বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ বনভূমি রয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ বলতে এর উপাদানগুলোর স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখাকে বোঝায়।
আমরা পরিবেশ থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এর যথাযথ ব্যবহার না করায় পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই পরিবেশের উপাদানের প্রতি যত্নশীল হয়ে, সতর্কতার সঙ্গে সম্পদ ব্যবহার করলে পরিবেশ সংরক্ষণ করা যাবে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণটি হচ্ছে পানি দূষণ।
উদ্দীপকে নরেন বাবু পূর্বে গৃহস্থালির কাজে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ব্যবহার করতেন। বর্তমানে তা দুর্গন্ধময় ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানির এরূপ দূষণ নানা কারণে ঘটে থাকে। যেমন-
i. কৃষিক্ষেত্রে অধিক কীটনাশক ব্যবহার করা হলে তা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে উন্মুক্ত জলাশয়, নদীর পানিতে মিশে যায়।
ii. নৌ-যোগাযোগে পরিবহন থেকে তেল বর্জ্য নদীর পানিতে সংযুক্ত হয়।
iii. শিল্পকারখানার দূষিত বর্জ্য, রং, গ্রিজ, রাসায়নিক দ্রব্যাদি, উষ্ণ পানি ইত্যাদি নদীর পানিতে সংযুক্ত হয়।
iv. আবাসস্থলের বর্জ্যও নদীতে ফেলা হয়।
V. নদীর পাড় দখল করলে, নদী প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলেও পানি দূষিত হয়।
সর্বোপরি বলা যায়, মানুষের অসচেতনতা ও অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে পানি দূষণ ঘটে থাকে।
জীববৈচিত্র্যের উপর উক্ত দূষণটি তথা পানি দূষণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে থাকে।
পরিবেশ এবং এর ভারসাম্য রক্ষার মূল উপাদান জীববৈচিত্র্য।
বিপরীতক্রমে পরিবেশের যেকোনো উপাদানের দূষণ ঘটলে তা জীববৈচিত্র্যের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। পানি দূষণের কারণে জলজ বাস্তুসংস্থানের উপর প্রভাব পড়ে। ফলে অনেক জলজ প্রাণী ও মাছ বিলুপ্ত হয়ে যায়। এছাড়া পানি দূষিত হয়ে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়, ফলে জলজ ক্ষুদ্র উদ্ভিদ প্ল্যাংকটন, কচুরিপানা, শেওলা জন্মাতে পারে না। যেসব ক্ষুদ্র মাছ এদের ভক্ষণ করে তাদের খাদ্যের অভাব হয়। বড় মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এভাবে খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে। এর ফলে অনেক প্রাণীর অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে যায়।
সুতরাং, জীববৈচিত্র্য ধ্বংসে পানি দূষণ প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!