যে লেন্সের মধ্যভাগ পুরু এবং প্রান্ত ভাগ সরু তাকে উত্তল লেন্স বলে।
আলোক রশ্মি ক্রান্তি কোণের সমান কোণে আপতিত হলে প্রতিসরিত রশ্মি বিভেদতল ঘেঁষে যায়। আপতন কোণের মান আরও বৃদ্ধি করলে অর্থাৎ আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হলে সেক্ষেত্রে আলোক রশ্মি বিভেদতলে বাধা পেয়ে ১ম মাধ্যমে ফিরে এসে পূর্ণঅভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের সৃষ্টি করে। এজন্য পূর্ণঅভ্যন্তরীণ প্রতিফলনে আপতন কোণের মান ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হয়।
এখানে, বক্রতার ব্যাসার্ধ, r = 80cm
ফোকাস দূরত্ব,f=40cm
লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব, u = 30cm
প্রতিবিম্বের দূরত্ব, v =?
বিবর্ধন, m =?
আমরা জানি,
v = - 120cm
আবার, m=4
সুতরাং, AB এর বিবর্ধন হবে 4
'গ' হতে পাই, লেন্সটির ফোকাস দূরত্ব = 40 cm
লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব হবে = 50 cm
অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তু প্রধান ফোকাস এবং বক্রতার কেন্দ্রের মাঝে অবস্থিত হবে। এক্ষেত্রে প্রতিবিম্বের অবস্থান, আকৃতি ও প্রকৃতি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
এখানে, MM' অবতল আয়নার P হলো মেরুবিন্দু। F প্রধান ফোকাস, C বক্রতার কেন্দ্র এবং PC প্রধান অক্ষ। প্রশ্নানুযায়ী AB বস্তুর অবস্থান হলো প্রধান ফোকাস এবং বক্রতার কেন্দ্রের মধ্যবর্তী স্থানে।

এখন A বিন্দু থেকে একটি রশ্মি CAM বক্রতার ব্যাসার্ধ বরাবর আপতিত হয়ে M বিন্দুতে প্রতিফলনের পর একই পথে ফিরে আসে এবং AK একটি রশ্মি PC প্রধান অক্ষের সমান্তরালে আয়নার K বিন্দুতে আপতিত হয়ে প্রধান ফোকাসের মধ্য দিয়ে KFI পথে প্রতিফলিত হয়।
প্রতিফলনের পর রশ্মি দুটি। বিন্দুতে মিলিত হয়। সুতরাং হলো A বিন্দুর বাস্তব প্রতিবিম্ব। B হতে PC প্রধান অক্ষ বরাবর আপতিত রশ্মি ঐ পথেই ফিরে যায়। ফলে B এর প্রতিবিম্ব ঐ রেখার উপরই হবে।
হতে প্রধান অক্ষ বরাবর IO লম্ব অঙ্কন করি। IO-ই হলো লক্ষ্যবস্তু AB এর বাস্তব প্রতিবিম্ব।
চিত্র হতে দেখা যায় প্রতিবিম্বের প্রকৃতি বাস্তব এবং উল্টো।
প্রতিবিম্বের আকৃতি হবে বিবর্ধিত এবং অবস্থান হবে বক্রতার কেন্দ্র ও অসীমের মাঝে।
আমরা চারপাশের যা কিছু আছে সেগুলো থেকে যখন আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে এসে পড়ে আমরা তখন সেগুলো দেখতে পাই। আগের অধ্যায়ে শব্দকে ভরা হিসেবে জেনেছি, এই অধ্যায়ে আমরা আলোকে তরঙ্গ হিসেবে জানব, তবে সেটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ধরনের তরঙ্গ যার নাম বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
আলো যখন সমতল আয়নায় প্রতিফলিত হয় তখন সেটি প্রতিবিম্ব তৈরি করে, আমরা সবাই সেই প্রতিবিম্বের সাথে পরিচিত। সমতল আয়না না হয়ে গোলাকৃতির আয়নাও ব্যবহার করা যায় তখন সেটি যে প্রতিবিম্ব তৈরি করবে সেটি হবে অন্যরকম। এই অধ্যায়ে আমরা নানা ধরনের আয়নার নানা ধরনের প্রতিবিম্বের বিষয়গুলোও আলোচনা করব।
