মাইটোসিস বিভাজনটি দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়।
ব্যাকটেরিয়া এককোষী জীব এবং অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে বংশ বৃদ্ধি করে। এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। যা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন নামে পরিচিত। ব্যাকটেরিয়া কোষও সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। এ কারণে ব্যাকটেরিয়ার কোষ বিভাজনকে প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয়।
উদ্দীপকের ধাপটি হচ্ছে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মেটাফেজ ধাপ। এ ধাপটির পূর্ববর্তী ধাপ হচ্ছে প্রো-মেটাফেজ। নিচে প্রো-মেটাফেজ ধাপের চিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হলো-

১. এ ধাপে নিউক্লিয়ার পর্দা ও নিউক্লিওলাস প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়।
২. কোষের উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কতকগুলো তন্তুর অবির্ভাব ঘটে। এগুলো মাকুর আকৃতি ধারণ করে তাই একে স্পিন্ডল যন্ত্র বলে। স্পিন্ডল যন্ত্রের মধ্যভাগকে বিষুবীয় অঞ্চল বলে। প্রাণিকোষে সেন্ট্রিওল দুটির চারদিক থেকে বিচ্ছুরিত রশ্মির মতো অ্যাস্টার রশ্মির আবির্ভাব ঘটে এবং কোষের দুই বিপরীত মেরুতে পৌছাতে স্পিন্ডল তত্ত্ব গঠন করে। তন্তুগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে স্পিন্ডল যন্ত্র গঠন করে। এভাবে স্পিন্ডল যন্ত্র তৈরির মাধ্যমে এই ধাপের সমাপ্তি ঘটে।
উদ্দীপকের চিত্রে A হলো ক্রোমোজোম। ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়। এর কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
নিউক্লিয়াসে অবস্থিত সুতার মতো অংশটি হচ্ছে ক্রোমোজোম। এটা জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে। আর ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান হলো DNA। এটা বংশগতি ধারা পরিবহনে ক্রোমোজোমের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী। DNA অণুতে জিন থাকে। এই জিন মানুষের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বহন করে। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি প্রত্যেকটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা জিন রয়েছে। জিনকে বহন করে DNA আর DNA কে বহন করে ক্রোমোজোম। এই ক্রোমোজোম দ্বারা বাহিত হয়েই বংশপরম্পরায় বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সঞ্চালিত হয়। মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমের আদান-প্রদান হয়। ফলে বাবা-মায়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ সন্তানে দেখা দেয়। অর্থাৎ ক্রোমোজোম বংশগত ধারা অক্ষুন্ন রাখার জন্য কোষ বিভাজনের সময় জিনকে সরাসরি মাতা-পিতা থেকে বহন করে পরবর্তী বংশধরে নিয়ে যায়। এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়।
প্রতিটি জীবের দেহ কোষ দিয়ে গঠিত। এককোষী জীবগুলো কোষ বিভাজনের দ্বারা একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি কোষে বিভক্ত হয় এবং এভাবে বংশবৃদ্ধি করে। বহুকোষী জীবের দেহকোষের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়ে জীবদেহের সামগ্রিক বৃদ্ধি ঘটে। ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার পর বহুকোষী জীবের জীবন শুরু হয় একটি মাত্র কোষ থেকে। নিষিক্ত ডিম্বাণু অর্থাৎ এককোষী জাইগোট ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে সৃষ্টি করে লক্ষ লক্ষ কোষ দিয়ে গঠিত বিশাল দেহ।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করতে পারব;
•কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহের বৃদ্ধি ব্যাখ্যা করতে পারব;
• জীবের বংশগতির ধারা রক্ষায় কোষ বিভাজনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
