দুই বা ততোধিক খনিজ প্রাকৃতিক উপায়ে একত্রিত হয়ে যে পদার্থ গঠন করে, তাকে শিলা বলে।
উৎপত্তির আদি পর্বে আমাদের এ পৃথিবী উত্তপ্ত তরল অবস্থায় ছিল। সৃষ্টির সেই আদি পর্যায়ের উত্তপ্ত তরল পদার্থসমূহই ক্রমে ক্রমে জমাট বেঁধে পৃথিবীর উপরিভাগে কঠিন আগ্নেয় শিলার এক আবরণ সৃষ্টি করে। পৃথিবী এক সময় জ্বলন্ত বাষ্পপিন্ড ছিল। কালক্রমে শীতল হয়ে উত্তপ্ত তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। তারপর ধীরে ধীরে তাপ বিকিরণের ফলে পৃথিবীর উপরিভাগ কঠিন ও শীতল আকার ধারণ করে। উত্তপ্ত তরল পদার্থসমূহ শীতল হয়ে জমাট বেঁধে পৃথিবীর উপরিভাগে কঠিন আগ্নেয় শিলার এক আবরণ সৃষ্টি করে।
'ক' চিহ্নিত শিলাটি হচ্ছে উপপাতালিক শিলা এবং 'খ' চিহ্নিত শিলাটি হচ্ছে পাতালিক শিলা।
পাতালিক ও উপপাতালিক শিলার মধ্যকার মৌল পার্থক্য হচ্ছে পাতালিক শিলা গ্রানাইট ডায়োরাইট ও গ্যাব্রো জাতীয়; কিন্তু উপপাতালিক শিলা ডায়োরাইট, গ্রানোপার ও পরফাইরি জাতীয় শিলা। পাতালিক শিলার কণাগুলো খুব বড়; কিন্তু উপপাতালিক শিলার কণাগুলো মাঝারি ধরনের। নিচে পাতালিক ও উপপাতালিক শিলা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো- ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক নিচে উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা বহু বছর যাবৎ ধীরে ধীরে তাপ বিকিরণ করে শীতল ও কঠিন হয়ে যে শিলায় পরিণত হয়, তাকে পাতালিক আগ্নেয় শিলা বলে। অভ্যন্তরীণ চাপ ও তাপের ফলে অতি ধীরে শীতল হয় বলে এরূপ শিলার কণাগুলো খুব বড় ও সম্পূর্ণরূপে কেলাসিত হয়। ম্যাগমা, ব্যাথোলিখ, ল্যাকোলিথ পাতালিক শিলার অন্তর্গত। অপরদিকে, ভূপৃষ্ঠের স্বল্প নিচে ভূত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের মধ্যে উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা পাতালিক শিলা অপেক্ষা দ্রুত কিন্তু বহিঃজ আগ্নেয় শিলা অপেক্ষা ধীরে শীতল হয়ে যে শিলার সৃষ্টি করে, তাকে উপপাতালিক আগ্নেয় শিলা বলে। অপেক্ষাকৃত কম চাপ ও তাপের মধ্যে ধীরে শীতল হয় বলে এরূপ শিলার কণাগুলো মাঝারি ধরনের হয়। আগ্নেয় সুরঙ্গ, সিল, ডাইক প্রভৃতি উপপাতালিক শিলার অন্তর্গত।
অনেক সময় উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহ পলির মধ্যে প্রোথিত হয়ে ধীরে ধীরে প্রস্তরীভূত হয় এবং পাথরের মধ্যে তার ছাপ থেকে যায়।
উদ্ভিদ বা প্রাণীর ছাপযুক্ত সেই প্রস্তরকে জীবাশ্ম বলে। পাললিক শিলার মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। আবার, জীবাশ্ম দেখে কোনো জায়গার ভূমিরূপের উৎপত্তি সম্পর্কে ধারণা করা যায়। যেমন হিমালয় পর্বতের বিভিন্ন অংশ থেকে সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের অনেক জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। এ থেকে বোঝা যায় সমুদ্রগর্ভে সঞ্চিত পলিরাশি তথা পাললিক শিলা থেকে হিমালয়ের উৎপত্তি হয়েছে। কিন্তু গলিত আগ্নেয় পদার্থসমূহ শীতল হয়ে জমাট বেঁধে আগ্নেয় শিলা সৃষ্টি হয় বলে তার মধ্যে কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহ চাপা পড়লেও তা নষ্ট হয়ে যায়, প্রস্তরে তার কোনো ছাপ থাকে না। এজন্য আগ্নেয় শিলায় জীবাশ্ম থাকে না।
