গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ইত্যাদির মাঝখানে যে খালি জায়গা বিদ্যমান তাকে মহাশূন্য বলে।
আমরা জানি, সূর্যসহ প্রতিটি নক্ষত্র এক একটি জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড বলে এদের সবারই আলো ও উত্তাপ আছে। আর গ্রহ ও উপগ্রহের নিজস্ব কোনো আলো ও উত্তাপ নেই। পৃথিবী সূর্যের একটি গ্রহ এবং সূর্যের চারপাশে অনবরত আবর্তনশীল। পৃথিবীর নিজস্ব কোনো আলো না থাকলেও সূর্যের আলো পৃথিবীর উপর পড়ে তা প্রতিফলিত হয় এবং পৃথিবীকে আলোকিত করে। অর্থাৎ সূর্যের আলোর কারণেই পৃথিবী আলো পায়।
ছক 'A' তে কৃত্রিম উপগ্রহটি হলো পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ। নিচে উপগ্রহটির কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলো-
১. সমুদ্রের কোথায় কোন জাহাজ হতে তেল চুইয়ে পরিবেশ দূষণ করছে, কোন শহরের বায়ু দূষিত ও ময়লা তা পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহের সাহায্যে ছবি তুলে জানা যায়।
২. বনে কোথায় আগুন লেগেছে, কোনো জাহাজের যাত্রাপথে হিমবাহ আছে কি-না তা জানতেও এ উপগ্রহ সহায়তা করে।
৩. কোন মাঠে ফসল ভালো হচ্ছে, কোনো ফসলে রোগ-বালাই বা পোকামাকড় আক্রমণ করেছে কি-না তা জানতে তথ্য ও ছবি এ উপগ্রহ পাঠাতে পারে।
৪. মাটি, পানি ও বায়ু দূষণ নির্ণয়ের জন্যও এ উপগ্রহ ব্যবহার করা যায়।
সৌরজগতে তৃতীয় কক্ষপথে অবস্থিত গ্রহটি হলো পৃথিবী এবং পৃথিবীর একমাত্র সদস্য উপগ্রহটি হলো চাঁদ।
প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদ এবং কৃত্রিম যোগাযোগ উপগ্রহ উভয়ই একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে অনবরত পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীর চারদিকে ঘুরার জন্য কেন্দ্রমুখী বল বা টানের প্রয়োজন হয়। চাঁদের জন্য পৃথিবীর আকর্ষণ বল বা অভিকর্ষ বল এ কেন্দ্রমুখী বলের যোগান দেয়। যার ফলে চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে উপবৃত্তাকার পথে প্রতিনিয়ত আবর্তন করছে। কিন্তু কৃত্রিম উপগ্রহে অভিকর্ষ বল এ কেন্দ্রমুখী বলের যোগান দেওয়ার জন্য একে পৃথিবীর ২৫০ কিলোমিটার উপরে তুলে পৃথিবীপৃষ্ঠের সমান্তরালে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮ কিলোমিটার বেগ দিতে হয়। যার কারণে এই উপগ্রহ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে পারে। কৃত্রিম উপগ্রহের তুলনায় চাঁদের আকর্ষণ বল অনেক বেশি হওয়ায়, চাঁদ পৃথিবীকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করতে সাহায্য করে। এছাড়া চাঁদ পৃথিবীতে জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় ও সমুদ্রে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অপরদিকে কৃত্রিম যোগাযোগ উপগ্রহের মাধ্যমে আমরা টেলিফোনে বেতার সংকেত ব্যবহার করে খুব সহজেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যোগাযোগ করতে পারি। বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বা অলিম্পিক গেইম টেলিভিশনে একইভাবে বেতার সংকেত ব্যবহার করে ঘরে বসেই দেখতে পারি।
অতএব উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায়, প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদ ও কৃত্রিম যোগাযোগ উপগ্রহের মধ্যে মিল থাকলেও এদের কার্যক্রম ভিন্ন।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!