বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ, যার অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। নাসরিন আক্তার বাংলাদেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য খুঁজতে গিয়ে প্রথমেই দেখেছেন প্রাথমিক খাতের প্রাধান্য, যেখানে কৃষি, মৎস্য, পশুপালন ইত্যাদি জড়িত। জিডিপিতে প্রায় বেশির ভাগ অংশের অবদান প্রাথমিক খাতের এবং দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের কর্মসংস্থান হয় এ খাতে। বাংলাদেশের কৃষিতে এখনো সনাতন চাষপদ্ধতি ও প্রকৃতিনির্ভরতা বিদ্যমান। সাম্প্রতিককালে এ খাতের উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে, যেখানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জিডিপিতে সার্বিক কৃষি খাতের অবদান ১৫.৩৩%।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্প বেশ অনগ্রসর, যেখানে পাটজাত দ্রব্য, চিনি, বস্ত্র, সিমেন্ট, সার, কাগজ ইত্যাদি উৎপাদিত হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ছিল ৩১.৫০%। বাংলাদেশে জনসংখ্যা অতিরিক্ত হলেও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সিংহভাগই অদক্ষ। জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে বাংলাদেশ উপরের দিকে অবস্থান করছে, যেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১,০৭৭ জন লোক বসবাস করে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও ১.৩৭%।
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামো এখনো অনেক দুর্বল। বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নের জন্য এবং লেনদেন ঘাটতি মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন দাতা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রতিনিয়ত ঋণ গ্রহণ করতে হচ্ছে, যার ফলে বর্তমানে পুঞ্জীভূত বৈদেশিক বার্ষিক ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪০০%। নাসরিন আক্তার বাংলাদেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য খুঁজতে গিয়ে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্য খুঁজে পেয়েছেন।
Related Question
View Allবাংলাদেশে ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন দেশ হলো বাংলাদেশ। ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশের। অবস্থান বিস্তৃত। এ দেশের মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। সাগরের অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণে হওয়ার কারণে এ দেশের অবস্থান প্রান্তীয়। বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম, পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।
উদ্দীপকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। নিচে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের প্রকৃতি তুলে ধরা হলো-
দারিদ্র্য যেকোনো দেশের জন্যই অভিশাপ। সাধারণত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে। সেই দেশগুলোর জনগণের আয় অনেক কম থাকার কারণে সেসব দেশে সঞ্চয়ের পরিমাণও কম হয়। একটি দেশে যখন সঞ্চয়ের পরিমাণ কম হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই দেশে বিনিয়োগ কম হবে। বিনিয়োগ যখন কম হয়, তখন সেই দেশের জনগণ বেকার থাকে। তাদের কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দেয়, ফলে নিয়োগ কম হয়। একটি দেশে নিয়োগ, কর্মসংস্থান কম থাকার অর্থ সে দেশের উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো অচল থাকে অথবা উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধও থাকতে পারে। ফলে উৎপাদন কম হয়। একটি দেশের উৎপাদন কম হলে আয় কম হবে, এটাই স্বাভাবিক। এভাবেই একটি দেশ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে।
অতএব বলা যায়, একটি দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। অধিক জনসংখ্যা এ দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ২৩.৫ ভাগ লোক বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে।
এ দেশেও তাই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিদ্যমান রয়েছে। এ দেশে অধিক জনসংখ্যার কারণে শ্রম সস্তা। এই সস্তা শ্রমের কারণে জনগণের আয় কম। আয় কম হওয়ার কারণে সঞ্চয় কম। ফলে বিনিয়োগ কম। তবে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যার ফলে দেশের অধিক জনসংখ্যার কিছু অংশের কর্মসংস্থান রয়েছে। তার পরও প্রায় ৩ কোটির উপরে বেকার জনগোষ্ঠী এ দেশে রয়েছে। ফলে এই নিয়োগ কম হওয়ায় আশানুরূপ উৎপাদন হচ্ছে না। আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার কারণে জনগণের আয়ও কম হচ্ছে। এভাবেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র যত দিন বাংলাদেশ থেকে দূর না হবে, তত দিন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত কৃষি। এদেশের মোট শ্রম শক্তির ৪৫.১% কৃষির উপর নির্ভরশীল এবং প্রায় ৭৫% মানুষ কৃষির উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। ২০১৬-১৭অর্থবছরে দেশের জিডিপির ১৪.৭৯% আসে কৃষি থেকে। বাংলাদেশের শিল্পের কাঁচামালের বেশিরভাগই আসে কৃষি থেকে। তাই বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!