Related Question
View Allযে আয়নার পৃষ্ঠটি মসৃণ ও সমতল হয় এবং তাতে আলোর। নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে, সেটিই সমতল দর্পণ।
ধাতুর প্রলেপ লাগানো ব্যতীত দর্পণ স্বচ্ছ সমসত্ত্ব কাচ খণ্ডের ন্যায়, যাতে আলো লম্বভাবে আপতিত হলে মাত্র 4.5% প্রতিফলিত হয়। অন্যদিকে ধাতুর প্রলেপ লাগানোর ফলে দর্পণের আলোর প্রতিফলনের পরিমাণ প্রায় 40% হয়। তাই আলোর প্রতিফলনের হার বৃদ্ধির জন্য দর্পণের পিছনে ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
চিত্র এঁকে RS দর্পণ থেকে PQ বস্তুর প্রতিবিম্বের অবস্থান নিচে নির্ণয় করা হলো-

RS সমতল দর্পণে হচ্ছে আপতন বিন্দু এবং ON অভিলম্ব। দর্পণের সামনে PQ একটি লক্ষ্যবস্তু। PওQ হতে PT এবং QS রশ্মি দর্পণের অভিলম্বভাবে আপতিত হয়ে TP এবং SQ পথে ফিরে আসে। আবার PO ও QO রশ্মি প্রতিফলিত হয়ে OK এবং OL পথে চলে যায়। PT ও OK এবং QS ও OL রশিাগুলোকে পিছনে বর্ধিত করলে তারা যথাক্রমে P' ও Q' বিন্দুতে মিলিত হয়। অর্থাৎ প্রতিফলিত রশ্মিগুলো P' ও Q' বিন্দু থেকে আসছে বলে মনে হয়। P' ও Q' যোগ করলে P'Q'-ই হবে PQ বস্তুর প্রতিবিম্ব।
সুতরাং প্রতিবিম্বের অবস্থান হবে দর্পণের পিছনে এর দূরত্ব SR দর্পণ হতে PQ এর দূরত্বের সমান।
উদ্দীপকের ১ ও ২ নং চিত্রের দর্পণদ্বয় যথাক্রমে সমতল দর্পণ ও -অবতল দর্পণ। নিচে ১ এবং ২ নম্বর দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের তুলনা করা হলো-
সাদৃশ্য:
১. ১নং ও ২নং উভয় দর্পণে আলোর সুষম প্রতিফলন ঘটে।
২. উভয় দর্পণে গঠিত বিম্ব চোখে দেখা যায়।
বৈসাদৃশ্য:
১. ১নং দর্পণে সৃষ্ট প্রতিবিম্ব অবাস্তব ও সোজা হলেও ২নং দর্পণে সৃষ্ট প্রতিবিম্ব বাস্তব ও উল্টো অথবা অবাস্তব ও সোজা হতে পারে।
২. ১নং দর্পণে সৃষ্ট প্রতিবিম্ব পর্দায় ফেলা যায় না কিন্তু ২নং দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব পর্দায় ফেলা যায়।
৩. ১নং দর্পণের ক্ষেত্রে দর্পণ হতে লক্ষ্যবস্তু ও প্রতিবিম্বের দূরত্ব সমান অন্যদিকে ২নং দর্পণের ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থানভেদে প্রতিবিম্বের দূরত্ব বিভিন্ন হয়।
৪. ১নং দর্পণে সৃষ্ট প্রতিবিম্বের উচ্চতা লক্ষ্যবস্তুর উচ্চতার সমান কিন্তু ২নং দর্পণে সৃষ্ট প্রতিবিম্বের উচ্চতা লক্ষ্যবস্তুর অবস্থানভেদে পরিবর্তিত হয়।
কোনো বিন্দু উৎস থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় বা দ্বিতীয় কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে ঐ দ্বিতীয় বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর প্রতিবিম্ব বলে।
আলোর প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী আমরা জানি, আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণের মান সমান। অর্থাৎ আপতিত রশ্যি অভিলম্বের সাথে যে কোণে আপতিত হয় প্রতিফলিত রশ্মি একই কোণে। প্রতিফলিত হয়। এ জন্যই লম্বভাবে দর্পণে আপতিত রশ্মি একই পথে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
