ছত্রাক এক ধরনের উদ্ভিদ।
বিভিন্ন বিষয় দ্বারা খাদ্য নষ্টের কারণগুলো প্রভাবিত হয়। যেমন- ১. খাদ্যের উপাদান, ২. আর্দ্রতা, ৩. তাপ, ৪. অক্সিজেন, ৫. অম্ল ইত্যাদি।
নাফিসার মা শুষ্ককরণ বা রোদে শুকিয়ে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করছেন। শুষ্ককরণ বা রোদে শুকিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ একটি প্রাচীন পদ্ধতি। গ্রাম বা শহরের জন্য সম্ভব বা সবচেয়ে সস্তা পদ্ধতি হলো খাদ্যকে শুকিয়ে রাখা। খাদ্য শুকিয়ে পানি নিষ্কাশন করলে জীবাণু, ছত্রাক, এনজাইম ইত্যাদি ক্রিয়া প্রতিহত হয়। খাদ্য অনেকদিন পর্যন্ত রাখা যায়।
শুষ্ককরণ পদ্ধতিতে নাফিসার মা খাদ্যবস্তুর আর্দ্রতা নিষ্কাশন করে বা পানি শুকিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করেন। শুকানোর ফলে খাদ্যদ্রব্যের জীবাণু বৃদ্ধি, ছত্রাক ও এনজাইমের ক্রিয়া প্রতিহত করা সম্ভব হয়। ফলে তিনি অনেক দিন পর্যন্ত খাদ্য সংরক্ষণ করতে পারেন। শুকানোর ফলে খাদ্যের ওজন কমে যায়, তখন অল্প জায়গায় বেশি খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়। খাদ্যবস্তু শুকালে চামড়া কুঁচকিয়ে যায় এবং কচকচে ভাব নষ্ট হয়ে যায়। এতে খাদ্যের টাটকা রসালো স্বাদ থাকে না। সাধারণত কুল, তেঁতুল, খেজুর, কিশমিশ, মরিচ, শিম প্রভৃতি এই পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া মাছের শুটকি, মাংস, আলু, মূলা প্রভৃতি রোদে শুকিয়ে রাখা যায়। শীতকালে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, শিমের বিচি শুকিয়ে রাখা হয়। খাদ্য শুকিয়ে রাখলে পুষ্টিগুণ তেমন নষ্ট হয় না, তবে ভিটামিন 'সি' নষ্ট হয়ে যায়।
শুষ্ককরণ বা রোদে শুকানো ছাড়াও হিমায়িতকরণ এবং রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগের মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করা যায়।
খাদ্য পচে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বহুদিন যাবৎ অবিকৃত রাখার জন্য খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করা হয়। খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতির প্রথম শর্ত হলো খাদ্যমান বাজায় রাখা। হিমায়িতকরণ পদ্ধতিতে জীবাণু বংশ বৃদ্ধি ও এনজাইম ক্রিয়া করতে পারে না। এতে সহজে খাদ্য নষ্ট হয় না। নিম্নতাপে 'খাদ্যবস্তুর পানি জমে যায়। এ পদ্ধতিতে মাছ, মাংস, ডিম, ফলের রস ও অন্যান্য খাদ্য অবিকৃত অবস্থায় রাখা হয়। খাদ্যের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন তাপমাত্রায় খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। যেমন- হিমাগারে ১৮০-২০° সে. তাপমাত্রায় আলু, পেঁয়াজ, আপেল এবং এই জাতীয় খাদ্যবস্তু বহুদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। পচনশীল খাদ্যদ্রব্য যেমন- মাছ, মাংস, দুধ প্রভৃতি ০০-৫° সে. তাপমাত্রায় অর্থাৎ হিমাঙ্কের নিচে রাখা হয়। চিনি, লবণ, সিরকা, তেল, রাসায়নিক দ্রব্য পটাসিয়াম মেটা সালফাইড, বেনজয়িক এসিড প্রভৃতির মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করা যায়। বিভিন্ন ধরনের মাছ লবণ দ্বারা সংরক্ষণ করা হয়। লবণ উক্ত মাছে কোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হতে দেয় না। বিভিন্ন ফল বা ফলের তৈরি আচার সরিষার তেলে ভিজিয়ে রাখলে তা বহুদিন যাবৎ অবিকৃত থাকে। জ্যাম, জেলি, আচার, মোরব্বা, মার্মালেড, স্কোয়াশ প্রভৃতি চিনির সাহায্যে সংরক্ষণ করা হয়। সবজি, পিকেলস প্রভৃতি খাদ্য ভিনেগারে রেখে সংরক্ষণ করা হয়। ভিনেগারে এসিটিক এসিড থাকে যা সংরক্ষিত দ্রব্যের অম্লতা বাড়িয়ে কিছু কিছু জীবাণুর বৃদ্ধি প্রতিহত করে।
