সমাজ আন্তঃপরিবর্তন প্রক্রিয়ায় আবর্তিত হয়।
সামাজিক বিবর্তন বলতে সমাজের কাঠামোগত পরিবর্তনকে বোঝায়।
সামাজিক বিবর্তন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষের আচার-আচরণ, সামাজিক বিশ্বাস, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আচার-অনুষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান সরল অবস্থা থেকে ধীর পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে জটিল অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। সুতরাং সামাজিক বিবর্তন হচ্ছে সমাজ কাঠামোর সরল অবস্থা থেকে জটিল অবস্থায় রূপান্তর।
উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কিত কার্ল মার্কসের রৈখিক তত্ত্বটির বাস্তবতা ফুটে উঠেছে।
কার্ল মার্কস সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামো বিবেচনা করে বলেছেন যে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে সমাজে পরিবর্তন ঘটে এবং তিনি মনে করেন যে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই হচ্ছে সমাজব্যবস্থার মূল কাঠামো। মানবসমাজের পরিবর্তনের উপাদান হিসেবে তার নিকট দুটি বিষয় অতিমাত্রায় মূল্যবান। সেগুলো হচ্ছে- উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নতি ও শ্রেণি সম্পর্ক। তিনি মনে করেন যে, সামাজিক পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে এ দুটি শক্তি।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, বিশ বছর পর নারায়ণ তার জন্মস্থানে এসে এলাকার ব্যাপক পরিবর্তন দেখতে পায়। এলাকায় বড় বড় শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এর ফলে কাজের সন্ধানে মানুষ এখানে এসে বসতি স্থাপন করছে। ফলশ্রুতিতে এলাকার লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কল-কারখানা স্থাপনের জন্য নারায়ণদের গ্রামের মানুষ সেখানে কাজ করে জীবিকার্জন করছে। এর ফলে অর্থনৈতিকভাবে তাদের উন্নয়ন ঘটছে এবং সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। নারায়ণদের এলাকার এ পরিবর্তনটি কার্ল মার্কসের রৈখিক তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
জার্মান সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মাকর্সের রৈখিক তত্ত্বের আলোকে বিভিন্ন সময়কার সামাজিক পরিবর্তনের স্বরূপ বিশ্লেষণ করা হলো- উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের যে তত্ত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে সেটি হলো মার্কসীয় তত্ত্ব। মার্কসের মতে, সমাজব্যবস্থা চারটি স্তর অতিক্রম করেছে। যার প্রতিটি স্তরই ছিল ভিন্ন ভিন্ন উৎপাদন ব্যবস্থার দ্বারা চিহ্নিত। প্রাচ্য বা এশীয় সমাজব্যবস্থাকে মার্কস সবচেয়ে প্রাচীন স্তর বলে উল্লেখ করেছেন। সেখানে সীমিত পরিসরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শ্রমবিভাগ লক্ষ করা যায়। সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানা ছিল না। উৎপাদন ছিল মূলত ভোগের জন্য। প্রাচ্য বা এশীয় সমাজব্যবস্থার ফলে উদ্ভব হয় প্রাচীন সমাজের। মানুষের মধ্যে পশু ও কিছু বিলাসজাত দ্রব্যের ব্যক্তিগত মালিকানার উদ্ভব ঘটে। এখানে ভূস্বামী ছিলেন জমির মালিক। কৃষকেরা ছিলেন উৎপাদনের উপকরণের মালিক আর যন্ত্রপাতির মালিক ছিলেন কারিগর শ্রেণি। কালক্রমে মুদ্রার প্রচলন, মজুরির বিনিময়ে শ্রমিক নিয়োগ, নতুন নতুন প্রযুক্তি ও যান্ত্রিক কলাকৌশল আবিষ্কার, নতুন বাজার সৃষ্টি ইত্যাদি কারণে সামন্ত সমাজব্যবস্থা ভেঙে পুঁজিবাদী সমাজের পত্তন হয়। এ সমাজব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণগুলোর মালিকানা থাকে সমাজের অল্প কিছু মানুষের হাতে। সমাজের এসকল পুঁজিপতি কর্তৃক সর্বহারাদের ক্রমাগত নিপীড়নের ফলে একসময় তারা প্রতিবাদী হয়ে উঠবে এবং পুঁজিবাদের সাথে সংঘাতে জড়াবে। এ সংঘাতে পুঁজিবাদের ধ্বংস হবে এবং সমাজে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে। এ সাম্যবাদে কোনো শ্রেণিসংঘাত থাকবে না। সবাই সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করবে আর প্রয়োজন অনুযায়ী ভোগ করবে।
পরিশেষে বলা যায়, কার্ল মার্কসের রৈখিক তত্ত্বে সমাজের বিভিন্ন স্তরে উপরের বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয়।
Related Question
View Allবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জগতের বাস্তব অবস্থা অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।
পারিবারিক পরিবেশেই শিশুর সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়।
পরিবারের মধ্যে শিশু সমাজে প্রচলিত নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিক আদর্শ, আচার-আচরণ প্রভৃতির সাথে পরিচিত হয় এবং সেগুলোকে আয়ত্ত করে। যেসব পরিবারে বাবা-মা শিশুদের সঙ্গ দেন এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন সেসব পরিবারের ছেলে- মেয়েরা পরবর্তী সময় সহজ জীবন যাপন করতে পারে। তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে অন্যের সাথে সহজে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।
উদ্দীপকের জেলার পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা হয়।
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো উন্নয়ন। উন্নয়ন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া। সাধারণ অর্থে পূর্বের সময়ের তুলনায় একটি সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অগ্রগতি হলে তাকে উন্নয়ন বলা যেতে পারে। এ অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের সামাজিক আকাঙ্ক্ষা। এ পরিবর্তন যখন মানুষের জীবনমান, সামাজিক সম্পর্ক, শান্তি, স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি স্বাধীনতার সম্প্রসারণ ঘটায় তখন তা সামাজিক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকের কৃষকরা মহাজনদের মাধ্যমে শোষিত হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং সিদ্ধান্ত নেয় তারা আর তামাক চাষ করবে না। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে আত্মকর্মসংস্থানমূলক নানা কর্মকাণ্ড শুরু করে। ফলে কৃষকরা এখন সচ্ছল এবং অভাবমুক্ত। তাদের এই সচ্ছলতা উন্নয়নকেই নির্দেশ করে। কারণ উন্নয়ন মানেই অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন, যা কৃষকদের বেলায় ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের পরিবর্তন তথা উক্ত অঞ্চলের পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা যায়।
'উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ যেন কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের প্রতিচ্ছবি'- আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।
মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে তার বর্ণিত দাস, সামন্ত ও পুঁজিবাদী সমাজকে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। মার্কসের মতে প্রতিটি সমাজই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। তেমনিভাবে দাস সমাজও দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। দাস এবং দাস মালিক। দাস সমাজের সবকিছু দাস মালিকের অনুকূলে থাকায় অধিকাংশ দাস বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা মেনে নিতে রাজি হয়নি। অবশেষে কয়েকশ বছর সংগ্রামের পর তারা বিদ্যমান সমাজব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।
দাস সমাজে যারা দাস ছিল সামন্ত সমাজে তারা ভূমিদাসে পরিণত হয়। এ সমাজে ব্যক্তি দাস সমাজ থেকে একটু বেশি স্বাধীনতা পায়, তবে পুরোপুরি স্বাধীনতা পায় না। ফলশ্রুতিতে এ সমাজের বিরুদ্ধেও তারা সংগ্রাম করে। মার্কসের মতানুসারে সামন্ত সমাজের অবসানের ফলে পুঁজিবাদী সমাজের আর্বিভাব ঘটে। এই পুঁজিবাদী সমাজে এসেই সবাই তাত্ত্বিকভাবে মুক্ত হয় এবং এ পর্যায়ে সমাজব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটে। যেমনটি আমরা উদ্দীপকে লক্ষ করি।
উপরের আলোচনায় এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, পুঁজিবাদী সমাজে পদার্পণের জন্য ব্যক্তিকে শ্রেণি সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আসতে হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বেরই প্রতিচ্ছবি।
লোকরীতি হচ্ছে সমাজের আদর্শ বা মানসম্পন্ন আচরণ যা সমাজের সদস্যদের জন্যে অবশ্য পালনীয়।
সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি ।
মানুষের চিন্তাভাবনা, শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, রাজনীতি, নীতিবোধ প্রভৃতি হচ্ছে অবস্তুগত সংস্কৃতি। অগবার্নের মতে, ধর্ম, ভাষা, সাহিত্য, বিশ্বাস, মানসিকতা, মূল্যবোধ প্রভৃতি হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!