সুতরাং বলা যায়, "পাললিক শিলায় জীবাশ্ম থাকলেও আগ্নেয় শিলায় জীবাশ্ম থাকে না।"-উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View Allবাংলাদেশের ভূপ্রকৃতিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ভূপ্রকৃতিটি হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের পাহাড়ী এলাকাগুলো নিয়ে টারশিয়ারি অঞ্চল গঠিত। সম্ভবত টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় মিয়ানমারের দিক হতে আগত গিরিজনি আলোড়নের ধাক্কায় ভাঁজগ্রস্ত হয়ে এসব পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এদের টারশিয়ারি পাহাড় বলা হয়। এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মায়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ী অঞ্চলের আয়তন ১০,৩২৪ বর্গ কি.মি.। এ পাহাড়গুলো বেলে পাথর, স্লেট জাতীয় প্রস্তর এবং কর্দমের সংমিশ্রণে গঠিত। পাহাড়গুলোর গায়ে
ক্ষুদ্র-বৃহৎ বৃক্ষরাজির বন এবং অসংখ্য ঝোপজঙ্গল রয়েছে। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি জেলা এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে অবস্থিত পাহাড়সমূহ নিয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত বিচ্ছিন্ন ছোট-বড় পাহাড় নিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চল অবস্থিত। যা টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর এ অঞ্চলটি দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক', 'খ' ও 'গ' ভূপ্রকৃতি হলো যথাক্রমে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চল। এদের মধ্যে সাম্পতিক কালের প্লাবন সমভূমির ভূপ্রকৃতি সর্বাধিক।টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। অসংখ্য ছোট-বড় নদী, বাংলাদেশের সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। সমতলভূমির উপর দিয়ে এ নদীগুলো প্রবাহিত হওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর এভাবে বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে। এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
এ সমভূমি বাংলাদেশের উত্তর অংশ থেকে উপকূলের দিকে ক্রমনিম্ন। সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত। সমুদ্র সমতল থেকে বাকি অঞ্চলগুলো যেমন- দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার, বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার, ময়মনসিংহের উচ্চতা ১৮ মিটার এবং নারায়ণগঞ্জ ও যশোরের উচ্চতা ৮ মিটার। এই অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি ছড়িয়ে আছে। এর কিছুসংখ্যক পরিত্যক্ত অশ্বখুরাকৃতি নদীখাত। স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওর বলে। এদের মধ্যে চলনবিল, মাদারিপুর বিল ও সিলেট অঞ্চলের হাওরসমূহ বর্ষার পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে হ্রদের আকার ধারণ করে। সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভুমি খুবই উর্বর।
ভূপৃষ্ঠের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে সুউচ্চ শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
ভূআলোড়নের ফলে ভূত্বকের স্থানচ্যুতি ঘটে। ভূত্বকের এ স্থানচ্যুতি কোথাও উপরের দিকে হয়, আবার কখনো নিম্নগামী হয়।
চ্যুতি বরাবর ঊর্ধ্বগামী শিলাস্তূপকে স্তূপ পর্বত বলে। এ ধরনের পর্বতের অন্তত একপাশে উঁচু কোণবিশিষ্ট স্বাভাবিক চ্যুতি থাকে। ব্ল্যাক ফরেস্ট, ভোজ, নীলগিরি ও আন্ন্যামালি এ পর্বতের অন্তর্ভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
