উদ্ভিদের পর্ব, পর্বমধ্য ও অগ্রমুকুলবিহীন অংশকে মূল বলে।
চিত্রের A অংশটি হলো পাতা।
১.খাদ্য তৈরি করা পাতার সর্বপ্রধান কাজ। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় এরা খাদ্য প্রস্তুত করে।
২. পাতা শ্বাসকার্য পরিচালনার জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বের করে দেয়।
৩. পাতা খাদ্য তৈরির জন্য কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে ও অক্সিজেন বের করে দেয়।
৪. পাতা উদ্ভিদ দেহের অতিরিক্ত পানিকে বাষ্পাকারে বের করে দেয়।
চিত্র D হলো একটি আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদ। নিচে এর চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-

চিত্রের A, B, C হলো যথাক্রমে পাতা, কান্ড ও মূল। মানবজীবনে পাতা, কান্ড ও মূলের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে মানবজীবনে পাতা, কান্ড ও মূলের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো-
১. পাতার প্রয়োজনীয়তা 'লাউশাক, পুঁইশাক, লালশাক, পালংশাক, পাটশাক, ও কলমিশাক ছাড়াও আরও নানা ধরনের শাক আমরা প্রতিদিন খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি। কলা, তাল, আনারস গাছের পাতা থেকে আঁশ পাওয়া যায়। এ আঁশ দিয়ে নানা ধরনের শৌখিন দ্রব্য তৈরি হয়। তালপাতা ও গোলপাতা ঘরের ছাউনি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চা পাতা থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়। বাসক, নিশিন্দা, কুর্চি, থানকুনি, গাঁদা ইত্যাদি গাছের পাতা থেকে মূল্যবান ঔষধ পাওয়া যায়।
২ . কান্ডের প্রয়োজনীয়তা: বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদের নরম কান্ড আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি। খেজুর ও আখের কান্ড হতে পাওয়া রস উপাদেয় পানীয়। বড় বড় কান্ড থেকে আমরা ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র তৈরির কাঠ পেয়ে থাকি। পাট বা শণের কাণ্ড থেকে প্রাপ্ত আঁশ দিয়ে দড়ি, ছালা, কাপড় ইত্যাদি তৈরি হয়।
৩. মূলের প্রয়োজনীয়তা: মুলা, গাজর, শালগম ইত্যাদি উদ্ভিদের মূল উপাদেয় সবজি। শতমূলী, সর্পগন্ধা ইত্যাদি উদ্ভিদের মূল থেকে দামি ঔষধ তৈরি হয়।
Related Question
View Allযেসব উদ্ভিদের দেহে মূল, কান্ড ও পাতা থাকে এবং ফুল, ফল ও বীজ হয় সেসব উদ্ভিদকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে।
উদ্ভিদের যে অংশগুলো মাটির উপরে থাকে তাদের একত্রে বিটপ বলে। বিটপে কান্ড, পাতা, ফুল ও ফল থাকে।
চিত্রের A ও B চিহ্নিত অংশ দুটি উদ্ভিদের কান্ড ও মূল। নিচে এদের পার্থক্য তুলে ধরা হলো-
A (কান্ড) | B (মূল) |
১. কান্ড ভ্রূণের ভূণমুকুল থেকে উৎপন্ন হয়। | ১. মূল ভ্রূণের ভ্রূণমূল থেকে উৎপন্ন হয়। |
২. উদ্ভিদদেহের ঊর্ধ্বগামী অঙ্গ গঠন করে। | ২. উদ্ভিদের নিম্নগামী অঙ্গ গঠন করে। |
৩. এতে পর্ব ও মধ্যপর্ব থাকে এবং শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল, ফল ধারণ করে। | ৩. এতে পর্ব ও মধ্যপর্ব থাকে না। কেবল শাখা-প্রশাখা, মূল ধারণ করে। |
৪. এর অগ্রভাগে মূলত্রের পরিবর্তে অগ্রমুকুল থাকে। | ৪. এর অগ্রভাগে মূলত্র থাকে। |
৫. কাণ্ডের বর্ণ সাধারণত সবুজ, অবস্থা বিশেষে বর্ণহীন। | ৫. মূল সাধারণত বর্ণহীন; অবস্থা বিশেষে বর্ণ যুক্ত হয়। |
চিত্রের A ও B চিহ্নিত অংশগুলো যথাক্রমে উদ্ভিদের কান্ড ও মূল। নিচে এদের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-
কান্ডের গুরুত্ব:.
১. কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভার বহন করে।
২. উদ্ভিদের কান্ড থেকে আমরা আসবাবপত্র, খুঁটি ইত্যাদি তৈরি করি।
৩. অনেক উদ্ভিদের কাণ্ড আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি।
৪. কাণ্ডের মধ্য দিয়ে মূল দ্বারা শোষিত পানি, খনিজ লবণ ইত্যাদি উদ্ভিদের শাখা-প্রশাখা, পাতায়, ফুলে এবং ফলে বাহিত হয়।
৫. এটি পাতায় প্রস্তুত খাদ্য দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে।
মূলের গুরুত্ব:
১. মূল উদ্ভিদটিকে মাটির সাথে শক্তভাবে আটকে রাখে ফলে ঝড় বাতাসে সহজে হেলে পড়ে না।
২. মূল মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে। মূলে মূলরোম অঞ্চল বলে একটি অংশ থাকে। এখানে অসংখ্য সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম রোম উৎপন্ন হয়, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ পানি ও খনিজ পদার্থ সংগ্রহ করে।
৩. কিছু কিছু উদ্ভিদ যেমন- মুলা, শালগম, গাজর ইত্যাদির মূল আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি।
৪. অনেক উদ্ভিদের মূল থেকে ভেষজ ঔষধ তৈরি করা হয়। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, A ও B অর্থাৎ, কাণ্ড ও মূলের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
উদ্ভিদের যে অংশ পর্ব, পর্বমধ্য ও অগ্রমুকুলবিহীন তাকে মূল বলে।
আম পাতার বৃন্তের উপরে একটি মাত্র ফলক থাকে। তাই একে সরলপত্র বলে। আম পাতার ফলকটি অখণ্ডিত। এ পাতার মধ্যশিরাকে প্রধান শিরা বলে যা থেকে শিরা, উপশিরাগুলো বের হয়ে আসে। আমপাতার কিনারা অখন্ডিত বা অসম্পূর্ণভাবে খন্ডিত থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
