মানুষ সর্বভুক স্তরের খাদক।
পরিবেশে যেসব অণুজীব মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের উপর ক্রিয়া করে তাদেরকে বিয়োজক বলে। বিয়োজকের ক্রিয়ার ফলে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। ফলে মৃতদেহ ক্রমেই বিয়োজিত হয়ে নানা রকম জৈব ও অজৈব দ্রব্যাদিতে রূপান্তরিত হয়। ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের অণুজীব যেটি মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের উপর ক্রিয়া করে তাদের পচিয়ে ফেলে। এতে মৃতদেহ বিশ্লিষ্ট হয়ে বিভিন্ন দ্রব্যে রূপান্তরিত হয়। এজন্য ব্যাকটেরিয়াকে বিয়োজক বলা হয়।
উদ্দীপকে P হচ্ছে ভাসমান ক্ষুদ্র প্রাণী যা প্রথম স্তরের খাদক।
এদের হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে বাস্তুতন্ত্রে যেরূপ প্রভাব পড়বে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- বাস্তুতন্ত্রের প্রতিটি জীব খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। সহজে এর কোনো একটি অংশ একেবারে শেষ হতে পারে না। পরিবেশে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটলেও বহু দিন পর্যন্ত প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। উদ্দীপকের বাস্তুতন্ত্রে ক্ষুদ্র প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে দ্বিতীয় স্তরের খাদক পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য পেয়ে সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে। তবে উৎপাদকের ঘাটতি হবে। আর পর্যাপ্ত পরিমাণ দ্বিতীয় স্তরের খাদক থাকায় তাদেরকে তৃতীয় বা সর্বোচ্চ স্তরের খাদক খাদ্য হিসেবে খাবে। আবার সর্বোচ্চ খাদকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে দ্বিতীয় ও প্রথম স্তরের খাদকের সংখ্যা হ্রাস পাবে। ফলে এক সময় সর্বোচ্চ খাদক (পুকুরের ক্ষেত্রে বক, কচ্ছপ) হ্রাস পাবে। অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণীর সংখ্যা হ্রাস পেলে খাদকের সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকবে। এভাবে খাদ্য-খাদকের হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে বাস্তুতন্ত্রে সাময়িক পরিবর্তন হলেও এক সময় তা প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। অর্থাৎ P উপাদানের হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে বাস্তুতন্ত্রের উপর তেমন প্রভাব পড়বে না।
চিত্র X হচ্ছে জলজ বা পুকুরের বাস্তুতন্ত্র। পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের উপাদান বিদ্যমান। এসব উপাদান ব্যবহার করে শক্তি প্রবাহ চিত্রসহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-

উপরোক্ত প্রবাহ চিত্র থেকে দেখা যায়, উৎপাদক সূর্যের আলো থেকে শক্তি সংগ্রহ করে। অর্থাৎ সৌর শক্তি প্রথমে উৎপাদকের (ফাইটোপ্লাঙ্কটন, কচুরিপানা, শ্যাওলা) দেহে জমা হয়। উৎপাদক থেকে শক্তি যায় প্রথম স্তরের খাদকে (কীটপতঙ্গ, ছোট মাছ, ঝিনুক, শামুক)। এদেরকে ভক্ষণ করে দ্বিতীয় স্তরের খাদক। ফলে শক্তি দ্বিতীয় স্তরের খাদকে স্থানান্তরিত হয়। আর দ্বিতীয় স্তর (বড় মাছ, ব্যাঙ) থেকে শক্তি সর্বোচ্চ খাদকের (সাপ, বক, কচ্ছপ) দেহে পৌঁছে। তবে ধাপে ধাপে কিছু শক্তি হ্রাস পেতে থাকে। এভাবেই উৎপাদক থেকে সর্বোচ্চ খাদক পর্যন্ত শক্তি প্রবাহ একমুখীভাবে চলতে থাকে।
আমাদের চারপাশের সবকিছু নিয়েই আমাদের পরিবেশ তা তোমরা জানো। আরও জানো, একটি স্থানে যে সকল জড়বস্তু ও জীব থাকে সেগুলো নিয়েই সেখানকার পরিবেশ গড়ে উঠে। তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছ, এই ভূমণ্ডলে বিভিন্ন পরিবেশ রয়েছে। এসব পরিবেশকে আমরা স্বাদু পানি, লোনা পানি ও স্থল এই প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করতে পারি। এই তিন রকমের পরিবেশের প্রত্যেকটিতে স্বতন্ন ধরনের অজীব ও জীব উপাদান থাকে। এসব অৰ্জীৰ ও জীব উপাদানসমূহ একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তোমরা জানো, পরিবেশের জীব উপাদানসমূহের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী। জীবন ধারণের জন্য এসকল উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• বাস্তুতন্ত্রের উপাদান ও প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদান ব্যাখ্যা করতে পারব;
• বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাস্তুতন্ত্রের ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব;
• জীবে বাস্তুতন্ত্রের অবদান উপলব্ধি করব এবং সুরক্ষার অন্যদের সচেতন করতে পারব।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
