সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ হচ্ছে বুধ।
ধূমকেতু সৌরজগতের অংশ। এরা কঠিন (গ্যাস, বরফ ও ধূলিকণা) পদার্থ দিয়ে তৈরি। তবে তাপ পেলে কিছু অংশ সহজেই গ্যাসে পরিণত হতে পারে। যখন ধূমকেতুসমূহ সূর্যের কাছাকাছি যায় তখন সূর্যের তাপে গ্যাসীয় ও কঠিন পদার্থ নির্গত হয়ে আকাশে ছড়িয়ে যায়। তখন এটি ঝাঁটার মতো লেজে পরিণত হয়।
উদ্দীপকের B হচ্ছে পৃথিবী যা নিজ অক্ষের উপর আবর্তন করছে সেই সাথে সূর্য (A) কে প্রদক্ষিণ করছে। পৃথিবী নিজ অক্ষে আবর্তনের ফলে দিন-রাত হয়। একটি পরীক্ষার মাধ্যমে কীভাবে দিন-রাত হয় তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
প্রয়োজনীয় উপকরণ: একটি ভূ-গোলক, একটি মোমবাতি অথবা কুপিবাতি অথবা চার্জ লাইট।
পরীক্ষার ব্যাখ্যা: একটি কম আলোকিত বা অন্ধকার ঘরে টেবিলের
উপর একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখি। বাতিটির সামনে একটি ভূ-গোলক বসাই। এখানে আলোর উৎসটিকে সূর্য এবং ভূ-গোলকটিকে পৃথিবী বোঝানো হয়েছে। লক্ষ করলে দেখা যাবে, ভূ-গোলকটির যে পাশে আলোকটি আছে সেদিক আলোকিত হয়েছে।
অপর পাশটি আলো পাচ্ছে না বিধায় অন্ধকার থেকে যাচ্ছে। আলোকিত অংশটিতে দিন এবং অপর অংশটিতে রাত। এবার ভূ-গোলকটি আস্তে আস্তে ঘুরাতে থাকলে দেখা যাবে, আলোকিত অংশ ধীরে ধীরে অন্ধকারে যাচ্ছে এবং অন্ধকার অংশ ক্রমশ আলোকিত হচ্ছে। এভাবে পৃথিবীর অর্ধেকাংশে দিন ও বাকি অর্ধেকাংশে রাত চলতে থাকে।
উদ্দীপকের A চিহ্নিত অংশ সূর্য এবং B চিহ্নিত অংশ পৃথিবী। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে না ঘুরলে পৃথিবীর কোনো একটি জায়গায় সবসময় একটি ঋতুই থাকতো। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে সারা বছর হয়তো গরম থাকতো, কোনো শীত আসতো না। উল্টোটাও হতে পারত। অর্থাৎ সবসময় শীত থাকতো। বাংলাদেশে বিভিন্ন ঋতু আছে বলে বিভিন্ন ফসল ফলে। একটি ঋতু থাকলে এক রকম ফসলই হতো। আমাদের জীবনধারণ কষ্টকর হয়ে যেত।
রাশিয়া বা অন্যান্য শীতপ্রধান দেশে ঋতু পরিবর্তন না হলে মানুষ বাঁচতেই পারত না। সেখানে বছরের বেশির ভাগ সময় বরফ ঢাকা থাকে। সেসময় ফসল ফলে না। অল্প সময় গ্রীষ্মকাল এলে বরফ গলে যায়। মানুষ তখন ফসল ফলায়। গ্রীষ্মকাল না এলে মানুষ ফসল ফলাতে পারত না।
আমাদের বাসভূমি পৃথিবী, অন্য সাতটি গ্রহ এবং আরও কিছু জ্যোতিষ্ক সূর্যকে কেন্দ্র করে সব সময় ঘুরছে। সূর্য এবং একে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান সকল জ্যোতিষ্ক ও ফাঁকা জায়গা নিয়ে আমাদের সৌরজগত গঠিত। সৌরজগতের বেশির ভাগ জায়গাই ফাঁকা। আমাদের এই পৃথিবী দুই ভাবে ঘুরছে। পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পাক খাচ্ছে আবার সূর্যকে কেন্দ্র করে এক বছরে একবার ঘুরে আসছে। পৃথিবীর এই দুই ধরনের ঘোরার ফলেই যথাক্রমে দিন-রাত হয়, এবং ঋতু পরিবর্তিত হয়।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- সৌরজগতের গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব।
- সৌরজগতের সদস্যদের ভৌত বৈশিষ্ট্য তুলনা করতে পারব।
- সৌরজগতের গঠন কাঠামোর চিত্র অঙ্কন করতে পারব।
- পৃথিবী ঘূর্ণনের প্রভাব এবং এর ফলে সৃষ্ট ফলাফল ব্যাখ্যা করতে পারব।
