানি-হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে প্রীতিময় পরিবেশের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। কবি মনে করেন, পরার্থপরতার মধ্য দিয়ে মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করলেই তাঁর প্রত্যাশা পূরণ হবে। তাঁর কাছে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কই পরম সত্য।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি নানা উদাহরণের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন, এমন সাধুর ঐশ্বর্য নির্ভর করে তার পরার্থপরতায়। নদী, তবু, গাড়ি,
স্ত্র কাঠ, বংশী, শস্য প্রভৃতি প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ নানাভাবে অন্যের উপকার করে চলে। এর বিপরীতে তাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া থাকে না। কবি
মনে করেন, এদের আদর্শ অনুসরণ করতে পারলেই মানবজীবন সার্থক ও সফল হবে। আলোচ্য কবিতার কবিও এমন চেতনাই ধারণ করেন।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি যেমন অপরের কল্যাণের কথা বলেছেন, তেমনি উদ্দীপকের কাবিতাংশেও সাধুর মতো অপরের কল্যাণ করার কথা বলা হয়েছে। পরার্থে আত্মনিবেদনের মধ্যেই যে মানবজীবনের সার্থকতা তিনি সাধুর মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছেন। আর এই বিষয়টিই আলোস কবিতার প্রধান বিষয়। উদ্দীপকের সাধুর আদর্শ ধারণ করার মধ্য দিয়ে 'প্রতিদান' কবিতার কবির প্রত্যাশা পূরণ হতে পারে। এই বিবেচনায় উদ্দীপকের সাধুজন আলোচ্য কবিতার কবির কাঙ্ক্ষিত মানুষ হয়ে উঠেছেন।
Related Question
View Allকি
অবিরাম,অনবরত। ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!