উপরিউক্ত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ করে অনেকদিন পর্যন্ত রাখা যায়।
Related Question
View Allথার্মোফিলিক ব্যাকটেরিয়ার অপর নাম হলো- Heat Loving Bacteria
আনারসের জ্যাম তৈরির জন্য আনারস লম্বায় দু'ফালি করে চামচ দিয়ে কুরিয়ে নিতে হবে। এরপর কোরানো আনাসর ও চিনি এক সাথে জ্বাল দিতে হবে। জাল দেওয়ার এক পর্যায়ে সিরা ঘন হলে নামিয়ে বোতলে ভরতে হবে এবং ঠান্ডা হলে বোতলের মুখে মোম গলিয়ে জ্যাম ঢেকে দিতে হবে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত খাবার দুটি কারণে নষ্ট হয়। এর একটি হলো খাবারের মধ্যে এনজাইমের সৃষ্টি এবং অপরটি হলো খাবারে জীবাণু দ্বারা আক্রমণ।
উদ্দীপকে সুদীপ্তর বাবার কেনা ফল, মাছ এবং মাংস পচনশীল খাদ্য। এগুলো খোলা জায়গায় রাখার ফলে এদের মধ্যে এক প্রকার জারক রস বা এনজাইমের সৃষ্টি হয়। এই জারক রসের সহায়তায় ফল পাকতে শুরু করে। ফল পাকার সময় ফলের মধ্যে রাসায়নিক পরিবর্তন সংঘটিত হয়ে থাকে। এই পাকার কাজটি কয়েক দিন ধরে চলতে থাকায় ফলমূল জারক দ্রব্যের সাহায্যে পরিবর্তিত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। আবার মাছ বা মাংস কয়েক দিন উন্মুক্ত অবস্থায় বাতাসে থাকায় অক্সিজেনের সংস্পর্শে এতে জীবাণু জন্ম নেয়। ফলে তা খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে। সাধারণত ঈস্ট, ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া এই তিন প্রকার জীবাণু দ্বারা খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যায়।
সুদীপ্তর বাবা বাজার থেকে এনেছেন ফল, মাছ ও মাংস। এগুলো সব পচনশীল খাদ্য হওয়ায় তিনি হিমায়িতকরণের মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করতে পারতেন। কারণ নিম্নতাপে খাদ্যবস্তুতে পানি জমে যায় ফলে জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ও এনজাইম ক্রিয়া করতে পারে না। এতে সহজে খাদ্য নষ্ট হয় না। এ পদ্ধতিতে মাছ, মাংস, ডিম, ফলের রস ও অন্যান্য খাদ্য অবিকৃত অবস্থায় রাখা হয়। ফলে খাদ্যের পুষ্টিমান, গন্ধ ও বর্ণ অনেকটাই অপরিবর্তিত থাকে। এক্ষেত্রে তিনি ফল ও সবজির টুকরা ২- ৩ মিনিট ফুটন্ত পানিতে ভাপিয়ে নিয়ে পরে হিমশীতল পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে পানি ঝরিয়ে বায়ুশূন্য পলিথিনে মুড়ে ফ্রিজে রাখতে পারতেন। এছাড়া তিনি মাছ, মাংসকে ০°- ৫° সে. তাপমাত্রায় অর্থাৎ হিমাঙ্কের নিচে রেফ্রিজারেটরের ডিপফ্রিজে ৩-৪ মাস পর্যন্ত রাখা যায়।
সুতরাং বলা য়ায, সুদীপ্তর বাবা যদি খাবারগুলো খোলা অবস্থায় ফেলে না রেখে, খাবার সংরক্ষণ করার জন্য হিমায়িতকরণ পদ্ধতি অবলম্বন করতেন তাহলে তা নষ্টের হাত থেকে রক্ষা করতে পারতেন।
পাস্তুরাইজেশনের মূল উদ্দেশ্য যক্ষ্মা, টাইফয়েড প্রভৃতি জীবাণুর হাত থেকে খাদ্যকে রক্ষা করা।
খাদ্য সংরক্ষণের অন্যতম পদ্ধতি হলো স্ফুটন। এই পদ্ধতিতে ১০০° সে. তাপমাত্রায় খাদ্যকে ফুটিয়ে রান্না করা হয়। এর ফলে খাদ্যের মধ্যস্থিত অণুজীবের ক্রিয়া ধ্বংস হয়। মাছ, মাংস, দুধ প্রভৃতি এই পদ্ধতিতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। সাধারণত বাসা বাড়িতে এই পদ্ধতিতে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!