মানুষ তার প্রয়োজনে যেসব উদ্ভিদ চাষ করে তাদেরকে ফসল বলে।
দৈহিক বৃদ্ধি এবং জৈবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজন পুষ্টির । ফল ও শাকসবজি আমাদের দৈহিক বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে। একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ২৭৫ গ্রাম শাকসবজি ও ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া বাঞ্ছনীয়। শিশুর দেহ গঠন এবং রোগ প্রতিরোধেও ফল ও শাকসবজির ভূমিকা অপরিহার্য। ফল ও শাকসবজি খাওয়ার মাধ্যমে সবগুলো পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণ সম্ভব হয়। সুতরাং ফল ও শাকসবজি খাওয়া অপরিহার্য।
চিত্র-১ এর ফসলটি হলো গোলাপ ফুল, যা একটি ফুল জাতীয় ফসল। একে উদ্যান ফসল বলার কারণগুলো নিম্নরূপ-
১. উদ্যান ফসলের ন্যায় গোলাপ ফুলকে স্বল্প পরিসরে নিবিড়ভাবে চাষাবাদ করা হয়।
২. এটি চাষে একক জায়গায় অধিক পুঁজি ও শ্রম দরকার, হয় যা উদ্যান ফসলের বৈশিষ্ট্য।
৩. উদ্যান ফসলের একটি বৈশিষ্ট্য হলো- এটিকে মানুষের সৌন্দর্য তৃষ্ণা মেটানোর জন্য চাষ করা হয়। গোলাপ ফুল চাষের উদ্দেশ্যও একই।
৪. উদ্যান ফসলের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী গোলাপ ফুল চাষে প্রতিটি গাছের আলাদাভাবে যত্ন নেওয়া হয়, প্রতি গাছে আলাদাভাবে সেচ ও সার দেওয়া হয়।
উদ্যান ফসলের সাথে সংগতিপূর্ণ এতসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই গোলাপ ফুলকে উদ্যান ফসল বলা হয়।
চিত্র-২ এর ফসলটি হলো ধান- যা একটি দানা জাতীয় মাঠ ফসল। এর অনুরূপ অন্যান্য মাঠ ফসলগুলো হলো- ডাল ফসল, তৈল ফসল, আঁশ জাতীয় ফসল, চিনি'ফসল-এবং পশু খাদ্য ফসল। নিচে এদের গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো-
দানা, ডাল ও তৈল ফসল আমাদের খাদ্য শস্য ফসল। দানা জাতীয় ফসলের মধ্যে ধান, গম, ভুট্টা মানুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডাল জাতীয়১ফসল' আমাদের আমিষের চাহিদা মেটায়। বিভিন্ন তৈল জাতীয় ফসল থেকে আমরা ভোজ্যতেল পাই।
গম, ভুট্টা ও ডাল ফসল প্রক্ষাপাখিও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়া গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য প্যারা, গিনি, নেপিয়ার, খেসারি চাষ করা হয়ায় এগুলো সবুজ অবস্থায় খাওয়ানো হয়। এর ফলে বাণিজ্যিকভাবে পশু, পাখি ও মাছ চাষ প্রসার লাভ করেছে। আখ, সুপারবিট থেকে চিনি তৈরি করা হয়। আমাদের দেশে আখ চাষিরা চিনি কলে আখ সরবরাহ করে নগদ অর্থ পেয়ে থাকে। আঁশ ফসল থেকে সুতা, কাপড়, দড়ি, বস্তা, কার্পেট ইত্যাদি তৈরি হয়। আমাদের দেশে আঁশ ফসলের মধ্যে পাট অন্যতম। দেশ-বিদেশে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাট ও পাটজাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করে আমরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকি।
Related Question
View Allবসতবাড়ির আশপাশের উঁচু জমিতে বাগান করে যে ফুল, ফল,, শাকসবজি ইত্যাদি ফলানো হয় তাকে উদ্যান ফসল বলে।
লালশাকের বীজ অত্যন্ত ছোট বলে সঠিকভাবে বপন করা যায় না। তাই বপনের সময়ে বীজ যাতে সব জায়গায় সমভাবে পড়ে তা নিশ্চিত করার জন্য বীজের সাথে বালি বা ছাই মিশিয়ে নেওয়া হয়।
রওশন আরার টমেটো চাষের জমির পরিমাণ ৩ শতাংশ।
আমরা জানি,
১ শতাংশ জমিতে গোবর সার লাগে ৩০ – ৫০ কেজি
৩ শতাংশ জমিতে গোবর সার লাগবে (৩০-৫০) ৩
= ৯০ – ১৫০ কেজি
সুতরাং ৯০ – ১৫০ কেজি গোবর সার প্রয়োগ করেছিল।
একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ২৭৫ গ্রাম শাকসবজি খাওয়া উচিত। অথচ বেশিরভাগ মানুষই অর্থ ও সচেতনতার অভাবে এ চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। আমাদের প্রত্যেকের বাড়ির পাশে কিছু না কিছু খালি জায়গা পড়ে থাকে। আমরা যদি এ খালি জায়গায় নানা রকম শাকসবজি চাষ করি তবে খুব সহজেই আমরা আমাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারি। অথচ শুধুমাত্র উদ্যোগের অভাবে আমরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। যেমন উদ্যোগ নিয়েছেন রওশন আরা। তার শাকসবজি চাষের উদ্যোগটি তার পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণে যথেষ্ট হবে। অধিকন্তু অতিরিক্ত সবজি বিক্রি করে সে টাকা দিয়ে তিনি নানা রকম ফল ক্রয় করতে পারেন। যা তার পরিবারের সদস্যদের দৈনিক ফলের চাহিদাও পূরণ করবে।
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে পারিবারিক খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে রওশন আরার উদ্যোগটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যে সকল মাছের পোনা সহজলভ্য, তাড়াতাড়ি বাড়ে, পুষ্টিমান ভালো ও খেতে সুস্বাদু সেসব মাছকেই চাষযোগ্য মাছ বলে ।
বাজারে মাছের চাহিদা প্রচুর। তাই যে কেউ মাছ চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। একই সাথে দেশীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