- জীবজগতে পৃথিবীর ঘূর্ণনের প্রভাব উপলব্ধি করতে পারব।
Related Question
View Allপৃথিবী নিজ অক্ষের উপর কেন্দ্র করে ২৪ ঘণ্টায় একবার পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করাই আহ্নিক গতি।
জুনের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সূর্যের কিছুটা কাছে চলে আসে। তাই এ সময়ে সূর্যকে আমরা মাথার উপরে দেখতে পাই। এই সময়ে দিন সবচেয়ে বড় ও রাত সবচেয়ে ছোট হয়। খাড়াভাবে এবং দীর্ঘ সময় সূর্যের তাপ পাওয়ার কারণে এই সময়টিতে এবং এর কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশে বেশ গরম পড়ে। তবে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই সময়ে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে রাত সবচেয়ে ছোট এবং দিন সবচেয়ে বড় হয়। উদ্দীপকের চিত্রে আমরা দেখি যে, ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধের একটি অংশ সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। ফলে সূর্য তখন দক্ষিণ গোলার্ধে খাড়াভাবে কিরণ দেয়। অতএব ২১ জুন ও এর কাছাকাছি সময়ে উত্তর গোলার্ধে যেরূপ সর্বাপেক্ষা অধিক উষ্ণ হয় ২১ ডিসেম্বরও এর কাছাকাছি সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে সেইরূপ সর্বাপেক্ষা অধিক উষ্ণ হয়। অতএব ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এবং এর বিপরীত কারণে উত্তর গোলার্ধে শীতকাল থাকে। তাই বলা যায়, ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে রাত সবচেয়ে ছোট এবং দিন সবচেয়ে বড় হয়।
উত্তর গোলার্ধে ৩০ ডিসেম্বর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য কেমন হবে তা যুক্তিসহ নিচে উপস্থাপন করা হলো-
পৃথিবীর বিষুব রেখার দুই পার্শ্বকে দুটি গোলার্ধে ভাগ করা হয়। উত্তর অংশকে বলে উত্তর গোলার্ধ। পৃথিবী সূর্যের চারপাশে কিছুটা হেলে প্রদক্ষিণ করে। তবে পৃথিবী বছরের বিভিন্ন সময়ে তার হেলানো অবস্থার পরিবর্তন করে। ২৩ সেপ্টেম্বরের পর উত্তর মেরু সূর্য থেকে দূরে সরে যেতে থাকে আর দক্ষিণ মেরু তখন নিকটবর্তী হয়। এমতাবস্থায় উত্তর গোলার্ধে দিনের পরিমাণ কমতে থাকে এবং রাত্রি বড় হতে থাকে। ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধের একটি অংশ সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে আর তখন বাংলাদেশ সূর্য থেকে দূরে অবস্থান করে। তাই তখন বাংলাদেশে দিন ছোট হয় এবং রাত বড় হয়। অর্থাৎ ২১ ডিসেম্বর পৃথিবী এমন এক অবস্থানে পৌঁছে যখন উত্তর গোলার্ধে সূর্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। ফলস্বরূপ বলা যায়, উত্তর গোলার্ধে ৩০ ডিসেম্বর দিনের দৈর্ঘ্য ছোট হয় এবং রাতের দৈর্ঘ্য বড় হয়।
চাঁদ ২৭ দিন ৮ ঘণ্টায় পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে।
প্লুটো নামক জ্যোতিষ্কটিকে পূর্বে গ্রহ বলা হতো। কিন্তু এটি একটি ক্ষুদ্র ও অসম্পূর্ণ গ্রহ। গ্রহের নিজস্ব কক্ষপথ থাকে। কিন্তু প্লুটোর নিজস্ব কোনো কক্ষপথ নেই। তাই ২০০৯ সালে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেন যে প্লুটো সৌরজগতের সদস্য নয়। তাই প্লুটোকে সৌরজগতের সদস্য ধরা হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!